বাংলাদেশে সেনাবাহিনীকে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতে আহ্বান জানালেন জ্যাকব মিল্টন

FullSizeRender (1)বর্ণমালা নিউজ: বিতর্কিত ও আলোচিত ইসরাইলী ক্ষমতাসীন দল লিকুদ পার্টি নেতা মেন্দি এন সাফাদির সাক্ষাতকার গ্রহণের সময়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতে সেনাবাহিনীকে আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্কে মটগেজ জালিয়াতির মামলায় সাজা খাটা এবং নিউইয়র্কের টাইম টিভিতে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘উই আর দ্য পিপল’-এর সঞ্চলক জ্যাকব মিল্টন। ইউটিউবে আপলোড করা মেন্দি এন সাফাদির সাক্ষাতকারটির সঞ্চালক জ্যাকব মিল্টন সাক্ষাতকার শেষ করে তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, সরকারের হত্যা গুমের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে রুখে দাঁড়াতে উদাত্ত আহ্বান জানান মিল্টন।
এদিকে মেন্দী সাফাদির সাক্ষাতকারটি নেয়া হয়েছে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী আইপিটিভি ‘টাইম টিভি’র স্টুডিওতে, কিন্তু সাক্ষাতকার শেষে দেখা গেছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ‘বাংলা পত্রিকা’র নাম।
সাক্ষাতকারটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাক্ষাতকারদানকারী কোন কথা নিজে থেকে বলার কোন সুযোগ পাননি। সঞ্চালক জ্যাকব মিল্টন তার কূট-কৌশলী প্রশ্ন করে নিজের উত্তর সাফাদির মুখে তুলে দিয়েছেন। সজিব ওয়াজেদ জয় নামে কাউকে চেনেন এমন কথা বলেননি তার পরও জোর করে তাকে দিয়ে একজন ‘জয়’র সাথে তার ওয়াশিংটনে সাক্ষাত হয়েছিলো বলিয়ে নেন জ্যাকব মিল্টন এবং সেই জয়-ই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র তাও জানতেন না সাফাদি একথা অবিশ্বাস্য (!) বলে বন্তব্য করেন মিল্টন। জয়-র সাথে কি আলাপ হয়েছে তা সাফাদি বলেলননি, জ্যাকব মিল্টনই বলেছেন জয় তার মা;র সরকারের জন্য সহায়তা চেয়েছেন সাফাদির কাছে। তার আগে সাক্ষাতকার শুরুর সময়ে জ্যাকব মিল্টন ভোবে সাফাদিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তাতে কেউ মনে করতে পারেন না এই সাধারন এক ইসরাইলী নাগরিকের কাছে জয় কেন সহায়তা চাইবেন?
পুরো সাক্ষাতকার অনুষ্ঠষ্ঠানে সাফাদি নিজে থেকে কোন প্রসঙ্গ তুলেননি বা বলেননি কেন তাও সবাইকে বিস্মিত করেছে। আর বিস্ময়কে ১শক্তিশালী সন্দেহে’ পরিণত করেছে বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহেরের একটি ফেইবুক স্ট্যাটাস থেকে। বাংলাদেশের নিউজ চ্যানেল ‘একাত্তর টিভি’ জ্যাকব মিল্টনের নেয়া সাফাদির সাক্ষাতকারে কম্পিউটার গ্রাফিকস এবং অন্যান্য কূকূটকৌশল প্রয়োগ করে জয়-কে হেয় করার প্রচেষ্ঠষ্ঠা তুলে ধরার পর পরই আবু তাহের ফেইসবুকে তার পেইজে স্ট্যাটাসটি দিয়ে তার এবং টাইম টিভির অবস্থস্থান ব্যাখ্যা করলেও ইউটিউবে প্রচারিত সাক্ষাতক রে বাংলা পত্রিকার নামের ব্যাপারে কােন ব্যাখ্যা দেননি। এখানে আবু তাহেরের ফেইসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তলে ধরা হলো:
২৫ মে বুধবার। রাত আনুমানিক ৯টা। ফোন করলেন জ্যাকব মিল্টন। টাইম টিভি স্টুডিওতে একজন অতিথি নিয়ে আসতে চান। বললেন খুবই আলোচিত ব্যক্তিত্ব। জ্যাকব মিল্টনের নিজস্ব অনুষ্ঠানের জন্য সাক্ষাতকার রেকর্ড করতে চান।
টাইম টেলিভিশন স্টুডিও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কেউ কোন অনুষ্ঠান করতে চাইলে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া নিতে পারেন।
