কদম আলী জামাই- জুলি রহমান

Untitled-4
কদম আলীর বাবা কদ্দুস আলী ডিবি ওয়ানে আমেরিকা এসেছিলো আজ থেকে বিশ বছরআগে।গ্রামের হত দরিদ্র কদ্দুস আলী এখন কয়েস চৌধুরী নাম ধারন করে এক বছরের কদম আলীকে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিতকরে ২১ বছরে পরিনত করেছে।ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেকে নিয়ে কয়েস চৌধুরীর গবের্র শেষ নেই।সেই রকম গবর্বোধ করে।বাংলাদেশে সুযোগ্যা ধনী বংশজ পরিবারে বিয়ে দিয়ে শিক্ষিতের সাটর্িিফকেট নিয়ে সমাজের বিশেষ স্তরে ওঠে যাবেন ; এতে দোষের কিছু নাই।টাকা আছে যার দুনিয়া আছে তাঁর!স্বপরিবারে কদ্দুস আলী ওরফে কয়েস চৌধুরী স্বপুত্রক বাংলাদেশে যাবেন।ছেলে কদম আলী মিঃ ক্যাবেন চৌধুরী নামটি ধারন করেই নিজের
দেশে পা বাড়ালো।

উত্তরা মডেল টাউনের ৭ নং সেক্টরে আট নং বাসায় মহা ধুম ধারাক্কা কারবার।হাজার হোক আমেরিকায় বিয়ে হচ্ছে মেয়ের এ তোকম কথা নয়।কিন্তু পাত্রী এ কোনে মন দিয়ে বসে আছে পাশের বাড়ির মনুইক্কা ওরফে মানিক চৌধুরীকে। বাবা মা আমেরিকার সন্ধান পেয়ে আর কী এমন দামী পাত্র হাত ছাড়া করে? তাই মেয়েকে গৃহ বন্দী করে রাখা হয়েছে।যাতে বাইরে গিয়ে আবার বখাটে মানিকের স্নরনাপন্ন হতে না পারে।

যথা সময়ে পাত্র পক্ষ কণে বাড়িতে হাজির হলো। মিঃ ক্যাবেনের ছেঁড়া সাটর্ লম্বা চুল হাতে বয়লা কানে ঠোঁটে পালর্সের অর্নামেন্টস দেখে কণা ওরফে কিম্বারলি একটা মজার প্ল্যান করলো।সেও ঝটপট লং প্যান্টকে শর্ট করলো । স্লিপলেজ ফতোয়ার সামনের অংশ খাটো করে পেছনের অংশ পা পযর্ন্ত লম্ব করে বিদেশী ড্রিংক্স নিয়ে পাত্রের সামনে হাজির হলো।

কণার বাবা মা মেয়ের এমন কান্ড দেখে হতবাকই শুধু নয় লজ্জায় জিহবায় কামড় দিয়ে।দাঁতে দাঁত চেপে বলে আপনাদের আমেরিকান ছেলে তাই আমার মেয়েও মানে তাঁর মতোইতো হতে হবে কী বলেন বিয়াই ?

কদ্দুস আলী ওরফে কয়েস চৌধুরী তা-ই -লে কস্ট কইরা দ্যাশে আওনের কাম আচিল কী? আমেরিকায় কী এমন মাইয়ার অভাব আচেনি কোনো?বালাবোলা এইকগা মাইয়ার আশাইতো দ্যাশত ফিরন।মনে মনে কথা কয়টি বলে সে নিজ স্ত্রীর দিকে এমন ভাবে দৃস্টি নিক্ষেপ করলেন যে, স্ত্রী হনুপা বেগমের অন্তরে ঘুনে ধরা ডায়াবেটিস ব্লাড প্রেসার চরম হাই হয়ে গেলো।এরই মধ্যে আবার বিদেশী ড্রিংক্স টাটকা লাল মরিচের গুরা আর হলুদের মিশ্রনে কমলা আকার ধারন করে দেখতে বড়ই লোভনীয় মনে হচ্ছে। সুগার লো হওয়ার ভয়ে হনুপা বেগম তাতে এক চুমুক দিয়েই চিৎপটাং।ইতিমধ্যে সবারই পানাহারের কাজটি সুহ সম্পন্ন।সাথে সাথে তাইপ্রতিক্রিয়া একত্রই শুরু হলো।

ঘরময় হৈ চৈ পড়ে গেলো।পাত্রী আপসুস করে বলতে থাকে আমি তো গুয়াভা স্ট্রবেরী
পিয়ার, ওভাকেডু ,চিলি, কিউই ,চেরি, গ্রেপ দিয়ে মিক্সড জুস করেছি।তাই খেয়ে উনারা এমন ব্যালে ডান্স করবে আমি কি জানি বাবা।
বাবা আমি আর তোমাকে বাবা বলতে পারবো না।এতে আমার লিপস্টিকের স্বাস্থহানি ঘটে।তাই ঠিক করলাম ড্যাড বলেই ডাকবো।তা- ছাড়া আমিতো দুদিন পর আমেরিকায়ই চলে যাব।

