ঈদ সংখ্যা‘র কবিতা

Eid issue logo Kobitag

অথচ তোমার মধ্যেই সেই বাউল

                         তমিজ উদদীন লোদী

আমার বাম হাতের চেটোয় তোমার বাম হাতের চেটো
লাগতেই মনেহলো ইঞ্জিনের চাকা লেগেছে রেলপাতে ।
তার আগে জানিয়েছিলে তোমার কররেখায় মৃত্যু প্রলম্বিত
এবং প্রেম একরোখা ইঞ্জিনের মতোই তুমুল ।

তুমি বলেছিলে তোমার পছন্দ খানিকটা ‘বাউণ্ডুলে প্রেমিক’
আর সে ভরসায়ই আমি তোমাকে মাইকেল এঞ্জেলোর চিত্র
দেখিয়েছিলাম। বলেছিলাম ,দেখো,সিসটিন চ্যাপেল, দেখো ।
আর সেজন্যই আমাদের এই হুলস্থূল, এই জ্যোৎস্নাযাপন ।

অথচ তোমার মধ্যেই সেই বাউল । উলোঝুলো পাগলামিপনা ।
রোদ এবং বৃষ্টির মধ্যে নেমে যাওয়া । নেমে যাওয়া থিকথিকে
কাদার ভেতর । একতারা কি দোতারার লোকজ সঙ্গত । যেন
খুব গোপনে একটি অচেনা পাখির শিস ধিরে বয়ে যাওয়া ।

 

            জীবন যাপন

                              শামস আল মমীন

আমি মেঘদের সাথে খেলা করি, আমার হাতের
তালু ভিজে যায় মেঘের ভালোবাসায়। তারাদের
কেউ কেউ পশ্চিমের উপচানো আলো ছড়ায় পুবের
অন্ধকারে, কিন্তু আমি কিছুতেই
ভুলতে পারি না ঘর্মাক্ত সূর্যের কথা।

মাঝে মাঝে অলৌকিক উৎসগুলো খুঁজি আমি ।
আমার অক্ষম বোধ অসুস্থ রোগীর মতো শুয়ে
থাকে কাঁথা মুড়ি দিয়ে; আমি ভুলতে পারি না
সিংহের হিংস্র থাবার কথা। ওর স্থির চোখের অব্যর্থ
শিকারের কথা। তাই দূর দিয়ে দুজনেই

পার হয়ে যাই ভরা নদী। চড়ুই দোয়েল
ওরাও ওদের মতো নাচানাচি করে ডালে ডালে।

 

সবকিছুই ঠিক আছে, শুধু

                                ফকির ইলিয়াস

আমি হাত পাতলেই তুমি আমার হাতে তুলে দিচ্ছো
কয়েকটি শিউলিফুল। চোখের দিকে তাকালেই-
চোখ রাখছো আমার চোখে,
আমরা একসাথে পড়ছি আকাশ, সমুদ্র, সৈকত।
এমনকি সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকা ভোরের বালিরেখা।
চিক চিক করা কান্নারত কবুতরের মুখ।
পড়ছি অনেক ভুলের বিশদ। দেখছি- চাঁদ উঠছে,
তারা জ্বলছে, নিভছে নদীতে মাঝিদের নৌকোর কূপি।
দাঁড়িয়ে দেখছি- সবকিছুই চলছে ঠিকঠাক।
ঠিক আছে পৃথিবীর পথরেখা।

শুধু একটি পাখি উড়বার জন্য,
পাচ্ছে না য়েথষ্ট মুক্ত আকাশ… ।

 