জ্যাকব মিল্টন জানালেন, এটা েেয়হতু মিডিয়া অফিস সেহেতু কোনভাবেই কথিত অতিথির সাক্ষাতকার নিতে পারবেন না কেউ।
রাত ১০টার খবর প্রচারের কিছুক্ষণ পর তারা এলেন। সাথে বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা বলে পরিচিত জাহিদ এফ সর্দার ও একজন আগুন্তক। দেখে মনে হচ্ছিল বিদেশী। স্টুডিও তখনও রেডি হয়নি। তাই তারা কিছুক্ষণ স্টুডিওর সামনে দাঁড়ালেন।
নিজেরাই নিজেদের সাথে কথা বলছেন। েেয়হতু বলা হয়েছে টাইম টেলিভিশনের কেউ তার সাথে কথা বলতে পারবে না। সেজন্য এনিয়ে কারো ব্যস্ততা নেই।
অপেক্ষার এক পর্যায়ে জাহিদ সর্দার এবং জ্যাকব মিল্টন অতিথিকে নিয়ে এলেন টাইম টেলিভিশন অফিসে।
জ্যাকব মিল্টন পরিচয় দিয়ে বললেন, ইনি সেই ব্যক্তি যার সাথে আসলাম চৌধুরীর দেখা হয়েছিল। যাকে নিয়ে চলছে দেশে বিদেশে চরম বিতর্ক। ইসরাইলী মেনদি সাফাদী হ্যান্ড সেইক করে পরিচয় দিলেন। একটু বিস্মিতই হলাম। শুনেছি তিনি নাকি মোসাদের এজেন্ট।
স্বাভাবিক কুশলাদি বিনিময়ের পর জানতে চাইলাম তার প্রতিক্রিয়া ও আসলাম চৌধুরীর সাথে বৈঠকের বিস্তারিত। একজন সাংবাদিক হিসেবে এধরনের সাবজেক্ট নিয়ে কৌতুহল থাকাটাই স্বাভাবিক।
এরই মধ্যে তারা স্টুডিওতে গেলেন।
চলে যাওয়ার আগে টাইম টেলিভিশনের জন্য একটি সাক্ষাতকার নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলাম। মেনদি বললেন, সাদির অনুমতি লাগবে। কথা বললেন একাকী। এরপর রাজী হলেন।
রাত অনেক হয়েছে। লোকজন নেই। তার সাক্ষাতকার নেয়া হলো। মেনদি বার বার মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টিও তুলে আনলেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে বলে দাবী করলেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অসংখ্য অভিযোগ। সেই ইসরাইলেরই নাগরিক এবং রক্ষনশীল লিকুইদ পার্টি নেতা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছেন। বিষয়টিকে নিতান্তই মেকি এবং কৃত্রিম বলেই মনে হলো।
এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ফিলিস্তিনে ইসরাইলী নির্যাতনের খবর কে উড়িয়ে দিলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে আসলাম চৌধুরীর সাথে বৈঠক প্রসঙ্গ। সাফাদি বললেন, ভারতীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের যুব গ্রুপের এক সম্মেলনে দিল্লী গিয়েছিলাম। সেখানে আসলাম চৌধুরীর সাথে ফটোসেশন ছাড়া আর কিছুই হয়নি।
সাক্ষাৎকার শেষ। সাফাদি এবং সাক্ষাতকারের কপি নিয়ে চলে যান তারা।
বৃহস্পতিবার এটা আপলোড করা বিভিন্ন অনলাইন ও সোস্যাল মিডিয়াতে।
বিষয়টি আলোচনায় আসার পর টাইম টেলিভিশনকে জড়িয়ে অনেকেই মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী রচনা করছেন।
আমরা র্দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, একটি মিডিয়ার কাজ হচ্ছে তথ্য সরবরাহ। টাইম টেলিভিশন তাই করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
টাইম টেলিভিশন কোন দল বা গ্রুপের মুখপাত্র নয়। এটি হচ্ছে প্রবাসী বাংগালীদের সুখদুঃখের প্রতিচ্ছবি। কমিউনিটিকে অবাধ তথ্য প্রবাহের মহান ব্রত ও অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে টাইম টেলিভিশন।
এই দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নে অভিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে সবার প্রিয় টাইম টেলিভিশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here