নিউ ইয়র্কে অভ্যন্তরীণ কোন্দলই নজরুল সম্মেলনে মারামারি

0
195

nazrul_convention-15নিউ ইয়র্ক: অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হীনমন্যতার ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ষোড়শ উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলনে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন সম্মেলনের আহবায়ক ও সদস্য সচিব। ঘটনার পরদিন ২৯ মে রবিবার বাংলাপ্রেস ডটকম-এ ‘নিউ ইয়র্কে দু’দিনব্যাপী নজরুল সম্মেলনের প্রথম দিনেই মারামারি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সম্মেলন কমিটিসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।

ষোড়শ উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলনের আহ্বায়ক মো: কবির কিরণ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন সম্মেলন কমিটি দীর্ঘ ৮/৯ মাস নিরলস ভাবে কাজ করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত গ্রহণ করে একটি সফল সম্মেলন আয়োজন করেছে। এসব কর্মকান্ডে সদস্য সচিবের অংশগ্রহণ ছিল ন্যূনতম। সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহে আগে যখন সম্মেলনের দু’দিনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল তখন সদস্য সচিব অনুপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে তার অংশগ্রহণও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কমিটির সদস্য সেলিমা আশরাফ, জাহাঙ্গীর ডিকেন্স, ইমদাদুল হক, সাবিনা শারমিন নিহার, আবির আলমগীর, ডানা ইসলাম, মেহের কবির, সাঈদা পারভীন, ইভা শারমিন, ও মো: কবির কিরণ সহ আরও অনেকে প্রস্তুতি সভায় অংশ নিয়ে দু’দিনের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নজরুল সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব পরিচালনার দায়িত্ব আহ্বায়ক মো: কবির কিরণের উপর অর্পন করা হয়। সেই মোতাবেক উদ্বোধনী পর্ব পরিচালিত হয় এবং সদস্য সচিবকেও মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সদস্য সচিব ভুল বুঝে উদ্বোধনী পর্ব বর্জন করেন এবং মঞ্চের পেছনে কিছুটা অনাকাঙ্খিত উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে নজরুল সম্মেলন কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপে সকল ভুলের অবসান হয় এবং সদস্য সচিব সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলশ্রুতিতে সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধান শিল্পী ফেরদৌস আরার পরিবেশনা শুরুর আগে পুনরায় সদস্য সচিবকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব পরিচালনা করতে দেয়া হয়।

এদিকে দু’দিনব্যাপী নজরুল সম্মেলনের প্রথম দিনেই অতিথিদের আলোচনা পর্বে সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারকে মঞ্চে না ডেকে আহবায়ক মোঃ কবির কিরণ একাই এ পর্ব পরচালনা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আয়োজকদের একাংশ। উদ্বোধনী পর্ব শেষ করে মূলমঞ্চের পেছেন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও তার দলবল ব্যক্তি কবির কিরণকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। দেলোয়ার অভিযোগ করে বলেন, কবিরকে নিউ ইয়র্কে কেউ চিনত না। সে থাকে নিউ জার্সিতে। এর আগে চারজন সদস্য সচিব সে বদল করেছে, কেউ তার সাথে কাজ করতে পারেন নাই। সে মানুষকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার পর তাদেরকে নিক্ষিপ্ত করেন। শুধু তাই নয়, দেলোয়ারকে সদস্য সচিব করার প্রস্তাব দিলে সে প্রথমে রাজি হননি। পরে হাতেপায়ে ধরে তাকে রাজি করান। তিনি আরও বলেন নজরুল সম্মেলনের আয়োজক ‘শতদল’ নামে কোন সংগঠন আমেরিকায় নেই। এ সম্মেলনটি করার জন্যই তিনি তড়িঘড়ি করে একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন। আজকের এ আয়োজনের সমস্ত অতিথি এসেছে শুধুমাত্র আমার নাম দেখেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কবির ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিতভাবেই আমাকে অপমানিত ও হেয় করেছেন। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হলে পরে ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সহায়তায় সমঝোতায় নিয়ে আসা হয়। তবে পেছনে হট্টগোল হলেও মূল অনুষ্ঠানের কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। একাডেমির সেফটি পুলিশ উভয়কে পৃথক পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অতিথিদের আলোচনা পর্বে আহবায়ক মো:কবির কিরণ তিনবার ভূল নামে সদস্য সচিবকে মঞ্চে ডেকেছিলেন। এটা ইচ্ছাকৃত ও তাচ্ছিল্য বলে অনেকেই মনে করেন। এ ছাড়াও আহবায়ক কর্তৃক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সদস্য সচিব শব্দ উচ্চারন করলেও কোথাও তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ধরনের হীনমন্যতার ফলেই সম্মেলনে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে দর্শকশ্রোতারা মনে করেন।

গত ২৮ মে সন্ধ্যায় জ্যামাইকার সুসান বি অ্যান্থনি একাডেমিতে এ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে কমিটির সদস্য সচিবকে মঞ্চে না ডাকায় হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উক্ত একাডেমিতে কর্মরত সেফটি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরদিন ২৯ মে রবিবার বাংলাপ্রেস ডটকম-এ ‘নিউ ইয়র্কে দু’দিনব্যাপী নজরুল সম্মেলনের প্রথম দিনেই মারামারি’ শিরোনামে প্রকাশ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। অনেকেই ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাৎক্ষনিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় প্রবাসী সচেতন পাঠকরা বাংলাপ্রেস ডটকম-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নজরুল সন্মেলনে প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী লেখক ও কলামিষ্ট শিতাংশু গুহ ফেসবুক বার্তা বলেছেন, ওটা নজরুল সন্মেলন ছিলোনা, ছিলো ‘নজরুলকে মুসলমান বানানোর সন্মেলন’। উদ্যোক্তারা আপ্রাণ চেস্টা করেছেন নজরুলকে মুসলমান বানাতে, ক’জন বক্তাও সেভাবে ফিট করেছেন, কিন্তু শিল্পীরা ঠিকই মানুষ নজরুলকে তুলে ধরেছেন। নজরুল মানুষের কবি, তিনি গেয়েছেন মনুষ্যত্বের জয়গান, যারা তাকে ধর্মের গন্ডিতে বাধতে চান তারা হীন উদ্দেশ্যে কবিকে খাটো করেছেন। নিউইয়র্ক বলে এরা মারামারি করেছেন, বাংলাদেশ হলে হয়তো খুনাখুনি করতেন। আর মারামারিতে কিলঘুষি, পাঞ্জাবী ছেড়া বা নীচের স্টল থেকে তাড়াতাড়ি কিনে নুতন পাঞ্জাবী পরিধান, এসব তো ছিলোই। এদের এক নেতার একটি ফেইসবুক উক্তি শুনুন, তিনি লিখেছেন, “সেলিম ওসমানকে সালাম, কারণ তিনি একজন নাস্তিককে কান ধরে উঠবস করিয়েছেন”। তাহলেই বুঝুন, এরা কারা! দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘বাদরের হাতে কোদাল পড়েছে’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here