রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

0
70

195327hasian_vashonপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মে দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে একথা বলেন। আগামীকাল মহান মে দিবস। শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের এ দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা আত্মাহুতি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার। পশখ হাসিনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা এবং তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি শিকাগো শহরে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বঞ্চিত, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত, একদিকে শোষক, আরেকদিকে শোষিত- আমি শোষিতের পক্ষে’। তিনি পরিত্যক্ত কল-কারখানা জাতীয়করণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি-জামাত জোট আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাসমূহ চালু করেছি। পোশাক শিল্পসহ ৩৮টি শিল্পখাতের শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরি ঘোষণা করেছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ যুগোপযোগী ও আধুনিক করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কার্যক্রম আরো সুদৃঢ় হয়েছে। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধনী) আইন, ২০১৩ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বিধি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা এবং গৃহকর্মীদের জন্য সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। শিল্প কারখানায় বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে সার্বিক নিরাপত্তা সন্তোষজনক রাখার লক্ষ্যে মানসম্মত ও যথাযথ পরিদর্শন ও মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছি। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৭৪৬টি গার্মেন্টস পরিদর্শন সমাপ্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পখাতের উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত এবং জনবল তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনবল বৃদ্ধি এবং শ্রম পরিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এসকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল শ্রমজীবী সমাজ পেতে শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিক এবং মালিকরা পরস্পর সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে কলকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরো নিবেদিত হবেন। তারা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতির পিতার স¦প্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। প্রধানমন্ত্রী মে দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here