হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র এর উদ্যোগে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ

0
109

07122016_04_HINDU_BOUDDHOনিউ ইয়র্কঃ ১০ই জুলাই রবিবার। ঢাকার গুলশানের হলি আর্টজান রেস্তোরায় রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলা, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জমায়েতে হামলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান পুরোহিত হত্যা ও অভূতপূর্ব সহিংসতার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউইয়র্কে সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু, বৌদ্দ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ, নর্থ আমেরিকা হিন্দু কাউন্সিল ও পুজা উযাপন পরিষদ । ১০ই জুলাই রবিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বলেন , সন্ত্রাসীদেরকে প্রশ্রয় না দিয়ে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা ধর্মের নামে মানুষ খুন করে, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে হত্যা, লুণ্ঠন ও ত্রাসের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষের উপর নির্যাতন চালায় তারা কিভাবে ধার্মিক হয় ?

বক্তারা বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পিছনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের ব্লেইম গেইম বা দোষারোপের রাজনীতি দায়ী বলে উল্লেখ করেন। এই বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলির কারনেই জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আস্তানা গড়ে তুলেছে। বক্তারা আরও বলেন, মৌলবাদীদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা কর্মীও হিন্দুদের বাড়ি ঘর, দেবোত্তর সম্পত্তি ও নারী নির্যাতন, জোর পূর্বক ধরমান্তরনের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।

প্রতিবাদ সভায় সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু পুরোহিত , সেবায়েত, যাজক ও বৌদ্দ ভিক্ষু হত্যায় সরকারের উদাসীনতায় সমালোচনা করা হয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাসের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে গুলশান হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিপুল জনসমাগমে এই সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি টমাস দুলু রায় ,সদস্য সচিব প্রদীপ মালাকার ,পূজা উযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর রায় ও নর্থ আমেরিকা হিন্দু কাউঞ্চিলের নেতা শ্যামল চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে ।

সমাবেশে প্রদীপ মালাকার বলেন প্রধান রাজনউতিক দল্গুলির অদূরদর্শিতা ও একে অপরের বিরুদ্ধে ব্লেইম খেলার সুযোগে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটার অন্যতম কারন। এক্ষুনি জঙ্গিবাদকে থামাতে না পারলে ভবিষৎতে জাতিকে চরম মাসুল দিতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন । ডাঃ টমাস দুলু রায় বলেন , মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকলকে এক মঞ্চে এসে কাজ করতে হবে এবং দুর্বার সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাজ থেকে জঙ্গিবাদের অভিশাপ দুর করা সম্ভব হবে। প্রদীপ দাস বলেন, একদা বাংলাদেশে ২৫% হিন্দু ছিল যা বর্তমানে ১% এসে দাঁড়িয়েছে। আজ পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা বিতাড়িত হয়েছে বলেই এখন মুসলমানরা মুসলমানদের মারছে। বাংলাদেশও হিন্দুশুন্য হলে বাঙ্গালী সংস্কৃতি বিলীন হয়ে যাবে। দেশের মুসলমানরা অবধারিত ভাবেই সন্ত্রাসীদের নিশানায় পরিনত হবে।

শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, জঙ্গিরা সব দলেই আছে। বাংলাদেশ খন্দকার মুশতাকের মতো ষড়যন্ত্রকারীরাদের অভাব কোনদিনও ছিল না, আজ ও নেই। প্রবীর রায় বলেন, সংখ্যাগুরু মুসলমান সম্প্রদায় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলে হবে না, সোচ্চার প্রতিবাদ জানাতে হবে। তা না হলে এই আক্রমনের ভুক্তভুগী একদিন তারাও হবে। সমাবেশ থেকে, আগামী ৭ই আগস্ট রবিবার হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করমসুচী ঘোষণা করে সকলকে ওয়াশিংটনে যাবার আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে উল্লেখযোগ্যদের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- গৌরাঙ্গ কুণ্ডু, দাউদকান্দি পৌরসভার সাবেক কমিশনার তাপস কৃষ্ণ সরকার, ডঃ দিলীপ নাথ, ধ্রব চক্রব্রতী, সুভাষ মজুমদার, স্বপন বনিক, সৌমিক, শুভাশিস রায়, অমর দাস, সহদেব তালুকদার, রমেশ নাথ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here