দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক কবিতা "কাছের আকাশ"

0
166

16457988aa51abf04dc42b7155d6c752-28ভূমিকা
বাংলাদেশের খুব কাছের দেশ যেগুলো, দক্ষিণ এশিয়ার এসব দেশের সীমানা ইতিহাসের পরিক্রমায় যেমন নানাভাবে পাল্টেছে, তেমনি সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনীতির ধারাও বিভক্ত হয়েছে নানা স্রোতে। তবু এই পড়শি দেশগুলোর কবিতার জগৎ যেন একই ধাতুতে গড়া। যেন ভাষার দূরত্ব ডিঙিয়ে কবিতার দর্পণে ভেসে ওঠে একই রকম মুখ। কালিদাসের মেঘদূতের মেঘ উড়ে উড়ে পার হয়ে গেছে এসব দেশেরই কোনো কোনো সীমানা। তেমনি সীমা ডিঙিয়ে বয়ে যায় অভিন্ন নদী আর আলো ছড়ায় একই সময়ের সূর্য। অন্যদিকে, বৈশ্বিক মেরুকরণ দেশগুলোকে এনে ফেলেছে পরস্পরের কাছাকাছি। তবে এসব দেশের বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা যায় না। আর এটাই স্বাভাবিক যে, কবিতার অস্থিমজ্জায়ও থাকবে তার অনিবার্য প্রভাব। হয়তো কবিতার অন্তঃপ্রকৃতির কারণেই—কবিতা শিল্পের অভিন্ন এক ভাষা বলেই তারা পরস্পরের কাছের। প্রেম-অপ্রেম, দুঃখ-বেদনা নিয়ে এখানকার মানুষজনের বাঁচার ধরন এ অঞ্চলকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র চেহারা, তৈরি হয়েছে কবিতার এক আলাদা ভূগোল। কাছের দেশ হলেও ভাষার দূরত্ব পরস্পরকে আড়াল করে রাখে। আমরা দেখতে পাই না কবিতার পড়শিরা কী লিখছেন। সাম্প্রতিক কয়েক দশকের এই কবিতাগুলো থেকে দক্ষিণ এশীয় কবিতার একটা আলাদা মানচিত্রকে হয়তো চিহ্নিত করা যায়।

ভারত
অনামিকা
দরজা
আমি ছিলাম একটি দরজা।
যত জোরে তারা ধাক্কা দেয়
তত প্রশস্ত হয়ে আমি খুলে যাই
তারা ভেতরে ঢোকে আর দেখে
মস্ত এক মহাজাগতিক নাগরদোলা
যখন ক্যাচ ক্যাচ শব্দ থামে, পাক খাওয়া শুরু হয়
যখন পাক খাওয়া থামে, সেলাই করা শুরু হয়
এটা নয়তো ওটা, সমস্ত দিন, বিরামহীন।
আর শেষে গিয়ে আমার ঝাড়ু সমস্ত কিছুকে ঝাঁট দেয়
ঝাঁট দেয় আকাশের তারাগুলিকে
পাহাড়, গাছ আর পাথরগুলিকে
সৃষ্টির সময়ের ছিটে-ছাটা সব টুকরা
কুড়িয়ে নেয় ঝুড়িতে
সেগুলোকে জড়ো করে
গহিন মনের
নিরিবিলি এক কোণে।

অনামিকাঅনামিকা
হিন্দি ভাষার কবি। জন্ম ভারতের বিহারে, ১৯৬১ সালে। তিনি সমাজকর্মী ও ঔপন্যাসিক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সত্যবতী কলেজে শিক্ষকতা করেন। বীজাক্ষর, অনুষ্টুপ, শহুরে সময় তাঁর কবিতার বই। কবিতাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন ঋতু মেনন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here