ঈদ ও অধিকার

        এ কে এম আব্দুল্লাহ

হাফ হাতা অথবা ফুল হাতা
ভেলভেট কিংবা ট্রেট্টন ও নয়
কোন ব্রান্ড-নেইম সমোসা-পুরি অথবা
ব্র্যেডক্র্যাম্ব মোড়া মুরগীর ঠ্যাং চাই না
বুড়িগঙ্গার পাড়ে গড়ে উঠা সিসা বারের
রঙিন ফ্লেভারও নয় ;
চাঁদের আলোয় সেঁকা শুকনো
ছেঁড়া পাতার মত রুটিইতো চাই।
ঘি-ভাজা সেমাই-জিলাপি, ফ্রাইড রাইছ
কিংবা থাই চিকেন ও নয় ;
চাই তোমার পাঁজরের চিপা থেকে
আমার অধিকারের মাখনটুকুই।
ঈদ আসে ঈদ যায়,বসে থাকি
ক্ষুধা আর আনন্দের মুখোমুখি।
তুমি ভুড়িভোজন কর হরিণ কিংবা উঠের মাংস দিয়ে
রক্ত অথবা নিয়তের উপর ভর করে
যাও স্বর্গে ; শুধু আমার পাতে দিয়ে যাও
কিছু আনন্দ, ঈদের আনন্দ
আমার অধীকারের আনন্দ।
পাত ভরা আনন্দের উত্তাপে শুকিয়ে যাক আজ
অশ্রু সিক্ত মায়ের ছেঁড়া আঁচল
মোটা সুতার এক টুকরো কাপড়ে ঢেকে যাক বোনের গতর।

 

আগুন

                    স্বপন বসু

কে দিল সোনার বাংলায় আগুন?
চারিদিকে হয় শুধু খুন আর খুন
কবন্ধ হয় মুক্তমনা, জ্ঞানিগুনি জন
খুন হয় যারা সে দেশকে ভেবেছিল আপন।
কোথা গেল শেখ মুজিবের সে বাংলাদেশ?
বহে হিংসা, বিদ্বেষ, ধ্বংস, আক্রমনের রেশ।
শয়তানরা করে অপরাধ, ভাবে তারা ধার্মিক
আর সকলকে বলে তারা, ওরা হল নাস্তিক।

শুধু খুন নয় আরও হয় ধর্ষণ
কামনা মিটলে করে গলা কর্তণ।
বিদেশী সন্ত্রাসীরা দেয় টাকা যত প্রয়োজন
নিরাপদে থাকে খুনি, খুশি পুলিশ, প্রশাষণ।

তাদের টাকাতে হয় ব্রিজ, উড়ালপুল
উন্নতির জয়ডঙ্কা বাজায় পারিষদকূল।
জেলায় জেলায় হবে কত বড় মসজিদ
ঈস্কুল, হাঁসপাতাল বানাতে নেই ‘ক জিদ।

জনতা খুনি ধরে দেয় পুলিশের হাতে তুলে
পুলিশ তারে গুলি করে, পাছে দেয় সব বলে।
মিলিটারির অবস্থা আরও খুবই ভয়ানক
তন্বী তনুর তনু ভোগ শেষে মারে আচানক।

মন্ত্রীরা চুপচাপ, হাসিনারে রাখে বহাল
দেশ যাক রসাতলে জনতা হোক বেহাল।
রাষ্ট্রপতি ধ্রিতরাষ্ট্রের মত অন্ধ, ও বধির
আছে রাজার হালে। গনকান্নায় রয় স্থির।

স্বাধীনতা নেই আর, সবই দানবের দখলে
কবে শেষ হবে দুঃশাষণ এই কথা যাই বলে।

 

ঈদের দিনে

      সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

ঈদের দিনে রাঙা বউ ঝুমুর পায়ে নাচে
দোয়েল পাখি মিষ্টি সুরে ডাকছে বসে গাছে
সোনালী রোদ ঝলোমেলো প্রিয় সোনার গাঁয়
ঈদের আনন্দে লোকজন মনে সুখ পায়।

রং রেবঙের বেলুন ওড়ে ঈদের দিনে আজ
লাল নীল রঙিন কাগজে চারদিকে সাজ
কোরমা পোলাও ফিরনী পায়েস সবাই খায়
হইচই ধুমধাম কোলাহলে দিন চলে যায়।

ধনী-গরীব নেই ভেদাভেদ অথই খুশি করে
বুকে বুকে কোলাকুলি হয় প্রতি ঘরে ঘরে
ঈদের দিনে রঙিন মুখে কতই মধুর হাসে
নতুন আশা নতুন স্বপ্ন দু’চোখে ভাসে।

ঈদের দিনে হিংসা-দ্বেষ সবাই ভুলে যায়
মিলেমিশে ঈদটা করে ভালোবাসা পায়
ঈদের দিনে প্রাণে প্রাণে আলোর রয় বান
দিকে দিকে হাওয়ায় ছড়ায় ঈদের দিনের গান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here