প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল ১ – হ্যামিলটন পুল, টেক্সাস

0
180
sn_us_tx_0122_xgaplusআপনার ভ্রমণ ডায়েরিতে হয়ত আছে পাহাড়, আছে সমুদ্র, আছে ঝর্ণা। আপনি হয়ত রোমাঞ্চকর প্যারাগ্লাইডিং বা কায়াকিং এর অভিজ্ঞতা নিয়েছেন ইতিমধ্যেই। কিন্তু রোমাঞ্চ কি শেষ তাহলে? আবারও কি যাবেন কোন পাহাড়ে? নাকি খুঁজতে চান নতুন কিছু?
আসলে পৃথিবী খুবই অদ্ভুত একটি গ্রহ। এখানে পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রের বাইরেও আছে অদ্ভুত মজার সব জায়গা যা সৃষ্টি হয়েছে প্রাকৃতিকভাবেই। হ্যামিলটন পুল তার মধ্যে একটি। এটি একটি প্রাকৃতিক স্প্রিং যা গঠিত হয়েছে চুনাপাথরের বেডরকে। এর পানির উৎস একটি আন্ডারগ্রাউন্ড নদী।
১৯৬০ সাল থেকে হ্যামিল্টন পুল একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ। অস্টিনবাসীরা এবং ভ্রমণকারীরা গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য বেছে নেয় পুলটিকে। পুলটি ২৩২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত, পানির রং অপূর্ব সবুজ। ৫০ ফুট উঁচু একটি জলপ্রপাত এসে নামে পুলের বুকে।
১। প্রচন্ড দাবদাহেও এই পুলের পানি থাকে ঠান্ডা। এমনকি ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপ চলাকালেও পুলের পানি আপনাকে দেবে শীতল আরামদায়ক পরশ।
২। পুলটি কখনোই পুরোপুরি শুকিয়ে যায় না। যে ঋতুই থাক না কেন পুলে সবসময়ই পাবেন পানির অস্তিত্ব। তবে হ্যা, গা ডুবিয়ে গোসল হয়ত করা যাবে না সবসময়, পা ডুবিয়েই ক্ষান্ত হতে হবে।
৩। হ্যামিল্টন পুল নিয়ে প্রচলিত আছে অনেক কাহিনী। একটি কাহিনীতে বলা হয়, জার্মানী থেকে আসা একটি ৮ বছর বয়সী ছেলে ১৮৮০ সালে প্রথম এই পুলটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে।
৪। সোনালী গলার ওয়ারব্লার সহ বিভিন্ন চমৎকার পাখির অভয়ারণ্য এই পুল এবং তার চারপাশের সবুজ এলাকা।
৫। ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে পরিচিত হয়ে ওঠে পুলটি। যার ফলশ্রুতিতে এখন প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটে এখানে।
৬। ট্রাভিস দেশে টেক্সাস পার্ক এবং বণ্যজীবন ডিপার্টমেন্ট হ্যামিল্টন পুলকে সবচেয়ে তাৎপর্য্যপূর্ণ প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ১৯৮০ সালে এই স্বীকৃতি পায় লেকটি।
৭। একসাথে অনেক মানুষকে যেতে দেওয়া হয় না পুলটিতে। এর সুরক্ষার স্বার্থেই তৈরী করা হয়েছে এই ব্যারিয়ার। সাঁতার কাটতে চাইলে লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে আপনাকে। সেই লাইনটি হতে পারে ১ ঘন্টা দীর্ঘ।
অস্টিনে বেড়াতে গেলে এর প্রধান আকর্ষণ হ্যামিল্টন পুলটি দেখে আসবেন অবশ্যই। পুলটির চমৎকার শীতল পানি, পানির অপার্থিব রং, ভেঙ্গে পড়া ভূমির কারণে তৈরী হওয়া গুহার মত এলাকা আর অসাধারণ সুউচ্চ জলপ্রপাত আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে প্রকৃতির অদ্ভুত এক সৃষ্টির সাথে। রোমাঞ্চপ্রেমী এবং সাঁতারুদের জন্য একটি হবে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here