মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও সৃষ্টি (পর্ব-১)

0
185

sonet.mojid_বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এ বছরের ১লা আগস্ট সনেটের দেড়শ’ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন করেছে। তারই অংশ হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও কর্ম নিয়ে থাকছে প্রাথমিক আলোচনা। লিখেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মজিদ মাহমুদ। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

জন্ম ও শৈশব

মধুসূদন ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত সেকালের রীতি অনুযায়ী ফারসি ভাষায় বিশেষ দক্ষতা লাভ করেছিলেন। কলকাতা সদর দেওয়ানি আদালতের ব্যবহারজীবীরূপে তিনি প্রভূত প্রতিষ্ঠা ও অর্থ উপার্জন করেছিলেন। খিদিরপুরের বড় রাস্তার উপরে একটি দোতলা বাড়ি কিনে যখন তিনি কলকাতায় পরিবারবর্গ নিয়ে এলেন, কবির বয়স তখন সাত বৎসর।
গ্রামে মাতা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে তাঁর শৈশবশিক্ষা শুরু হয়েছিল। রামায়ণ-মহাভারতের প্রতি আকর্ষণের বীজ সম্ভবত এই সূত্রেই তাঁর মনের কোণে উপ্ত হয়। তিনি ফারসি ভাষায়ও কতকটা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

হিন্দু কলেজে। কলকাতায় এসে কবি হিন্দু কলেজে ভর্তি হলেন। ইংরেজি তথা য়ুরোপীয় সাহিত্যরস ও বিচিত্র মানববিদ্যা যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নব্য বাংলার অন্তরে প্রবেশ করেছিল, হিন্দু কলেজের স্থান তাদের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নূতন মানবমন্ত্রে বিশ্বাস, পাশ্চাত্য জীবনতন্ত্রে আসক্তি, গভীর ইংরেজি সাহিত্যপ্রীতি, দেশীয় আচার ও ভাবনার প্রতি অশ্রদ্ধা- সব বিষয়ে বিদ্রোহী মনোভাব হিন্দু কলেজের শিক্ষার সাধারণ ফল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মধুসূদনের ব্যক্তিচরিত্র এবং শিল্পীপ্রাণের গঠনে হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের পর্ব অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করেছিল।
হিন্দু কলেজে ছাত্র হিসেবে কলকাতার সর্বোৎকৃষ্ট স্তরটি এসে সমবেত হত। তাদের মধ্যেও মধুসূদনের ঔজ্জ্বল্য সকলের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল। পোশাক-পরিচ্ছদ-বিলাস-ব্যসনে, বাকপটুতায়, বুদ্ধির দীপ্তিতে তিনি বন্ধুদের কেন্দ্রে আসন পেতেছিলেন। এবং ভূদের মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক, ভোলানাথ চন্দ্র, বঙ্কুবিহারী দত্তের ন্যায় ব্যক্তিরা (পরবর্তী জীবনে এঁরা সবাই অল্পাধিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন) ছিলেন কবির সহপাঠী। কখনো ফারসি গজল গান গেয়ে, কোনোদিন সাহেব-নাপিতের দোকানে চুল কাটিয়ে, কখনো মুহুর্মুহু শেক্সপিয়র-বায়রন আবৃত্তি করে তিনি বন্ধুদের চমকে দিতেন। আবার এর সঙ্গে ছিল কোনো কোনো শিক্ষকের প্রতি সরব অশ্রদ্ধা, মদ্যপান, অমিতব্যয়িতা, পিতার সঙ্গে একই আলবোলায় ধূমপান এমনই আরও বিচিত্র সব আচরণ।
কলেজের পরীক্ষায় তিনি বৃত্তি পেতেন। ইংরেজিতে কবিতা লিখতেন, ছাপার হরফে তা প্রকাশিত হতো। বিখ্যাত বিলিতি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য কবিতা পাঠাতে তাঁর কুন্ঠা ছিল না। ওয়ার্ডসওয়ার্থকে কবিতা উৎসর্গ করতেও। আবার এরই মধ্যে নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে পেলেন প্রথম পুরস্কার, একটি স্বর্ণপদক। একদিন হঠাৎ ধুতি ছেড়ে আচকান-পায়জামা ধরলেন, তারপরে সোজা সাহেবি প্যান্ট-কোট। এক কথায় সকলের কাছে মধু একটি বিস্ময়, একটি প্রতিভা। প্রথম তারুণ্যের কবিতাগুলি নিয়ে তাঁর গর্বের অন্ত ছিল না, ভবিষ্যতে তিনি বিখ্যাত কবি হবেন, গৌরদাস তাঁর জীবনী রচনা করবেন এরূপ আশা বহু চিঠিতেই তিনি ব্যক্ত করেছেন। এবং বিলেত গেলেই বড় কবি হতে আর কোনো বাধাই থাকবে না, এরূপ একটি অদ্ভুত ধারণা কোনো অজ্ঞাত কারণে তাঁর মনে দানা বেঁধেছিল।

