জেনে নিন ইউরোপের মনোমুগ্ধকর শহরগুলোর কথা

0
60

portugal-marvao-charming-townsইউরোপের নরওয়েজিয়ান এফজোরডস থেকে ইতালির সারডিনিয়া দ্বীপ পর্যন্ত এমন অনেক মনোমুগ্ধকর শহর আছে যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এই শহরগুলোর আছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এই শহরগুলোর কথা আপনি হয়তো শুনেছেন। আবার কিছু শহর আছে যাদের কথা আপনি জানেন না এবং এগুলো বিদেশী পর্যটকেরা আবিস্কার করেছেন। ইউরোপের মনোমুগ্ধকর কিছু শহরের কথা জেনে নিই চলুন।

১। এস্লিঞ্জেন

দক্ষিণ-পূর্ব জার্মানির কাঠ দ্বারা নির্মিত শহরগুলোর একটি এস্লিঞ্জেন শহর। এটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে কারণ নেকার নদীর উপরে ২টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিলো। যার কারণে মধ্যযুগীয় ব্যবসায়ীদের মিলনস্থলে পরিণত হয় শহরটি। এস্লিঞ্জেন পুরনো শহরটিতে ১৩-১৬শ শতকে নির্মিত ২০০র অধিক কাঠ নির্মিত বাড়ি আছে, সুদৃশ্য নালা ও মার্কেট আছে। এটি জার্মানির ক্রিসমাস মার্কেট। মধ্যযুগের পোশাক পরিহিত ২০০ জন ব্যবসায়ী যখন মধ্য যুগের কারুশিল্প যেমন- দস্তা, কাঁচ, উল, কাঠ অথবা চামড়ার কারুকাজের তৈজসপত্র নিয়ে একত্র হয় এবং সে সাথে থাকে চারণ কবি ও যাদুশিল্পীদের প্রদর্শনী তখন তা সত্যিকার একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। অন্য যেকোন সময়ে ঘুরতে যেতে পারেন এই শহরটিতে। এখানকার সরু রাস্তা ধরে হেঁটে বেরানো, ঐতিহাসিক গির্জা পরিদর্শন ও অনেক খাবারের দোকানে ঘুরে খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।

২। লুক্কা

মধ্যযুগীয় গির্জা, টাওয়ার ও অমূল্য শিল্প ভান্ডার ছাড়াও এই শহরটিতে অনেক মজা করার সুযোগ আছে। সান মিশেল গির্জার মার্বেল পাথরের শৈল্পিক কারুকাজ, গুই নিজি টাওয়ারে উঠে দৃশ্য দেখা। মধ্যযুগীয় দুর্গের উপরের এমন গাছের বাগান এবং  শান্তিপূর্ণ ও ছায়াময় শহর আপনি আর কোথায় পাবেন? পুরু শহরটিকে দেখে অপেরার সেট মনে হতে পারে।

৩।মারভাও

এটি পর্তুগালের পাহাড়ি শহর। এটি পর্তুগাল ও স্পেনের সীমান্তে অবস্থিত। পুরো শহরটি দেয়াল দিয়ে ঘেরা এবং একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। একটি গেইট দিয়ে এই শহরে প্রবেশ করতে হয়। সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা এই শহরটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই শহরের বাড়িগুলো সাদা, রাস্তাগুলো সংকীর্ণ এবং প্যারিশ গির্জা আছে। এই দুর্গ নির্মাণের বহু পূর্বের ইতিহাস আছে এই স্থানটির। এই উপত্যকাটির নীচেই রোমান একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ আছে।

৪। স্টেইম এম রেইন

সুইজারল্যান্ড এর স্টেইম এম রেইন শহরটির ভালোভাবে রক্ষিত কাঠের ভবন ও দেয়ালচিত্রের সমন্বয় দেখলে শহরটিকে কোন নাটকের স্টেজ মনে হবে। কিন্তু এই শহরটি বাস্তবে বর্তমান এবং এর মধ্যযুগীয় স্থাপত্যগুলোও আসল। ছবির মত সুন্দর এই শহরটির হুহেঙ্কলিঙ্গেন দুর্গটি ১২২৫ সালে নির্মাণ করা হয় যা বর্তমানে স্থানীয় ঐতিহাসিক যাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সাবেক বেনেডিক্টিয়ান মঠটিও এখন যাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে যা ১১শ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছিলো।

এছাড়াও নরওয়ের এলেসান্ড, ফ্রান্সের নাজাক, ইংল্যান্ডের উইনচেস্টার, ইতালির ভল্টেরা, ফ্রান্সের হনফ্লিউর, চেক প্রজাতন্ত্রের চেস্কি ক্রামলভ, নরওয়ের রাইন ইত্যাদি ইউরোপের মনোমুগ্ধকর কয়েকটি শহর যা ভ্রমন বিলাসী মানুষের চমৎকার গন্তব্য হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here