কিংবদন্তির বিদায়, বাংলাদেশ তাঁকে মনে রাখবে

0
159

004328sompa-1চলে গেলেন সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। বক্সিং রিংয়ে বিধ্বংসী এই মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একেবারেই অন্য রকম। ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকে লাইট ওয়েটে সোনা জিতে পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর আগমনবার্তা। ১৯৬৪ সালে সানি লিস্টনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব খেতাব জয় করেন। প্রথম মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে তিনবার জিতেছেন বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপা। ‘প্রজাপতির মতো উড়ে আর মৌমাছির মতো হুল ফুটিয়ে’ ১৯৮১ সালে পেশাদার বক্সিং থেকে অবসর নেওয়ার আগে ৬১টি পেশাদার লড়াইয়ের ৫৬টিতেই জিতেছেন তিনি। ৩৭টি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে নকআউট করেছেন। নিজে একবারও নকআউট হননি। শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী। মানবতাবাদী এই মহান ক্রীড়াবিদ ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করে নিজের দেশে সমালোচিত হন। থেমে থাকেননি তিনি। কালো মানুষদের অধিকার নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নানা সংগঠনে ঘুরে ঘুরে বক্তৃতা দিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করায় তাঁর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব ও বক্সিং লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিন বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছিলেন মার্কিন আদালত, যদিও পরে আপিলে তা নাকচ হয়ে যায়। কিন্তু চার বছর কোনো লড়াইয়ে অংশ নিতে পারেননি তিনি। নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবু আপস না করে নিজের মানবিক বোধ উঁচুতে তুলে ধরেছিলেন এই মানবতাবাদী ক্রীড়াবিদ। বহু দূরের এক দেশের অচেনা মানুষদের তিনি শত্রু ভাবতে পারেননি। রিংয়ের বাইরে থাকা যেকোনো মুষ্টিযোদ্ধার জন্য কষ্টের কিন্তু তা মেনে নিয়ে অপেক্ষায় থেকেছেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালে আবার রিংয়ে ফেরেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথম পরাজয় জো ফ্রেজিয়ারের কাছে ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে খ্যাত লড়াইয়ে। ১৯৭৪ সালে ‘রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’ নামে পরিচিত লড়াইয়ে জর্জ ফোরম্যানকে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন মোহাম্মদ আলী। ১৯৭৫ সালে ফ্রেইচারকে হারিয়ে দেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিয়ন স্পিংক্সের কাছে পয়েন্ট ব্যবধানে খেতাব হারানোর আট মাসের মাথায় ৩৬ বছর বয়সে তৃতীয়বারের মতো খেতাব জেতেন।

১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি বিদেশি সংস্থার চেষ্টায় ঢাকায় পা রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী। ফিরে যান ২৩ ফেব্রুয়ারি। এ সময় সিলেটের চা বাগান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ঘুরে দেখেছেন। গেছেন নৌবিহারে। ঢাকায় নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। রিংয়ে নেমেছিলেন প্রদর্শনী মুষ্টিযুদ্ধে। এক কিশোর মুষ্টিযোদ্ধার সঙ্গে মজাও করেছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পাসপোর্ট। বাংলাদেশের প্রথম মুষ্টিযুদ্ধ স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় তাঁরই নামে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের অনারারি কনসাল জেনারেল হিসেবে নিযুক্তির নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল। কিংবদন্তি

মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে সম্মানিত করতে পেরে সম্মানবোধ করে বাংলাদেশ। মুষ্টিযুদ্ধ শক্তির খেলা। এই খেলার প্রধান অস্ত্র হিংস্রতা। মোহাম্মদ আলী এই খেলাকে নিয়ে গিয়েছিলেন শিল্পের স্তরে। ক্রীড়াশৈলীতে সৌন্দর্যময় করেছিলেন। আর এ কারণেই তিনি ‘দ্য গ্রেটেস্ট’। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের মানুষ শোকাহত। অসামান্য এই মানবদরদি ক্রীড়াশিল্পীকে মনে রাখবে বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here