প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল ১১ – দৈত্যের কজওয়ে, আয়ারল্যান্ড

0
41
418055-1000-1452074284-2048মানুষ রহস্য ভালবাসে। অদ্ভুত, বিস্ময়কর বিষয়কে ভয় পেয়ে মানুষ কখনো পিছিয়ে যায় না। মানুষের অনুসন্ধিৎসু মনের কারণেই এত এত সৃষ্টি রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি অনেক ‘কেন?’ এর উত্তর। কিছু সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন হলেও যেন বিস্ময় কাটে না। মন বিজ্ঞান মানতে চায় না, অনেক রকম গল্প তৈরি হয় সৃষ্টিকে ঘিরে। তাই স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক গঠনের নাম হয়ে যায় দৈত্যের কজওয়ে। আসুন জেনে নিই এর সম্পর্কে।
পর্যটক এবং বিজ্ঞানী উভয়ের কাছে বিস্ময় দৈত্যের কজওয়ে বর্তমানে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে অষ্টমাশ্চর্য বলেও আখ্যায়িত করা হয়। অদ্ভুত পাথুরে গঠনের কারণে আলাদাভাবেই নজর কাড়ে জায়গাটি। তাই আয়ারল্যান্ড ভ্রমণে কজওয়ে একটি অবশ্যই দেখার মত জায়গা হিসেবে তালিকায় থাকে সবার।
তবে সমূদ্রের তলদেশ থেকে পাথুরে কলামগুলোর উঠে আসা প্রকৃতপক্ষেই বিস্ময়কর। কজওয়েটি ৪০ হাজার বিশাল হেক্সাগোনাল আকৃতির কলামের সমষ্টি। এনটিম উপত্যকায় রহস্যজনকভাবে পানির নীচ থেকে উঠে আসে কলামগুলো এবং বিশাল এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় এই কজওয়ে।
১৬৯২ সালে বিশপ ডেরি এই কজওয়েটি আবিষ্কার করেন। তিনি লন্ডন এবং ডাবলিনের বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি জানান। দ্রুতই এটি নিয়ে একটি বিতর্ক শুরু হয় যে, কিভাবে এটির সৃষ্টি হল। অনেকে ভাবতে শুরু করেন এটি মানুষের তৈরি, অনেকে ভাবেন এটি ঈশ্বরপ্রদত্ত। ১৭০০ সালে এটি বিশ্বের অষ্টম প্রাকৃতিক আশ্চর্য হিসেবে জায়গা করে নেয় এবং সারা বিশ্ব থেকে প্রতিবছর হাজারো দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মে জায়গাটিতে পর্যটকদের ভীড় জমে বেশী।
১৮০০ সালে স্থানীয় ধনী ব্যক্তিরা কজওয়েটি সর্বসাধারণের প্রবেশ থেকে দূরে রাখে। তারা একটি প্রবেশমূল্য নেওয়া শুরু করে। বিভিন্ন কেস চলার পর কোর্টের রায় হয় যে কজওয়েটি সবার জন্য উন্মূক্ত হতে হবে। এখন আপনি বিনামূল্যেই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন এবং উপভোগ করতে পারবেন পৃথিবীর এক আশ্চর্য সৃষ্টির রহস্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here