সারি সারি দোকান

0
66

shuvo ahmedআজ পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো শুভ আহমেদের গল্প ‘সারি সারি দোকান’।

একটা বিষয় আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তবে সবাই আমাকে এতো ভালোবাসে কেন আর পরে এতো ঘৃনাই বা কেন করে।
সব কিছুর জন্য পরিস্থিতি আর সময় দায়ী। তোমার প্রতিটা ঘটনা আলাদা।
ঘটনা আলাদা ঠিক আছে কিন্তু ভালোবাসা আর ঘৃনার মাত্রা কিন্তু একই ধরনের।
তবে তোমার কন্যা রাশি।
তাতো জানি না। কন্যারাশির জাতকদের কি এমন হয়।
হতে পারে।
কিছুক্ষন চুপ থেকে ভাবে মিলন। আমি কি সত্যি কন্যা রাশি। কোনদিনতো শুনি নি। তবে তো কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমার পেছনে মেয়েদের লাইন থাকার কথা ছিলো। তা তো হয়নি। একটা মেয়ের সাথেই কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। সেই মেয়েওতো তার কলেজে কিংবা ভার্সিটিতে ছিলো না। তবে কি করে কন্যা রাশি হয়। না কন্যা রাশি হতে পারে না।
কি ভাবছো বলে তিন্নি।
না ভাবছি কন্যা রাশি না হয়ে তুলা রাশি হলে ভালো হতো, বাটি চালান দিয়ে কবিরাজি করা যেত। দু’পয়সা উপার্যন করা যেত।
ফাজলামো করো আমার সাথে।
না, এই বয়সে নিজেকে কন্যা রাশির জাতক মানতে মন চায় না।
কেন, আগে মনে হলে কি হতো?
ভালোবাসার দোকান খুলে দিতাম। লাইন লেগে যেতো মেয়ে কাস্টমারের।
হুম, তাই এই কথা। তুমি যে ভাব নিয়ে থাকো। মেয়েরা সাহস পাবে না তোমার সাথে কথা বলার। সো তোমার প্রেমও হতো না।
তুমি আসলে কি করে।
আমার সাহস বেশি তাই।
মেয়েরা কেমন ছেলে পছন্দ করে?
গায়ে পড়ে কথা বলে, এই ধরনের।
ও ছেবলা টাইপের। মেয়েদের রুচি ভালো হবে না। পার্সোনালিটি সম্পন্ন ছেলেদের পছন্দ করবে কেন। তারাতো বেশি চালাক তাই ধরা খায়।
হইছেতো। এবার বাদ দাও। কাজের কথায় আসো।
কিসের কাজ। তোমার সাথে আমার আবার কিসের কাজ?
না সেই রকম কাজের কথা না। অনেকদিন পর তোমার সাথে কথা বলছি তাই বলছি।
তোমরা হাজবেন্ডের কি অবস্থা?
আছে, সে তার ব্যবসা নিয়ে।
আর তুমি?
আমি থাকি আমার ছেলেকে নিয়ে।
বোর লাগে না?
লাগে, কি করবো। এটাই হয়তো জীবন।
ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে না?
করে, তোমার যখন বিচ্ছেদ হয়েছিলো। তখন ইচ্ছে করেছিলো তোমাকে সময় দেই। তোমার সাথে পরকীয়া করি।
তবেতো ভালোই হতো। আমি তোমার ছোয়া পেলে কষ্টটা অনুভব কম করতাম। তাহলে আমার প্রতি ভালোবাসা আছে তোমার এখনো।
কি জানি, তবে তোমার বিয়ের খবর শুনে সহ্য করতে পারছিলাম না। কেমন যেন মনে হচ্ছিল পর হয়ে যাচ্ছো।
এখন ?
এখন আপন আপন মনে হচ্ছে। তাইতো তোমার কষ্ট আমার মনে হচ্ছে। পরকীয়া করতে চাচ্ছি।
তাই? প্রথম প্রেম বলে কথা।

বিরহে থাকার সময় তোমার কেমন কষ্ট হতো মিলন?
খুন্তি গরম করে আগুনে ছ্যাকা দিলে যেমন লাগে তেমন।
আমারও এমন লাগতো।
কেন?
তুমি যখন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে, আমারও এমন কষ্ট হতো আমি কিছু খেতে পারতামনা, ঘুমুতে পারতামনা। মনে হচ্ছিল মরেই যাবো।
হয়তো এটাই আমার প্রায়শ্চিত্ব।
হতে পারে। অন্যকে কষ্ট দিলে একদিন নিজেকেউ পেতে হয়।
সেও কি পাবে, এমন কষ্ট।
পাবে, হয়তো আরো বেশি পাবে।

