বিদেশী বিনিয়োগে বাংলাদেশের রেকর্ড

বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) তাদের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন-২০১৫’-এ এ তথ্য তুলে ধরেছে। ২০১৪ সালের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তৃতী235636sompa-1-300x200য়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৫ সালে সারাবিশ্বে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) হয়েছে ১ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৪ সালের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, অর্থাৎ ২২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে বাংলাদেশে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এফডিআই। ২০১৪ সালে এসেছিল ১৫৫ কোটি ডলারের এফডিআই। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির এই ধারা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক মনে করা যায়।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রণোদনাসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বিনিয়োগের যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বিদেশি বিনিয়োগে, অর্থনীতিবিদরা এমনটিই মনে করেন। গত বছর দেশে যে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, এক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকা এবং দৃশ্যমান প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। যা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তথ্য মতে, গত বছর ৮৪ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে, যা সবচেয়ে বেশি। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাত।
অনস্বীকার্য যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে প্রতিবছর গড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার করে বিনিয়োগ দরকার। সেখানে প্রতিবছর বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে এক থেকে দেড় বিলিয়ন। ফলে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের কারণেই যে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তবে একথা নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পগুলোই বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছে। মানতেই হবে, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত বিনিয়োগ। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্তপূরণও আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। বিনিয়োগ বাড়লে সব খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একটি শিল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক সহায়ক শিল্প গড়ে ওঠে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও জমি। জানা যায়, বাংলাদেশে অনেক বিনিয়োগকারী আসতে চান। কিন্তু তারা জমি এবং গ্যাস সংকটে পড়েন। আমরা মনে করি, দেশের স্বার্থে বিনিয়োগের এই বাধা দূর করা জরুরি।
একই সাথে প্রবাসীদের যদি বিশেষ বিনিয়োগ জোন করে দেয়া হয় তাতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে। যা যোগ হবে বিদেশী বিনিয়োগের ভান্ডারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here