জার্মানিতে গেলে যে স্থানগুলো ঘুরতে পারেন

0
690

283d5f8a648e979e40ae20e9db725f92 (1)ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি পর্যটকদের কাছে কিছুটা অপরিচিতই রয়ে গেছে। তবে দুই জার্মানির মিলনের পর থেকে ভ্রমণের স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে উঠেছে। জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হচ্ছে বার্লিন যা ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজধানী। জার্মানির অন্যান্য শহরগুলোরও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। কিন্তু জার্মানির পর্যটক আকর্ষণের স্থানগুলো শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। এই দেশটির প্রতিটি অংশেই চিত্তাকর্ষক অনেক জিনিস খুঁজে পাওয়া যায়। জার্মানির এমনই কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থান হল :

১। নিউসচোয়ানস্টেইন

এটি সেই রূপকথার দুর্গ যা একটি রুক্ষ পাহাড়ের উপর অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্ব বাভারিয়ায় ফুঁসেন এর কাছাকাছি অবস্থিত নিউসচোয়ানস্টেইন দুর্গটি। এই দুর্গের  অনুপ্রেরণাতেই ডিজনিল্যান্ডের স্লিপিং বিউটি ক্যাসেল নির্মাণ করা হয়েছে। বাভারিয়ায় রাজা দ্বিতীয় লুডভিগ এই দুর্গটি নির্মাণের অনুমোদন দেন এবং তাকে উন্মাদ ঘোষণা করা হয়। ১৮৮৬ সালে যখন প্রাসাদের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসে তার কয়েকদিন পরেই রাজাকে মৃত পাওয়া যায়। এটি জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণের স্থান এবং ছবি তোলার আদর্শ স্থান।

২। বার্ডেনবারগ গেইট

এটি বার্লিনের টিকে যাওয়া একমাত্র গেইট যা পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনর পুনর্মিলনের প্রতীক। এটি নির্মাণ করা হয় ১৮০০শতকে। বার্ডেনবারগ গেইট এক সময় প্রুশিয়ান সম্রাটের প্রাসাদের প্রবেশপথ ছিল যা খুবই প্রশস্ত এবং এই পথের দুই ধারে সারি সারি বাতাবি লেবুর গাছ আছে। এটি ইউরোপের অত্যন্ত বিখ্যাত একটি স্থান।

৩। হাইডেলবার্গ ওল্ড সিটি

নেকার নদীর উপত্যকায় হাইডেলবার্গ ওল্ড সিটি অবস্থিত। জার্মানির জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর অন্যতম এই হাইডেলবার্গ ওল্ড সিটি। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় এই প্রাচীন শহরটি পুরোপুরি পৃথক হয়ে যায় বম্বিং এর সময় যখন জার্মানির বেশিরভাগ বড় শহরগুলোই ধ্বংস হয়। ফলে হাইডেলবার্গ তার ছবির মত বাড়ি, সংকীর্ণ রাস্তা ও হাইডেলবার্গ প্রাসাদ নিয়ে টিকে থাকতে সমর্থ হয়।

৪। হোলস্টেন্টর

এট লুবেক শহরের দুটি গেইটের মধ্যে একটি। ১৪৬৪ সালে এই গেইটটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি একটি যাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই গেইটের উপরে দুটি বৃত্তাকার টাওয়ার আছে এবং ধনুকাকার প্রবেশদ্বারের জন্য এটি লুবেক শহরের প্রতীক। এছাড়াও এখানে ওল্ড সিটি সেন্টার (অল্টস্টেড) থাকায় এটি একটি পর্যটন আকর্ষণ  স্থান হিসেবে পরিচিত।

৫। ফ্রাউনকিরচ

চার্চ অফ আওয়ার লেডি নামে খ্যাত এই গির্জাটি একটি লেুথেরান গির্জা যা ড্রেসডেন  এ অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

১৭২০ সালের মূল নকশা অনুযায়ী এই গির্জাটির পুনর্নির্মাণ করা হয়, ২০০৫ সালে এটি পুনরায় খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকেই এটি ড্রেসডেন এর সবচেয়ে পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।

তাছাড়াও রুগেন ক্লিফ, রোমান্টিক রাইন নদী, ঐতিহাসিক শহর লিন্ডাও, মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হওয়া অক্টোবর ফেস্ট, কলগ্নি ক্যাথেড্রাল, ইউরোপা পার্ক ইন রাস্ট ইত্যাদি স্থানগুলো আপনার জার্মানি ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here