নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের প্রোডাক্ট ফেয়ার ও বর্ষবরণ

OEPN 3
নিউইয়র্ক: হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন নামক একটি মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে গত ৭ ও ৮ই মে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্থ পি. এস ৬৯ স্কুল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশী প্রোডাক্ট ফেয়ার ও বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রঙ-বেরঙ্গের বেলুন উড়িয়ে স্কুলের সামনে ও ফিতা কেঁটে মূল ফলকে দুইদিন ব্যাপী এই মেলার শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য শিরিন নাঈম (প্রণম)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন এর উপদেষ্টা সদস্য ড. সৈয়দ হাসান মামুন (প্রাক্তন গবেষক, অধ্যাপক, হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়), ড. নাহিদ বানু (প্রাক্তন গবেষক, অধ্যাপিকা, হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়), ড. প্রদীপ রঞ্জন কর (গবেষণা বিভাগ প্রধান, রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক), ড. শামসুল কে বাকার (ফার্মাসিষ্ট, কিং ফার্মেসী), এটিএম সালাহ্ উদ্দিন (প্রাক্তন সচিব, প্লেনিং কমিশন ও ভূমি মন্ত্রনালয়), জনাব সৈয়দ বশারত আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ, আঃ সামাদ আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ, অধ্যাপিকা মমতাজ শাহানাজ, সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামীলীগ, হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন সভাপতি মোঃ সোলায়মান আলী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তপন সেন। অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ষ্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, শরীফ কামরুল আলম হীরা, মোল্লা মাসুদ, জেবিবিএর সহ সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবকলীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারন সম্পাদক সুবল দেব নাথ, জুই ইসলাম, জাহানারা আক্তার আলী, এটিএম কামাল পাশা, স্থপতি ইকবাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, আরটির্ভির যুক্তরাষ্ট্র প্রধান জনাব দেওয়ান আশরাফুল আলম, রিনা আবেদীন, বুলবুল ইসলাম, এটিএম কামাল পাশা প্রমুখ। স্কুল ক্যাফেটেরিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য পণ্য মেলার স্টল দেখতে সংগঠনের সভাপতির নেতৃত্বে প্রধান অতিথি মাননীয় সংসদ সদস্য শিরিন নাঈম পুণম সহ সকল বিশেষ অতিথিবৃন্দ, মেলার স্টল ঘুরে দেখেন। রকমারী দেশীয় পিঠা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ফুসকাসহ রকমারী খাবারের স্টল, দেশীয় গার্মেন্টস, শিল্পজাত তৈরী পোষাক, জুয়েলারীর দোকানগুলোর স্টল ঘুরে অতিথিবর্গ প্রবাসে বসে দেশীয় মেলার স্বাদ উপভোগ করেন। এরপর ২য় তলায় মূল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করতে অডিটোরিয়ামে যান সকল প্রবাসী নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ আমেরিকান দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে পৃথিবীর সকল শহীদদের প্রতি ১ মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় খ্যাতনামা কবিওয়ালা সালেম সুলেরীর কবিতা পাঠের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অুনষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন এবং হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন কর্তৃক প্রকাশিত “কল্যাণ” নামক একটি স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
