যুক্তরাষ্ট্র আ‘লীগের ওয়াক ওভারে উজ্জীবিত জামাতিরা

**সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রচার রুখতে মিশন-দূতাবাস ও কন্স্যুলেট নিধিরাম সর্দার**
।। মাহফুজুর রহমান ।।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কুখ্যাত বদর বাহিনী প্রধান যুদ্ধাপরাধী

মাহফুজুর রহমান, প্রধান সম্পাদক সাপ্তাহিক বর্ণমালা, নিউইয়র্ক
মাহফুজুর রহমান, প্রধান সম্পাদক
সাপ্তাহিক বর্ণমালা, নিউইয়র্ক

নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের আগে ও পরে নিউইয়র্ক সহ আমেরিকায় নানা ছদ্মনামে গড়ে উঠা যুদ্ধাপরাধী জামাতের সমর্থক সংগঠনগুলো সোচ্চার থাকলেও এর বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমর্থনে তেমন কোন শক্ত কর্মসূচী দেখা যায়নি। এর কারন হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাধারন প্রবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অকর্মণ্য নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। একই সাথে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন, ওয়াশিংটন দূতাবাস, নিউইয়র্ক ও লস এঞ্জেলেস কনস্যুলটের অরাজনৈতিক-অতি (!) পেশাদার আমলাদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘ প্রেস সেন্টার ও নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উপস্থি থেকে ঢাকা থেকে বিশেষ মিশনে আসা জামাত-বিএনপিপন্থী  মিডিয়াকর্মীরা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটনা এবং অতিরজ্ঞিত সংবাদ সৃষ্টি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন দূতাবাসের ও নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে রাজনৈতিক নিয়োগ প্রাপ্ত দু‘য়েকজন কর্মকর্তাকে বিচলিত হতে দেখা গেলেও তাদের পক্ষে পরিস্থিতি পরিবর্তন করার কোন ক্ষতা নেই। আর তাই তারা অসহায়ের মত হাত পা নাড়া চড়া করা ছাড়া কিছুই করতে পারছেন না।
হাইকোর্টে যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসির রায়ের রিভিউতে ‘ফাঁসি বহাল’ রাখার পর নিউইয়র্কে জামাতপন্থী নানা নামের সংগঠনগুলো দিনরাত নানা কর্মসূচী পালন করেছে। নিউইয়র্ক থেকে জামাতী ফেইসবুক পেইজ ‘বাশেঁর কেল্লা ইউএসএ’ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপ্রচার শুধু না, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে নানা অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও কুৎসা রটনা করে যাচ্ছে বা*শের কল্লো ইউএসএ পেইজটি। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত দু‘একটি বিএনপিপন্থী স্যাটেলাইট চ্যানেল নিয়মিত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচীর সচিত্র প্রতিবেদন ফলাও করে প্রচার করে তাদেরকে উৎসাহিত করেছে।
এছাড়া নিউইয়র্কে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) ও জামাতী বুদ্ধিজীবীরা তুরস্ক ও পাকিস্তানী দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপ্রচার করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় জাতিসংঘ মিডিয়া সেন্টার ও নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে নিজেদের বেতনভোগী লোক নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারকে বিব্রত করার মত প্রশ্ন করানো হচ্ছে এবং তা থেকে সরকার ও দেশবিরোধী সংবাদ তৈরী করে তাদেরই সৃষ্ট কিছু অন লাইন মিডিয়া নিমিষেই তা প্রচার করছে, তারপরই তা বাংলাদেশে জামাত-যুদ্ধপরাধী সমর্থক মিডিয়াগুলো লুফে নিয়ে প্রচার করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, নিউইয়র্ক স্টেট কমিটি ও নিউইয়র্ক সিটি কমিটির কার্যকরী কমিটির অবস্থান নিউইয়র্কে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামাতী প্রচারণার তাদেরকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন প্লাট ফর্মগুলোও যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। এসব দেখে দুর্মূখেরা বলছেন যে দেশে আওয়ামী লীগ সরকার জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের এক ইঞ্চি ছাড় না দিলেও আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ‘ জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের’ ওয়াক ওভার দিচ্ছে। এই ওয়াক ওভারের কারন হিসাবে দলীয় সাংগঠনিক দূর্বলতা এবং অন্তর্কলহকে দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপেরই বড় বড় পদবীধারীরা দেশে বড় বড় ব্যবসা বাগিয়ে নিয়ে তার লালন পালন করতে বছরের অধিকাংশ সময়ে দেশে অবস্থান করায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এখন কার্যত ‘ভারপ্রাপ্ত লীগে’ পরিণত হয়েছে। সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মাসের পর মাস ঢাকায় অবস্থান করেন বলে সহ সভাপতিরা মিউজিক্যাল চেয়ারের মত ঘুরে ফিরে ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আর এই ভারপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই চরম বিতর্কিত বলে তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে আয়োজিত কর্মসূচীগুলিতে নেতা-কর্মীরা তেমন যোগ দেন না।
