রোমাঞ্চকর বলিভিয়া অপেক্ষা করছে আপনারই জন্য! (পর্ব-১)

0
569
cropped-llamas-on-grassy-bolivian-altiplanoবিশ্বের নির্জনতম দেশগুলোর একটি বলিভিয়া। ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও বলিভিয়ার আছে এমন কিছু অনন্য সৌন্দর্য্যের সম্ভার যা আর কারও নেই, আর কোন দেশে নেই। চমৎকার সব প্রাকৃতিক দৃশ্য, ভিন্ন এবং অনন্য সংস্কৃতি, মজার মজার সব উৎসব, রঙ্গিন শহরগুলো, কেনাকাটার জায়গা সব মিলিয়ে বলিভিয়া আপনাকে দেবে ভিন্ন আমেজের আনন্দ।
আসুন জেনে নিই, বলিভিয়া ভ্রমণে মিস করবেন না যে জায়গাগুলো-
লেক টিটিকাকা
নীরব নিথর নীল জলের লেক টিটিকাকা। এটি শুধু বলিভিয়ার সবচেয়ে সুন্দর লেকই নয়, এটি বলিভিয়ার ট্রেজার্ড ল্যান্ডমার্ক এবং একই সাথে বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌবাহী লেক। ভ্রমণকারীরা এখানকার রিসোর্টগুলোতে অবস্থান করেন, উপভোগ করেন শান্ত নীরব লেকের সৌন্দর্য্য। অনেকে এক্সপ্লোর করতে পছন্দ করেন সমগ্র এলাকা যাকে মনে করা হয় ইনকা সাম্রাজ্রের বিস্তারের পটভূমি।
একটি নৌকা নিয়ে লেকের পানিতে ভেসে বেড়াতে পারেন আপনি। অসাধারণ প্রকৃতি, গ্রাম্র জীবন, চাষাবাদের দৃশ্য অনেক কিছুই চোখে পড়বে আপনার। সহজ নিরন্তর জীবনের ছন্দ মন কেড়ে নেবে। দেখতে পাবেন ইনকা সভ্যতার অনেক ধ্বংসাবশেষও। শুধু লেকটি নয়, পুরো এলাকাটি একটি চৌম্বক আকর্ষণ তৈরি করে যেন, একবার ভ্রমণের পর আর তা ভোলার নয়।
তিওয়ানাকু
ইউনেস্কো এই অঞ্চলকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে ২০০০ সালে। এটি একটি প্রি-কলাম্বিয়ান নৃতাত্ত্বিক সাইট, যার অবস্থান পশ্চিম বলিভিয়ায়। ইনকাদের গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি ছিল এখানে। এটি এখন পর্যন্ত স্থাপিত শহরগুলোর মাঝে সবচেয়ে পুরাতন, কিন্তু আধুনিক।
আজকের তিওয়ানাকু এক রহস্য। কবে কখন কিভাবে এর স্থাপনা হয়েছিল কেউ জানে না। শুধু নিদর্শনগুলো প্রমাণ করে এর প্রাচীনত্ব। বিস্ময়কর সেই সৃষ্টির মাঝে ঘুরে ঘুরে উপভোগ করতে পারেন সভ্যতার আদি সত্য, যখন মানুষের হাতে যন্ত্র বলতে ছিল শুধু নিজের হাত দুটি। মস্তিষ্ক খাটিয়ে প্রকৃতিকে ব্যবহার করে তারা সৃষ্টি করেছে কত কিছু, তার মাঝে হেটে বেড়ানো এক আশ্চর্য বিশ্বে প্রবেশের মতই রোমাঞ্চকর।
লা পাজ
বলিভিয়ার জনগোষ্ঠীর বর্নিল জীবন উপভোগ করতে পারেন এখান থেকে। আবিষ্কার করতে পারেন ঘুরে দেখার ম্পত অনেক কিছু, যোগ দিলে পারেন স্থানীয় উৎসবে। ভিন্ন এই সংকৃতির প্রতিটি জিনিসই হবে আপনার জন্য নতুন আনন্দময় অভিজ্ঞতা।
ইয়াঙ্গাস রোড
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সড়কগুলোর এটি একটি। এই সড়কে বাইক রাইড খুবই বিপজ্জনক কিন্তু রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। সড়কের নামই ‘Death Road’। পর্বতে পর্বতে ঘেরা, পর্বত কেটেই চলে গেছে পথ যেন বাতাসের মাঝে ভেসে চলেছে গাড়িগুলো। প্রচুর দূর্ঘটনটা তো ঘটেই এই সড়কে, ঘটে প্রচুর মৃত্যু।
তারপরও কাজের প্রয়োজনে যাওয়া স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি প্রচুর সাহসী ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে এখানে। ১৯৯৮ সালে ৩০ জন সাইকেল আরোহীর নিখোজ হওয়ার খবর মেলে। খবর আছে এমন আরও অনেক। আপনি বাইক রাইডে না গেলেও দেখে আসতে পারেন পথটি। ঘুরে আসতে পারেন কিছু এলাকা, যতটা নিরাপদ বলে ঘোষিত আছে সকলের জন্যই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here