ইংল্যান্ডে যাওয়া মধুসূদনের তরুণচিত্তে কতবড় প্রবল ভাবাবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ওই সময়ে লেখা একাধিক কবিতা ও চিঠিতে তার প্রমাণ আছে। অবশেষে ১৮৪২ সালে, যখন তিনি সিনিয়র ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র, তাঁর জীবনে এল এক গুরুতর পরিবর্তন।

খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ। মধুসূদন হঠাৎ একদিন নিরুদ্দেশ হলেন। শোনা গেল তিনি খ্রিস্টান হবেন। প্রতিষ্ঠাবান ব্যক্তি রাজনারায়ণ লাঠিয়াল সংগ্রহ করে পুত্রকে ধর্মান্তর-গ্রহণে বাধা দেবেন এই অজুহাতে মধুসূদনকে ফোর্ট উইলিয়ামের মধ্যে আশ্রয় দেওয়া হলো। ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মিশন রোড-এ ওল্ড মিশন চার্চে আর্চডিকন ডিয়াল্ট্রি তাঁকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করলেন। মধুসূদন নিজের লেখা Hymn গান করলেন “Long sunk in superstition’s night…”। তাঁর নূতন পরিচয় হল মাইকেল।
মধুসূদন হঠাৎ কেন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেন তা একটি গুরুতর সমস্যার ব্যাপার। খ্রিস্টধর্মের প্রতি আকর্ষণ বশে যে করেননি তা নিশ্চিত। উল্লিখিত Hymn-টি সাক্ষ্য হিসেবে মূল্যহীন। বরং যার কাছে তিনি ধর্মান্তরের বাসনা প্রথম প্রকাশ করেছিলেন সেই রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু মূল্য আছে।
মধুসূদনের ইংল্যান্ড গমনের বাসনা কী পরিমাণ প্রবল ও প্রগলভ হয়ে উঠেছিল তার পরিচয় আগেই পেয়েছি। বিশেষ করে নব্যতন্ত্রের প্রতি গভীর অনুরাগ হিন্দুধর্মসংক্রান্ত কোনো সংস্কারকেই তাঁর মনের মধ্যে দৃঢ় হয়ে উঠতে দেয়নি।
আরও একটি গুরুতর কারণ ছিল। কবির খ্রিস্টান হবার কিছুদিন আগে একটি গ্রাম্য বালিকার সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা উঠেছিল। কবির তা মোটেই পছন্দ ছিল না। তা থেকে উদ্ধারের একটি সহজ উপায় খুঁজে পেলেন ধর্মান্তর গ্রহণের মধ্যে।
তা ছাড়া রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেবকী নাম্নী রূপবতী বিদুষী দ্বিতীয়া কন্যার সঙ্গে মধুসূদনের প্রেম-সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল এমন সংবাদ পাওয়া যায়। গৌরদাস বসাক তাঁর স্মৃতিকথায় খুব স্পষ্ট করে না লিখলেও এ বিষয়ে কিছু ইঙ্গিত করেছেন। মধুসূদনের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহনের প্ররোচনাকে দায়ি করেছেন। নিজের পছন্দমতো শিক্ষিতা তরুণীর পাণিগ্রহণের বাসনা কবির ছিল।

