জঙ্গীরা সোয়াত স্ট্রাইলে গ্রাম দখলের কার্যক্রম শুরু করেছে

।। সুব্রত বিশ্বাস।।
বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের উত্থান, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘদিন থেকে গবেষণা করে আসছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত। সম্প্রতি একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। তাতে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক উগ্র রূপ ধারণ করার অশণিসংকেতের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। এ সাম্প্রদায়িকতা ভেতরে ও বাইরে উভয় শক্তির মাধ্যমে ’অর্থনৈতিক ক্ষমতাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’কে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রয়োগ করে সুসংগঠিত জঙ্গি কার্যক্রমের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে9844-ijtemaamar-sangbad চায়। সে লক্ষ্যে মাও সেতুংয়ের মতো গ্রাম দখল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এবছর তারা ৪০০টি গ্রামে একসঙ্গে ইজ্তেমা করেছে। ২০১৭ সালের মধ্যে ২০ হাজার গ্রামে ইজতেমা করার লক্ষ্য রয়েছে। এভাবে অচিরেই দেশের গ্রাম দখল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তার এ গবেষণামূলক তথ্যের কথা ভেবে শিউরে উঠতে হয়। আশঙ্কিত হতে হয় ৩০ লাখ শহীদ আর দু’লাখ মা-বোনের উজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কথা ভেবে। এমনি আশঙ্কা নিয়ে যখন ভাবছি তখন প্রথম আলোয় জিয়াউদ্দিন চৌধুরী নামে জনৈক ভাষ্যকারের একটি লেখা পড়লাম। লেখাটি মূলত পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় জঙ্গী উত্থানের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের জঙ্গীদের অবস্থান ও উত্থান নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ। লেখাটি পড়ে ফজলুল্লাহ’র সোয়াতে গ্রাম দখলের সাথে ড. আবুল বারাকাতের বাংলাদেশে জঙ্গীদের গ্রাম দখলের পরিকল্পনার মিল হুবহু খোঁজে পাওয়া যায়। জনাব জিয়াউদ্দিন তার লেখায় এবং ড. আবুল বারাকাত তার গবেষণামূলক তথ্যে সে মিলের ইঙ্গিতটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
২০০৭ সালে মাওলানা ফজলুল্লাহ নামে এক জঙ্গী দলের নেতা পাকিস্তান সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাড়িয়ে সোয়াত এলাকার ৫৯টি গ্রাম দখল করে নেন। তখন তার সাথে চার হাজার জঙ্গী ছিল। সোয়াত উপত্যকা দখলের পর সরকারের পাশাপাশি সমান্তরাল সরকার গঠন করে সেখানে শরিয়া আইন চালু করেন। সোয়াত জঙ্গীদের দখলে চলে যাবার পর কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। অবস্থার আরো অবনতি ও বিস্তৃতির আশঙ্কায় দু’বছর পর আমেরিকার চাপে আমেরিকা ও পাকিস্তান উভয় সরকার মিলে ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ পুনঃস্থাপন করা হয়। তাও সম্ভব হয়েছে এলাকায় শরিয়া আইন বলবৎ রাখার আশ^াস দিয়ে।
মাওলানা ফজলুল্লাহর অভ্যুত্থান এবং সোয়াত দখল কোনো আকস্মিক ব্যাপার ছিল না। ফজলুল্লাহ বহু বছর আগে থেকেই সেখানে উগ্রপন্থী ধর্মীয় মতবাদ চালিয়ে আসছিলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান একটি নিরঙ্কুষ শরিয়া রাষ্ট্র হবে এবং যারা এর প্রতিরোধ করবে, তারা ইসলাম ও দেশের শত্রু হিসেবে পরিগণিত হবে। সে মোতাবেক সোয়াত দখলের পর ফজলুল্লাহ সেখানে মেয়েদের সব স্কুল বন্ধ করে দেন। ছেলেরা যাতে দাড়ি কামাতে না পারে সেজন্য চুল কাটার দোকান বন্ধের আদেশ দেন। সব সিনেমা হল ও ভিডিওর দোকান বন্ধ করে দেন। গানের যাবতীয় রেকর্ড জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই ফজলুল্লার নির্দেশেই পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদী মেয়ে মালালার ওপর গুলি চালানো হয়।
ফজুলুল্লাহ সোয়াত দখলের বহু আগে থেকে স্থানীয় রেডিও ও নিয়ন্ত্রিত মসজিদ এবং মাদ্রাসাগুলোকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে উগ্রবাদী মন্তব্য প্রচার করা হতো। সোয়াত নিয়ন্ত্রণে আসার আগে থেকেই তার দলের লোকজন এলাকার বাসিন্দাদের হুমকি দিত। সোয়াতের বাসিন্দারা ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যেত না। প্রতিবাদও করতো না। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট তখন আসিফ আলী জারদারি। জারদারি পাকিস্তানের সর্বশক্তিমান সেনাবাহিনীর সঙ্গে আপস করে সরকার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবস্থা চরমে পৌছলে আমেরিকার চাপে আমেরিকা ও পাকিস্তানের যৌথ আক্রমণে অবস্থার পরিবর্তন আনা হয়।
বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী একটি ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনৈতিক দল। হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক দল নয় বটে তবে চরম উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী। দু’টি (এরপর ২৪ পাতায়)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here