কি ভাবছো কি করবা?
ভাবছিলাম, অনেক দূরে চলে যাবো। জঙ্গল টঙ্গলে, সাধু সাজবো।
ফলতু কথা বাদ দাও, শোন যে সমস্যা দেখে পালিয়ে বেড়ায় সে সমাধান থেকে দুড়ে সরে যায়। এটাই বাস্তবতা।
তো কি করবো?
আবার নতুন করে স্বপ্ন বুনবা।
মানে কি?
বিয়ে, নতুন বিয়ে করবে। এবার আর বাবা মায়ের কথায় বিয়ের পিড়িতে বসবানা। কারো সাথে প্রনয়ে জড়াও। তাকে তুমি বুঝ, সে তোমাকে বুঝুক। তারপর বোঝাপড়াটা ঠিকঠাক হলে নতুন জীবনের পথে হাটা শুরু করবে।
তোমাকেও তো আমি শিরায় শিরায় বুঝেছিলাম। তুমিও আমাকে পরে কি হলো।
তোমার দোষেই তো আমি সরে যেতে বাধ্য হয়েছি।
কারো একা দোষ হয়না তিন্নি। ফাও কথা বলো না। আমার কিছু সমস্যা ছিলো ঠিক আছে। পরে যখন আমি ফিরে আসতে বললাম, তখন। তখন তুমি অন্যকারো প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলে। সত্যি করে বলো সেকি তোমাকে আমারচে বেশি ভালোবাসে?
ওসব কথা বাদ দাও। তুমি যখন ফিরে আসতে বলেছিলে। তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো। আর যা হয়ে গেছে তা টেনে এনে কোন লাভও নেই।

আচ্ছা তুমি একদিন কি যেন বলেছিলে একটা মেয়ে তোমাকে ভালোবাসে নাকি তার কি কোন খবর আছে?
আছে? তার সাথে মোবাইলে প্রতিদিন কথা হয়।
তাই নাকি? তলে তলে তাইলে এগিয়ে যাচ্ছো।
কি কবরবো বলো, যন্ত্রনা ভুলে থাকার চেষ্টা করছি। জয়া বলেছে সে আমাকে জয় করবেই। ওর অবশ্য একটা কথা আমার ভালো লেগেছে, সে এন্টিবায়টিক হিসেবে কাজ করবে আমার লাইফে।
ও তাইলে ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছে।
জল না ঘোলা জল খাচ্ছি।
মানে কি?
আমার এই বিয়ের আগে মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো।
সে তখন থেকেই আমাকে ভালোবেসেছিলো।
আমি তাকে না দেখায় তাকে বাদ দিয়ে মায়ের কথায় বিয়ে করেছিলাম। তাই সে আমাকে প্রচন্ড ঘৃনা করতে শুরু করেছিলো। এখন ঘটনা ক্রমে তার সাথে আবার কথা হয়েছে। সে এখনো রাজি আমাকে বিয়ে করতে।
তোমার ঘটনা জানে?
সব জানে, সব বলা হয়েছে।
তারপরও রাজি?
হু, তোমার কি মনে হয় আমার দাম কমে গেছে? আমার দাম আরো বেড়েছে। আমার জন্য আরো কয়েক জায়গায় মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে বন্ধুরা।
তাইলেতো সোনায় সোহাগা। দেরি করো না তারাতারি কাজটা সেরে ফেলো।
দেখি কি করা যায়।
দেখা দেখির দরকার নেই। মেয়ে এবং পরিবার ভালো হলে দেরি করার দরকার নাই।

এবার ফোনটা রাখি। আমার স্বামীর বাসায় আসার সময় হয়ে গেছে। ওর জন্য খাবার রেডি করতে হবে। দুপরে বেশি সময় থাকেনা বাসায়। দোকান বেশিক্ষন বন্ধ রাখলে নাকি কাস্টমার নষ্ট হয়ে যায়। ক’দিন ধরে আমার শ্বশুর অসুস্থ ও একাই দোকান চালায়।
ওকে ভালো থেকো তিন্নি।
আর ভালো, বলেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে তিন্নি।

তৃতীয় জীবন নিয়ে ভাবনায় মগ্ন হয় মিলন। মনে মনে বলে, সবই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছে। না হয় কেন এমন হবে। জীবনে কাউকে কোন ক্ষতি করেছি বলেতো মনে পড়ে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here