যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমকে বাঁচাতে টাকার বস্তা নিয়ে নিউইয়র্কে দৌড়-ঝাঁপ

0
280

07132016_01_USAL_RALLYএনআরবি নিউজ,  নিউইয়র্ক: ‘গুলশানে আর্টিসান ক্যাফে এবং সোয়ালাকিয়ায় ঈদ জামাতে সন্ত্রাসী হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল কিছু বিদেশী জিম্মি করে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মীর কাশেমকে মুক্ত করার। সেটি ব্যর্থ হওয়ার পর এখন টাকার বস্তা নিয়ে দেন-দরবারে নেমেছে মীর কাশেমের পুত্রসহ নিউইয়র্কে বসবাসরত স্বজনেরা। ১১ জুলাই তারা এখানকার ম্যানহাটানে একটি হোটেলে বৈঠক করেন। বৈঠকে জামাতের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকও ছিলেন। প্রবাসের নেতৃস্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি, চিহ্নিত কয়েকটি মিডিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে সর্বোচ্চ দেন-দরবারের পরিকল্পনা করা হয় এ সময়। এবাবদ যত অর্থের প্রয়োজন তা দেয়ার অঙ্গিকার করেন মীর কাশেমের পরিবার’-এ তথ্য প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে শেখ হাসিনা সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের সমর্থন এবং জঙ্গিবাদের হোতা হিসেবে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবিতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় সর্বস্তরের প্রবাসীরা এক মানববন্ধন করেন। ১২ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলের এ কর্মসূচির সঞ্চালনাকালে আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, ‘ইসরাইলি রাজনীতিক মেন্দি সাফাদির সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাল্পনিক বৈঠকের ষড়যন্ত্র যে মিডিয়া অফিসে হয়েছিল, সেই মিডিয়া এখন নবউদ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মীর কাশেম রক্ষা মিশনের মাধ্যমে। এই মিডিয়া বর্জনের সময় এসেছে।’

বিপুলসংখ্যক মহিলাসহ সর্বস্তরের প্রবাসীর উপস্থিতি ভিনদেশীদের দৃষ্টি কাড়ে। প্রায় সকলের হাতেই ছিল সন্ত্রাস নির্মূলের স্লোগান সম্বলিত পোস্টার-প্লেকার্ড। লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনার অঙ্গিকার-রুখতে হবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ’, ‘আমরা সবাই মুজিব সেনা-ভয় করিনা গ্রেনেড বোমা’, ‘ষড়ঙন্ত্রের কালো হাত-ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’, সেক্যুলার বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই নেই’, ‘মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নেই’ ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ ইত্যাদি।

সমগ্র কর্মসূচির সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সাথে ছিলেন বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীরা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, গুলশান রেস্তোঁরা এবং সোয়ালাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুদূর এ প্রবাসেও সর্বস্তরের বাঙালির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। যে কোন মূল্যে সন্ত্রাসে লিপ্ত এবং সন্ত্রাসের মদদদাতাদের নির্মূলের আহবান জানানো হয় সরকার সমীপে।

মানববন্ধনে বক্তৃতাকালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘মুজিবের বাংলায় রাজাকারের যেমন ঠাঁই নেই, একইভাবে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না।’ ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এই এগিয়ে চলাকে যারা সহ্য করতে পারছে না, তাদের মদদেই সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু হয়েছে। তাই ওদেরকে শক্তহাতে প্রতিহত করতে হবে’-বলেন সাজ্জাদ। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি বলেন, ‘একাত্তরের ঘাতক মীর কাশেমের বিচার ঠেকাতেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়া হয়েছে। তাই, একাত্তরের চেতনাতেই জামাত-শিবিরের আস্তানা গুড়িয়ে দিতে হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশকে ধর্মীয় সন্ত্রাস মুক্ত করতে প্রবাসীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামাত-শিবিরের অপতৎপরতা রুখে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা সকলে।’

যুক্তরাষ্ট্র উদীচির নেতা সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। একে রুখে দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।’বক্তাদের মধ্যে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, গণজাগরণ মঞ্চের মিনহাজ সাম্মু, চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট সরাফ সরকার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। নারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রমা ইসলাম, সেফু রহমান, মিনা ইসলাম, বাবলী হক, মেহের চৌধুরী, নেলী আলম, সুফিয়া খানম, হুসনে আরা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here