যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ

0
228

07252016_08_US_BNPনিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় বক্তারা বলেন, দল করতে হলে, দলের নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। এসব না মানার কারণেই দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত, সাংগঠনিকভাবে দল দূর্বল। বক্তারা বলেন, দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি পরিচালিত হবে।

নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিটির জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত দলের এক নীতি-নির্ধারনী সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। গত ২১ জুলাই বৃহস্প্রতিবার রাতে স্থানীয় কুইন্স ভিলেজস্থ যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা ও সিটি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ হায়দার আলীর বাসায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সভাপতি আলহাজ সোলায়মান ভূঁইয়া, সামসুল ইসলাম মজনু ও মনজুর আহমেদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, বিএনপি নেতা ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম, চিত্ত রঞ্জন দত্ত, সাবেক ছাত্রনেতা মার্শাল মুরাদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ বাতেন, দিনাজপুর জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি’র সাবেক নেতা শাহীন খান, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিষদের সভাপতি এবং মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমান মুক্তি আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক পারভেজ সাজ্জাদ, নিউইয়র্ক সিটি যুবদলের সভাপতি বিলাল চৌধুরী, এডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন যুবদল নেতা এএফ মিসবাহউজ্জামান। খবর ইউএনএ’র।

সভার শুরুতে কেন্দ্রীয় নেতা মিলন সহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জ্যামাইকায় বসবাসকারী যুবদল নেতৃবৃন্দ। এরপর সভা আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুবদল নেতা শেখ হায়দার আলী।সভায় নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি গঠন বিষয়ে তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ডা. মুজিব-জিল্লু-জসিম প্রমুখদের কর্মকান্ড ও সভা-সমাবেশ, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি শরাফত হোসেন বাবুর বহিষ্কার, ইউএস সিনেটরদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিবৃতি প্রদানের অভিযোগে দলীয় চেয়াপার্সনের বিশেষ উপদেষ্টার পদ থেকে ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার ও এফ সর্দার সাদীকে প্রত্যাহার, কেন্দ্রীয় নেতা মিলন কর্তৃক চাঁদাবাজীর অভিযোগ প্রসঙ্গ, কাউন্সিলের মাধ্যমে ষ্টেট কমিটি গঠন ও সদস্য পদ গ্রহনের ফি সহ কোন কোন নেতার দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড আলোচনায় স্থান পায়। সভায় কোন কোন নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়।
সভায় শেখ হায়দার আলী বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তথা নিউইয়র্ক ষ্টেট কমিটিকে শক্তিশালী করতে চাই। সবার সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি কমিটি চাই।

এডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু বলেন, বিএনপি করতে হলে শহীদ রাষ্ট্রতি জিয়াউর রহমানকেই দলীয় পিতা মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। আমাদেরও যেমন একজন পিতা, তেমনি দলের মধ্যে ‘দ্বিতীয় পিতা’ মানা যাবে না। শাহীন খান বলেন, দিনাজপুরে ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি করে শুধু ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করিনি। সাধ্যমত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে সময় দেয়ার চেষ্টা করছি। তার বক্তব্যের সময় সভায় উপস্থিত এক যুবনেতা নিজের গুণগাণ নয়, দলীয় কর্মকান্ড নিয়ে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানালে সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় ডা. জাহিদ বক্তব্য নয় সভার মূল বিষয় নিয়ে সবাইকে আলোচনা করার অনুরোধ জানালে দু-একজন উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং সময় নিয়ে দলীয় সভায় যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানান। মার্শাল মুরাদ তার বক্তব্যে ‘ডা. মুজিব-জিল্লু-বাবু-জসিম’-দের সভায় যোগদানের ব্যাখা দিয়ে বলেন ‘ওদের সভায় না গেলে ওরা কি বলেন তা জানবো কি করে’। আমাদেরকে সবার কথাই শুনতে হবে, পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।

এই পর্যায়ে বিএনপি নেতা সামসুল ইসলাম মজনু কেন্দ্রীয় নেতা মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এজন্য তিনি বিএনপি নেতা মিলনকে এক পা পিছিয়ে এসে ডা. মুজিব-জিল্লুসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দল ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভক্তি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্য সভায় অবহিত করার অনুরোধ জানান। এরপর কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল হক মিলন তার যুক্তরাষ্ট্র মিশন ও তারেক রহমানের নির্দেশ-পরামর্শ তুলে ধরে নীতিদীর্ঘ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও তিনি ষ্টেট কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বিশেষ করে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটির গঠন ও তার কৌশল, দলকে চাঙ্গা করতে সদস্য ফি নির্ধারণ, তার বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজী প্রভৃতি বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, ডা. মুজিব-সম্রাট-জিল্লুরা আমাকে অবঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলেন। তাতে কি লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদারকে আমি সভাপতি বানিয়েছি। জিল্লুর রহমান জিল্লু দেশে এরশাদের জাতীয় ছাত্রসমাজ করতেন, তাকে আমার জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছি। তাদের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব। কিন্তু তারা কি করছেন। বহিষ্কৃতদের নিয়ে পাল্টা সভা-সমাবেশ করছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভক্ত করছেন। তিনি বলেন, আমার এখন মিশন একটিই, তাহলো নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি গঠন। এতে আমি সফল হবোই ইনশা-আল্লাহ।

প্রসঙ্গত মিলন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। সংগঠনের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে আব্দুল লতিফ সম্রাট আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জিল্লুর রহমান জিল্লুর অনেক দায়-দায়িত্ব রয়েছে। দলের নতুন কমিটি গঠনের দায় তাদের উপরই বর্তায়। আর দলের যে কোন সভায় সভাপতিত্ব করার প্রথম দাবীদার বিদায়ী সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটের। তবে দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সাবেক সভাপতিগণ পর্যায়ক্রমে সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করতে পারেন।
সভায় আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া বলেন, দলের যেকোন সভা-সমাবেশে আমরাই অর্থ যোগান দিয়ে থাকি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মুজিব-জিল্লুরা দলের জন্য কত অর্থ খরচ করেন তা আমরা জানি। আমরা দলের জন্য সবসময় ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

সভায় আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, দলের মূল শ্রোতের বাইরে গিয়ে যারা পাল্টা সভা-সমাবেশ করে, দলীয় নেতাদের সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন, তথা কথিত চাঁদাবাজীর অভিযোগ তুলেন তারা নি:শর্ত ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে দলের মধ্যকার চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভালো-মন্দ দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে হবে।

এর আগে সভায় নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি গঠন বিষয়ে নীতি-নির্ধারনী বিষয়ক মতামত খোলামেলাভাবেই উপস্থিত নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া সভায় উপস্থিত কেউ যদি নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির কোন পদে প্রার্থী হতে চান তাহলে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে পারেন বলেও জানানো হয়। এরপরই সভায় বক্তব্য রাখার সময় পারভেজ সাজ্জাদ সভাপতি পদে তার প্রার্থীতার ঘোষণা দেন। সূত্র মতে এই পদে বা নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পদে অন্য কেউ প্রার্থীতা ঘোষণা করেননি। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩/৪জন প্রার্থীর নাম দলীয় ফোরামে আলোচিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতা মিলনের তথা কথিত চাঁদাবাজী, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী নেতা-কর্মীদের অবস্থান, দলীয় সিদ্ধান্ত ও করণীয় সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হবে। সভায় অর্থ অতœসাৎ মামলায় তারেক রহমানের সাজার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় উল্লেখযোগ্য দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাকির এইচ হাওলাদার, আব্দুস সবুর, সৈয়দা মাহমুদা শিরীন, ডা. তারেক, শেখ আনসার আলী, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here