শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের তীর্থ ভ্রমন সম্পন্ন

 

 ভ্রমনে অন্তর্ভূক্ত ছিল নিউজার্সীর অক্ষরধাম মন্দির
ভ্রমনে অন্তর্ভূক্ত ছিল নিউজার্সীর অক্ষরধাম মন্দির

নিউইয়র্ক: গত জুলাই ৯ ও ১০ শনি এবং রবিবার শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ সফল ভাবে তাদের তীর্থ ভ্রমন ২০১৬ সম্পন্ন করে।ও ভার্জিনিয়ার বিশ্বখ্যাত প্রতœতাত্বিক নিদর্শন লরে ক্যাভার্ন। মন্দির দর্শনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ও বিকাশ এবং প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সমূহ দর্শনের মাধ্যমে ইহজাগতিক জ্ঞান তৃষ্ণা নিবারনের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে নিবেদিত হয় তীর্থ ভ্রমনের পরিকল্পনা।
জুলাই ৯ শনিবার সকালে জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কস থেকে ৩টি বাস ১৫৩ জন তীর্থ যাত্রী সহ রওনা হয়ে প্রথমেই যাত্রা বিরতী করে নিউজার্সির নির্মানাধীন সুবিশাল ‘অক্ষরধাম’ মন্দিরে। ভক্তরা মন্দিরের নিয়মিত পূজা ও প্রার্থনায় অংশ নেয়। মন্দিরে প্রবেশের শুভ মুহুর্তে ভক্তগন উচ্চস্বরে হরিধ্বনি-উলুধ্বনি শংখধ্বনি করেন।
তারপর গাড়ি বহর যাত্রা শুরু করে ম্যারিল্যান্ড বাল্টিমোর হারবারের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি দিয়ে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ পরিবেশন করা হয়। পরন্ত বেলায় ভক্তগন বাল্টিমোর হারবার এর সৌন্দর্য সুধা অবলোকন করে এবং নিজেদের মাঝে কুশলাদি বিনিময় করে এবং ছবি তোলায় ব্যাস্ত সময় কাটান।
সন্ধ্যা ৮টা নাগাদ ভক্তগন ওয়াশিংটন কালী মন্দিরে (ম্যারিল্যান্ড) প্রবেশ করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের মন্দির অভ্যন্তরে অভ্যর্থনা জানান। উক্ত মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় ভক্ত সংঘের সাপ্তাহিক নিয়মিত গীতা সন্ধ্যা। ১০২২ তম গীতা সন্ধ্যায় গীতার ষোড়শ অধ্যায় ‘দৈবাসুর সম্পদ বিভাগ যোগ’ থেকে পাঠ করেন রুপকুমার ভৌমিক। কীর্ত্তন ও ভজন কীর্ত্তনে সবিতা দাস, সম্পা রায়, অজিত চন্দ, জয়শ্রী রায় প্রমুখ। মৃদঙ্গে সঙ্গীত করেন চিন্ময় সাহা। মহাপ্রসাদ ও প্রতিমা দর্শনের পর ভক্তগন মোটেলে রাত্রিযাপন করেন।
জুলাই ১০ রবিবার সকালে প্রাতঃরাশ গ্রহনের জন্য ভক্তগন লরে ক্যাভার্ন দর্শনের উদ্দেশ্যে ভার্জিনিয়ার পথে যাত্রা করেন। ১৮৭৮ খৃষ্টাব্দে আবিস্কৃত লরে ক্যাভার্ন ১৬৪.৫ ফুট ভূগর্ভস্থ একটি বিশ্বখ্যাত প্রতœতাত্বিক নিদর্শন যার বিস্তৃতি প্রায় ১.২৫ মাইল। দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকাল ৩টা অবধি ভক্তগন প্রায় ৬.৫ কোটি বছরের পুরনো ভূগর্ভস্থ প্রতœতাত্বিক লীলাদর্শনে মুগ্ধ সময় কাটান এবং পরে দুপুরের প্রসাদ গ্রহনের পর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
দীর্ঘ পথ পরিক্রমার একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করার জন্য নানা বয়সী তীর্থ যাত্রীগন ভজন-কীর্ত্তন দেশাত্মবোধক গান স্মৃতিচারণ করেন এবং অনাবিল আনন্দে মেতে থাকেন।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের নামের চেতনার সাথে মিল রেখে তিনটি বাসের নামকরন করা হয়- কৃষ্ণ, গোপাল ও গোবিন্দ। তিনটি বাসের সেবকের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে শ্যামল মল্লিক, তপন সেন, প্রনয় রায়, অজিত চন্দ, সুভাষ সাহা, রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, সুমন মিত্র, প্রনব কুমার রায় (রনো), অর্ধেন্দু কিশোর বিশ্বাস, অমরেন্দ্র নাথ দাস, অনুপ চৌধুরী ও পিযুষ কর্মকার। তীর্থ যাত্রীদের মাঝে যে পানীয় জল পরিবেশন করেন তা ‘মেট লাইফ ইন্সুরেন্স’র পরেশ সাহার সৌজন্যে।
তীর্থ যাত্রার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রদীপ কুন্ডু; কো-অর্ডিনেটর রঞ্জিত রায়; যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রদীপ সেন, নন্দন ভৌমিক, সুরঞ্জন বনিক, নিখিল সাহা ও শ্যামল মল্লিক।
তীর্থ যাত্রীগন ভক্তসংঘের সেবা ও ব্যবস্থাপনার প্রসংশা করেন। সামগ্রিক ভাবে তীর্থ ভ্রমন অত্যন্ত সুন্দর ও সফল ভাবে সমাপ্ত হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক প্রদীপ কুন্ডু; কার্যকরী পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুভাষ কুমার সাহা; সভাপতি সুরেশ চন্দ্র রায় ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র কুমার শীল।- বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here