গৃহকর্মী নির্যাতন মামলা,বাংলাদেশি কূটনীতিককে সস্ত্রীক আটকের নির্দেশ নিউ ইয়র্ক আদালতের

0
234

025026Pic-37নিউ ইয়র্ক: গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় সময়মতো হাজিরা না দেওয়ায় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের সাবেক কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামকে সস্ত্রীক আটক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক সিডনি স্টেইন এ আদেশ দেন।

মামলা দায়েরের আগেই মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান মনিরুল ইসলাম। তিনি এখন ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। কূটনীতিক মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা প্রভার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন তাঁদের সাবেক গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ রানা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীপক্ষ তাঁকে পারিশ্রমিক ছাড়াই দাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করত। ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক সিডনি স্টেইন বলেন, আদালত খুব সহজে ডিফল্ট জাজমেন্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় না। আদালত ১৫ মাস অপেক্ষা করেছেন; অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা বিচারকাজে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আদালত বাধ্য হয়ে ডিফল্ট জাজমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাসুদ পারভেজ রানা অভিযোগে বলেন, তাঁকে মাসে তিন হাজার ডলার পারিশ্রমিক এবং ভিসা নবায়নের কথা বলে গৃহস্থালি কাজের জন্য নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসেন মনিরুল ইসলাম ও প্রভা। এক বছরের বেশি সময় ধরে দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করানো হয় তাঁকে দিয়ে। কিন্তু পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি তাঁকে; বরং পালানোর চেষ্টা করলে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। মনিরুল ইসলামকে সস্ত্রীক আটক করার আদেশের বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিশিয়ালি কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

তবে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি খবর থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বিবাদীর বক্তব্য : গত বছর মরক্কোতে অবস্থানকালে মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করতে এ মামলা করা হয়েছে। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে রানার সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

তিনি রানাকে বলেন, ইচ্ছা করলে তিনি তাঁর সঙ্গে মরক্কো যেতে পারেন; না হলে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। এ কথা শুনে রানা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোথাও যাবেন না। কূটনীতিক জানান, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে রানাকে তিনি ঢাকা থেকে সঙ্গে করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যান। তবে তাঁর ভিসার আবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেননি। প্রতি মাসে তাঁকে তিন হাজার ডলার ভাতা দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও সত্য নয়। মনিরুল ইসলাম বলেন, রানার বাবা ঢাকার কচুক্ষেতের ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন ছেলের বেতন থেকে সমন্বয় করে নেওয়ার শর্তে তাঁর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন।

এ ব্যাপারে লিখিত দলিল রয়েছে। সুতরাং রানাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি, এ অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়। তিনি জানান, একদিন তাঁর পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে বাসা থেকে চলে যান রানা। রাত ১১টায় বাসায় ফিরে তাঁরা দেখেন রানা নেই। সম্ভাব্য সব জায়গায় যোগাযোগ করেও তাঁর হদিস পাননি তাঁরা। তখন তাঁদের ধারণা হয়, রানা হয়তো কোথাও আশ্রয় পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সে (রানা) যদি আইন লঙ্ঘন করে নিজ দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চায়, তাহলে আমি বা আমরা থামাব কিভাবে?’ রানার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসকে টেলিফোন করে জানান মনিরুল ইসলাম। তবে পুলিশে অভিযোগ করেননি তিনি। তাঁর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে রানার মামলা করার খবর গণমাধ্যমে প্রথম দেখেন তিনি। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হয়; কিন্তু রানাকে পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here