পায়রা সমুদ্রবন্দর, বিদেশি বিনিয়োগ নিতে সতর্কতা প্রয়োজন

0
207

010112kalerkantho-2016-08-09-S-11-1পটুয়াখালীর পায়রায় স্থাপিত হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। এ জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা কম থাকায় এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ নিতেই হবে। সেখানেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, জার্মানিসহ প্রায় এক ডজন বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগে আগ্রহী সব দেশের সঙ্গেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক। এখন কাকে রাখা হবে আর কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেটাই হয়েছে বড় সমস্যা। কোনো এক দেশকে রেখে অন্যদের বাদ দিলে তারা অসন্তুষ্ট হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো এক দেশকে নয়, বরং দেশগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম তৈরি করে এখানে বিনিয়োগ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এটাই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশে দুটি সমুদ্রবন্দর থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের বাণিজ্য হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নৌ চ্যানেলের গভীরতা। মাত্র ৯ দশমিক ২ মিটার গভীরতার কারণে বড় জাহাজ এই বন্দরে ভিড়তে পারে না। গভীর সমুদ্রে অবস্থানকারী বড় জাহাজ থেকে ছোট ছোট জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কারণে খরচও অনেক বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছিল। সেখানেও অনেক দেশ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছিল। তার পরও দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মালামাল পরিবহনের ব্যয় ও সময় বিবেচনায় নিয়ে পটুয়াখালীর পায়রায় আরেকটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। উপকূলসীমার মাঝামাঝি এই সমুদ্রবন্দর থেকে নদী ও স্থলপথে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মালামাল পরিবহনেও অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। তাই এ বন্দর নির্মাণের ওপর সরকার বেশি গুরুত্ব আরোপ করে, পরীক্ষামূলকভাবে বন্দরটি কাজও শুরু করেছে। এখন যেহেতু বিনিয়োগের ঘাটতি নেই, তাই যত দ্রুত সম্ভব গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। তার পরও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক হিসাব করেই এগোতে হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগর বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বঙ্গোপসাগরের রয়েছে অনেক বেশি উপযোগিতা। তাই এ বন্দরে বিনিয়োগের যে আগ্রহ তা যেমন অর্থনৈতিক কারণে, তেমনি ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে পরাশক্তিগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যও। সে ক্ষেত্রে আমাদের ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ তড়িঘড়ি যেকোনো সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। আমাদের যেকোনো সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। বন্দরের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ যেন কোনোভাবেই বহিঃশক্তির হাতে চলে না যায়, সে ব্যাপারেও দৃষ্টি রাখতে হবে। এসব বিবেচনায় আমরা মনে করি, কনসোর্টিয়াম বিনিয়োগের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটিই উত্তম হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here