এবার কদ্দুস আলীর কাপড় ছেড়ে দেবার উপক্রম প্রায়।হনুপা বেগম সেই যে সুফার উপর কাৎ হয়ে পড়ে আছে বারতাঁর আর নড়ন চড়ন নাই।পাত্র মিঃ ক্যাবেন ইংরেজীতে আবুল তাবুল প্রমাদ গুনে জিহবাকে জ্বলুনীর হাত থেকে রক্ষা করার বৃথাই চেষ্টা করে চলেছে।তাঁর সবর্শেষ উক্তি।আই কোড নট ম্যারি হার। ইম্পোসিবল।

এবার কিম্বারলি ওরফে কণা তাঁর ভালোবাসার মানুষ মানিকের খোঁজে বের হলো।দুদিন পর ঈদ। কতো কাজ।কোথ্থেকে এক উল্লু এসে দিলো সব লন্ড ভন্ড করে ।

কণা মানিক কে খুঁজছে। কেউ মানিকের কথা বলতে পারে না। ওদিকে মানিক ক্যাবিনের জামা কাপড় অলংকারাদি খুলে পরে নিলো।আর বলে দিলো এদিকে আবার এলে চেহারটাই খুলে নিবে।

ওদিকে ক্যাবিনের এমন নাজেহাল অবস্থায়
বাবা কয়েসের মনে জেদ ধরে গেলো।সে ওই বেয়াদব মাইয়াটাকেই বৌ করে তবেই ফিরবে।

বিয়ের দিন ধাযর্ হলো ঈদের পরের দিন।ক্যাবিনের পোশাক গয়না য়েতœ তুলে রেখেছে মানিক।মানিকের বন্ধুদের নিয়ে মানিক গোল
টেবিল বৈঠক বসালো। মুখ্য আলোচ্য বিষয়
হলো দেশের কন্যা পাঁচার হতে দেবো না।
আমার ভালোবাসার কছম রে ক্যাবিন না।তোর হাত পাও লোলা করে ফুল বডি থ্যারাপি উপযুক্ত করেই সাধের আমেরিকায় ফেরত পাঠাবো ।আমার কণার দিকে তাকানোর অপরাধে লাল মরিচের গুরা না মারলে শান্তি নাই।তখন বুঝবে বাংলাদেশের পোলার হিম্মত।

বিয়ের আসরের চারপাশে কড়া পাহাড়ার বন্দোবস্ত করা হলো। মানিকের হাত থেকে বাঁচার উপায় একটাই।মানিক মাসুদ রানা দস্যু বনহুর নাপড়লেও টম এ্যান্ড জেরী তো দেখে দেখেই বড় হয়েছে তাই না?কথা কয়টি বলেই মানিক তাঁর বন্ধু মতিনকে বলে।তুই কড়া পাহারা দিবি। আর ওরা সব ওদিকে আছে।

বরযাত্রী হাজির।করোলা গাড়ির ডালা খোলে যে দাঁড়ালো তাঁর মুখ দশর্ন কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।দীর্ঘ পুষ্পমাল্য শোভা বধর্ন হেতু আপাত আদল বন্দী যুবকটি আর কেউ নয় মানিক ভিন্ন।

কদ্দুস আলী পুত্র ক্যাবিন মনে করে পিঠের উপর হাত ফেলে হাঁটাশুরু করলো। যথা নিয়মে কুশল বিনিময় পবর্ শেষ করে বিয়ের আসরে বসে গেলো মানিক্কা ওরফে মানিক ।
ঘন ঘন চোখের জল মুছছে কণা।এই ভিনদেশী উল্লুটারে কিছুতেই মন দিতে পরব না।চোখের পনিতে ভাসছে তাঁর দুপাট্টা।নিরু হঠাৎ ছেঁড়া কাগজের মতো উড়ে এসে কণার কণর্কুহরে ঝাপটা মেরে তরিৎ বেগে উধাউ হলো।
কণার মনের মেঘলা আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল হতেই মানিক তাঁর শুভ্র দন্তরাজি বের করে
একবার চার চোখের মিলন ঘটিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে উভয়ে বসলো।
কাজী সাহেব বিয়ের কাজ শুরু করলেন।ওদিকে ক্যাবেনের কসটেপ মারা মুখে কেবল গু-গু-গু করা শুরু করলো।বিয়ে সম্পন্ন হলে মানিকের বন্ধু বান্ধব হাজির।
কণাকে নিয়ে তাঁরা অন্য গাড়িতে ওঠে বসে।
মিঃ কয়েস ওরফে কুদ্দুস আলী পুত্রকে কাৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে অবাক! এতোক্ষণ সে তাহলে কার সংগে কাকে ছেলে মনে করে আগলে বসে থাকলো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here