বিশপ্স কলেজে। খ্রিস্টান ছাত্রদের হিন্দু কলেজে পড়বার অধিকার ছিল না। মধুসূদনকে হিন্দু কলেজ ছাড়তে হল। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের প্রায় দুই বছর পরে তিনি শিবপুরে বিশপ্স কলেজে ভর্তি হলেন। ধর্মান্তরিত পুত্রের পড়ার খরচ দিতেন রাজানারায়ণ। বন্ধুদের সঙ্গে তখনও কবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, সমকালে লেখা চিঠিগুলি পড়ে তা জানা যায়। বিশপ্স কলেজের সাধারণ বিভাগের ছাত্র হিসেবে তিনি গ্রিক, লাতিন এবং হিব্রু ভাষা শেখার সুযোগ পেলেন এখানে।
ইংল্যান্ড থেকে আগত বহুভাষাবিদ বিশপ পণ্ডিতদের কাছ থেকে প্রাচীন ভাষা শিক্ষা মধুসূদনের জীবনের উপরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। মধুসূদন ভবিষ্যতে বহুভাষাবিদ রূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন। তার বীজবপন হল বিশপ্স কলেজে। তার চেয়েও বড় কথা- ক্রমে মধুসূদনের মনের গভীরে যে ক্লাসিক রুচি, জীবনদৃষ্টি ও শিল্পচেতনা গড়ে উঠেছিল তার ভিত্তি স্থাপিত হল এই ভাষাশিক্ষায়। অবশ্য কবি সে সম্বন্ধে সচেতন হয়েছিলেন অনেক পরবর্তী কালে।

বিশপ্স কলেজে য়ুরোপীয় ছাত্রদের সঙ্গে ভারতীয় ছাত্রদের সহবাসের ফলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো। কর্তৃপক্ষের অগণতান্ত্রিক আচরণ মধুসূদনকে বিক্ষুব্ধ করে তুলল। খাবার টেবিলে গ্লাস ভেঙে ফেলে আহার্যবিষয়ে বৈষম্য এবং নানারঙের পোশাক পরে পরিচ্ছদসংক্রান্ত বিধিনিষেধের তীব্র প্রতিবাদ করে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধানের বৈষম্য দূর করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কয়েক বছর বিশপ্স কলেজে কাটিয়ে ১৮৪৮-এর গোড়ার দিকে তিনি হঠাৎ মাদ্রাজ চলে গেলেন। কাউকে কোনো খবর দিলেন না।
অকস্মাৎ কবির এই মাদ্রাজ যাবার কারণ ঠিক করে বলা কঠিন। তবে কয়েকটি ঘটনার কথা এ প্রসঙ্গে মনে আসে।
রাজনারায়ণ দত্ত তাঁর পড়ার খরচ হঠাৎ বন্ধ করে দিলেন। পিতার বিরক্তির কারণ জানা যায়নি। কিন্তু এর ফলে বিশপ্স কলেজ থেকে তাঁকে চলে যাবার ব্যবস্থা করতে হল। তিনি একটি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরির চেষ্টা করলেন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হল। ইংল্যান্ডে যাবার সম্ভাবনা আগেই বিনষ্ট হয়েছিল। মধু পিতার বিরাগভাজন হওয়ায় পরিচিত সকলে ভয় পেলেন, রাজনারায়ণ পুত্রকে উত্তরাধিকারচ্যুত করবেন। মধুসূদনের মতো লোকের পক্ষে সবদিকের এই পরাজয়ের লজ্জা বহন করে কলকাতায় পরিচিত সমাজে বাস করা সম্ভব হলো না। তিনি স্বেচ্ছা-নির্বাসন বরণ করলেন মাদ্রাজে।