অন্যদিকে সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ তার পুত্রের অপকর্মের শাস্তি মাথায় নিয়ে বহিষ্কৃত হবার পর সহ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া সামাদ আজাদকে দলের মধ্যে অনেকেই পছন্দ করেন না, ফলে সাধারন সম্পাদক ডাকা কর্মসূচীগুলি সফল হতে বাধা দেন তার বিরোধীরা।
তবে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে ডজনখানেক মধ্যসারির সহ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের নেতাকে শৃ্খংলাভঙ্গের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভিভাবক সজীব ওয়াজেদ জয় কর্তৃক ইমেইল বার্তায় বহিষ্কারের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কার্যত বিভক্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গা শক্তি নিয়ে মাঝে মাঝে দুয়েকটি সফল অনুষ্ঠান আয়োজন করলেও তাৎক্ষণিক কর্মসূচীগুলো সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। আর তাই জামাত-যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসির পর জামাত সমর্থিত সংগঠনগুলো যখন সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় প্রতিবাদ সমাবেশ ও অপ্রচার চালাচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ প্রেস রিলিজ দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আবার সঠিকভাবে প্রেস রিলিজ লিখে সংবাদপত্রে পাঠানোর মত দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির অভাবে আনাড়ি হাতে লেখা সেসব প্রেস রিলিজ থাকে অশুদ্ধ বাক্য ও শব্দে ভরা।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েও সেসব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে ‘ভারপ্রাপ্তেÍ ভারাকান্ত’ কমিটি। আর তাই দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি আড়ম্বরে পালনে ঘোষনা দিয়েও শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আসবেন না অজুহাতে তা বাতিল করা হয়।
দলীয়ভাবে জামাত-যুদ্ধাপরাধীদের যখন মোকাবেলা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তখন অন্যদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘ প্রেস সেন্টার ও নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে প্রতিপক্ষের মিডিয়াকর্মীরা শেখ হাসিনা সরকারকে নাজেহাল করেই যাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন, ওয়াশিংটন দূতাবাস ও নিউইয়র্ক কনস্যুলটের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন এসবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা এখন ভরসা করছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী সাংবাদিকরা যদি নিজ দায়িত্বে এসব স্থানে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলেন তাহলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
এদিকে দূতাবাস ও কন্স্যুলেট সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক মহল অভিযোগ করছেন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে নিউইযর্ক কন্স্যুলেটের সহায়তায় সরকারী বার্তা সংস্থা বাসস-নিউইয়র্কে একজন রিপোর্টারকে নিয়োগ দিয়ে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে যেকোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ তৈরী করে সরকারের পক্ষে সাফাই গাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলো এবং সেই রিপোর্টার জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থেকে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতেন।
এছাড়া বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে নিউইয়র্কের কট্টর বিএনপি-জামাত সমর্থক সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে সোনালী এক্সচেঞ্চ ও বাংলাদেশ বিমানের মাধ্যমে বিপুল পরিমান আর্থিক সুবিধা দেয়া হতো। আর এখন নিউইয়র্কে শুধু সোনালী এক্সচেঞ্চ নয় সরকারের আরো দুয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ দেশের আওয়ামী ঘরানার ব্যবসায়ীদের মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান সহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী কোন পত্রিকাকে তারা বিশেষভাবে সহায়তা করাতো দূরের কথা নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিতেও কার্পণ্য করেন। সোনালী এক্সচেঞ্চ পরিচালনা বোর্ড বিশেষ নিরপেক্ষতা (!) দেখিয়ে এক পাল্লায় মেপে বিএনপি-জামাতী মিডিাকেও বিজ্ঞাপন দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অথচ কানাঘুষায় শোনা যায় যায় এসব সরকারী প্রতিষ্টান আওয়ামী ব্যবসায়ীদের মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিউইয়র্ক অফিসের বিএনপি-জামাত ঘরানার কর্মচারীরা আওয়ামী বিরোধী-বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটুক্তিকারী প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত নানা সংগঠনকে বিপুল পরিমান আর্থিক অনুদান বা স্পন্সরশীপ দিয়ে থাকেন।
– মাহফুজুর রহমান, প্রধান সম্পাদক
সাপ্তাহিক বর্ণমালা, নিউইয়র্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here