রঙবেরঙ্গের বৈশাখী পোষাক পরিহত শিল্পীদের নিয়ে মনোঞ্জ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথমেই প্রবাসের খ্যতিনামা সুরছন্দের শিল্পীবৃন্দের নাচের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনার পরপর সঙ্গীত পরিবেশন করেন মূলধারার খ্যাতিনামা শিল্পী মিস শেলী, পর্যায়ক্রমে মন মাতানো গানে গানে দর্শকদের যান্ত্রিক জীবনের গ্লানী মুছাতে শিল্পীবৃন্দ একটানা রাত ১২:৩০ মিনিট পর্যন্ত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীবৃন্দেও মনমুগ্ধকর পরিবেশনায় সকলকেই দেশের ফেলে আসা স্মৃতির মধ্যে হারিয়ে যান।, নাচের পরপরই আমাদের নতুন প্রজন্মেদের নিয়ে শুরু হয় ট্যালেন্ট শো, আমাদের কচি কাঁচা সোনামনিরা মাল্টিনেশান এই বিশ্ব সংস্কৃতির মাঝে কঠিনতম প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়ে স্পেশালাইজড হাই স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের প্রতি ব্যক্তিক্রমধর্মী পরিবেশনা সন্তানদের মাতা পিতা, শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে মডারেটর ছিলেন মামুন টিউটোরিয়ালের সত্বাধিকারী শেখ আল-মামুন ও তার প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে এক ট্যালেন্ট শো অনুষ্ঠিত হয়। এই ছাত্রছাত্রীরা মূলধারায় বড় হয়ে পরবর্তীতে বাস্তব কর্মজীবনে গিয়ে তাদের পিতামাতার দায়িত্ব, কর্তব্য, দেশীয় শিক্ষা সংস্কৃতি, সভ্যতা যেন ভুলে না যায়। পিতামাতা, দেশের প্রতি তাদের দায়-দায়িত্ব তথা ভালবাসা যেন জাগ্রত থাকে। তারই প্রয়াসে এই ট্যালেন্ট শো, ট্যালেন্ট শোর পরে তাদের হাতে যারা মামুন টিউটোরিয়াল থেকে কৃতিত্ব অর্জন করেছে তাদের হাতে দুটো বিশেষ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের হাত থেকে ১টি প্রদান করেন আয়োজক সংগঠন হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন এবং অন্যটি মামুন টিউটোরিয়ালের পক্ষ থেকে।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর ম্ুিক্তযোদ্ধাদের সম্মান প্রদান করতে প্রবাসে এই প্রথম একটি মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন “মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা” পদক প্রদান করেন প্রতীকি হিসেবে। খ্যাতনামা কয়েকজন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্দাদেরকে সম্মানিত করে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন সভাপতি মোঃ সোলায়মান আলী বলেন, একদিন একজন মুক্তিযোদ্ধাও পাওয়া যাবে না, তাই আমাদের এই সম্মাননা প্রদান। কারণ নতুন প্রজন্মকে বিশেষ করে যারা এখানে জন্ম নিচ্ছে তারা একদিন কল্পনাও করতে পারবে না মুক্তিযুদ্ধ কী? কারা কিভাবে জীবন বাজি রেখে এই যুদ্ধ করেছে, তাঁরা কারা? তাই আমরা চেষ্টা করছি যারা বেঁচে আছেন সামাজিক ভাবে তাদেরকে সম্মান জানাতে। শ্রদ্ধা জানাতে, তাদেরকে স্মরণীয় বরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমরা সম্মান না দিলেও তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তবুও এই সম্মাননা পদকটি ঘরে রাখলে নতুন প্রজন্মের জিজ্ঞাসা আসতে পারে কী এটি, কেন দাদু তুমি???? এভাবে শিশুটি জানবে দাদুর থেকে মুক্তিযুদ্ধ।
তারপর বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি ও রেডিওর বিশিষ্ট লোক সঙ্গীত শিল্পী বীনা মজুমদার, শাহ মাহবুব, কৃষ্ণা তিথি খান, সুমাইয়া ইসলাম অন্তু, ডাঃ শাহানাজ আলম, বাবলী হক, গাজী এস, এ জুয়েল, সুলতান মাহমুদ, শাহনাজ বেগম, বীনা বর্মন, সৌরভ, হারুন খান, রীনা চৌধুরী ও মূল ধারার আমেরিকান বংশোদ্ধুত শিল্পী শেলী ওয়েভ সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের ২য় দিনে ৮ই মে রবিবার শুরুতে বিশ্ব মা দিবস উদযাপন করা হয়। বিশ্ব সভ্যতার ক্রম বিকাশে মা অতুলনীয় শব্দটির প্রতি, সকল মায়েদের ত্যাগের ও ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানের প্রথমেই তাদেরকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানানো হয়। ১টি করে লাল গোলাপ দিয়ে ১৬২জন মাকে সম্মানিত করা হয়। কোন মা তার স্বামীর হাত থেকে ফুল নেন, কোন মা তার সন্তানের হাত থেকে ফুল নেন। কেউবা ফুল দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেন। এই যেন মায়া মমতার ছড়াছড়ি।
নিউইয়র্কস্থ কনসাল জেনারেল জনাব শামীম আহসান ২য় দিনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মানবাধিকার উন্নয়ন মূলক সংস্থা “হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশন” এর প্রশংসা করেন ও সকল মাকে (এরপর ২৯ পাতায়)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here