মাদ্রাজে। ১৮৪৮ সালের প্রারম্ভে সহায়সম্বলহীন মধুসূদন সম্পূর্ণ অপরিচিত মাদ্রাজ নগরে উপস্থিত হলেন। তিনি দেশীয় খ্রিস্টান এবং এ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের কৃপায় প্রথমে একটি আশ্রয় এবং অবশেষে একটি চাকরি পেলেন। ‘মাদ্রাজ মেল অরফ্যান এসাইলাম’ নামক বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষকের পদ।
মধুসূদন মাদ্রাজে সাত বৎসর ছিলেন। শিক্ষক, সাংবাদিক এবং কবি হিসেবে তিনি সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। মাদ্রাজপ্রবাসে তাঁর দাম্পত্য জীবনের দিক দিয়েও গুরুতর আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল।
১৮৪৮ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন উক্ত অনাথ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ১৮৫২ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত বিদ্যালয় বিভাগের দ্বিতীয় শিক্ষকের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সেকালে এই সরকারি পদটি সম্মান ও যোগ্যতার চিহ্নবাহী ছিল। অল্পকালের মধ্যে মধুসূদন আপন পান্ডিত্যের সুনিশ্চিত পরিচয় দিয়েছিলেন মাদ্রাজের শিক্ষাবিদদের কাছে।
সাংবাদিক ও কবি হিসেবে ইংরেজি-জানা সমাজে মধুসূদনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। এক সময়ে ‘Athenaeum’-এর সম্পাদকও ছিলেন। ‘Hindu Chronicle’  নামক একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রের সম্পাদকও ছিলেন মধুসূদন।
এইসব পত্রপত্রিকায় মধুসূদনের যেসব রচনা প্রকাশিত হত তাদের ভাষায় ওজস্বিতা ও স্বাধীন তীক্ষ্ম মনোভাবের ছাপ গুণগ্রাহীদের দৃষ্টি এড়াত না। কলকাতার ‘হরকরা’ প্রভৃতি পত্রিকায় কোনো কোনো রচনা পুনমুদ্রিত হয়েছিল।
প্রবন্ধাদি ছাড়াও মধুসূদন সাময়িক পত্রের পৃষ্ঠায় নিয়মিত কবিতা লিখতে লাগলেন। বিশেষ করে ‘Madras Circulator and General Chronicle’  নামক পত্রিকায় Timothy Penpoem এই ছদ্মনামে তাঁর অনেকগুলি গীতিকবিতা, সনেট, খন্ডকাব্য প্রকাশিত হয়েছিল। Visions of the Past  এবং The Captive Ladie-এই দুটি কবিতা একসঙ্গে প্রকাশিত হল। এটিই পুস্তকাকারে কবির রচনার প্রথম প্রকাশ।
মাদ্রাজে মধুসূদন একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেটিও “The Anglo-Saxon and the Hindu” নামে গ্রন্থবদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
‘রিজিয়া’ নামে ইংরেজি অমিত্রাক্ষর ছন্দে একটি নাটকও কবি লিখেছিলেন। ‘ইউরেশিয়ান’ পত্রিকায় সেটি প্রকাশিত হয়।
‘ক্যাপটিভ লেডি’ গ্রন্থটি মাদ্রাজে প্রশংসিত হলেও কলকাতায় বিশেষ সমাদৃত হলো না।
গৌরদাসও বন্ধুকে বাংলা কাব্য রচনায় উৎসাহিত করছিলেন। কিন্তু দূর প্রবাসে কবির মনে মাতৃভাষার প্রতি সুপ্ত আকর্ষণ দানা বাঁধছিল। বেথুনের পরামর্শের পূর্বেই গৌরদাসের কাছে শ্রীরামপুর সংস্করণ কৃত্তিবাসী রামায়ণ ও কাশীদাসী মহাভারত চেয়ে পাঠিয়েছিলেন তিনি। বাংলা ভাষা ভুলতেই তো চাইতেন এক কালে; না ভোলার এই সাধনা কেন? মাদ্রাজে-গৃহে, কর্মস্থলে, সমাজে-কোথাও বাংলা কথার স্থান ছিল না। সাহিত্যপাঠ-বিশ্বের বহু শ্রেষ্ঠ ভাষার; সাহিত্যরচনা-তাও ইংরেজিতে। এ প্রায় বৈদবাণীর মতো। বিশ্বভাষার এই চর্চা কোনোদিন বাংলা সাহিত্য-সৃষ্টিতে নিয়োজিত হবে এ ধারণা তাঁর মনে কী করে এল? অজানিতভাবেই কি কবির মনের গভীরে নূতন মহাদেশ সৃজিত হচ্ছিল?
অন্তত ইংরেজি কাব্যরচনায় ও প্রকাশনায় কবির উৎসাহ অনেকটা কমে গিয়েছিল একথা বলা যায়। ‘ক্যাপটিভ লেডি’র পরে আর কোনো কাব্যগ্রন্থ মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত হয়নি-এ ঘটনা লক্ষ করবার মতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here