সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য আছে : মিশেল লুমু

0
67

085952France_1ফ্রান্স: বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক প্রচার ও যোগাযোগের অভাবে বহির্বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারছে না। যার কারণে অনেকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে না জেনে নেতিবাচক ধারণা পোষন করে। তাই প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই সরকারের উচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশস্থ ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রদূত মিশেল লুমু।

স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃ্ত্রিম বন্ধু প্রখ্যাত দার্শনিক ফ্রান্সের সাবেক কালচারাল মিনিস্টার আন্দ্র মারলোর হাতে গড়া সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশ’-এর এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে দীর্ঘ চার বছর রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা মিশেল লুমু আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে ফ্রান্সের আরো বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত ছিল। কারণ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ফ্রান্স সরকার ও ফ্রান্সের জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ফ্রান্স সরকার বার জন যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে এনেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাথে ফ্রান্স সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশ-এর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বুধবার প্যারিসে ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার অব ইকোনমি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত মিশেল লুমুর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের কোষাধক্ষ্য কাজী এনায়েত উল্লা র সঞ্চালনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ফরাসি নাগরিক ইনাল্কোর বাংলা বিভাগের প্রধান ফিলিপস বেনুয়া, ইনাল্কোর প্রফেসর জেরেমি করদো, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সহ সংগঠনের সদস্যরা।

ইনাল্কোর বাংলা বিভাগের প্রধান ফিলিপস বেনুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি সুন্দর ইতিহাস রয়েছে। ৫২ ও ৭১ সালের ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সংগঠন ইউনেস্কের কাছে দাবি তুলবে ফ্রান্সে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার স্থাপনের।’ সংগঠনের কোষাধক্ষ্য কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু সংগঠনের ৯০ ভাগ সদস্যই ফরাসি কূটনীতিক ও সুশীল সমাজের তাই এই সংগঠন বাংলাদেশের সব ভালো দিকগুলো সঠিক ভাবে ফ্রান্স সরকারের কাছে উপস্থাপন করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা পালন করবে।’

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭২ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী দার্শনিক আন্দ্রে মারলো প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশ’। ফরাসি মানবতাবাদী ও কূটনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনটি মূলত বাংলাদেশের সাথে ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন ও যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতেই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here