সাইপ্রাস ভ্রমণ (পর্ব-১)

0
47
kourionমেডিটারিয়ান সমূদ্রের একেবারে পূর্বে অবস্থিত সাইপ্রাস একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। কিংবদন্তি বলে, সাইপ্রাস গ্রীক দেবী আফ্রোদিতির জন্মস্থান। কেন প্রাচীন মিথলজি তাদের প্রেমের দেবীর উথানের জন্য বেছে নিল এই দেশকে? কারণ এর আবহাওয়া প্রেমেরই অনুকূল! মৃদু আরামদায়ক জলবায়ু, চমৎকার বিচ, বনে ঢাকা পাহাড় আর ঘন সবুজ ভ্যালির সাইপ্রাস একটি রোমান্টিক ছুটি কাটানোর জন্য দারুণ জায়গা।
তবে শুধু প্রেমিকযুগলের জন্য নয়, সাইপ্রাস ইতিহাসপ্রেমীদের জন্যও একটি চমৎকার জায়গা। বিভিন্ন নৃতাত্বিক দর্শনীয় এলাকা তো আছেই, দেখতে পাবেন প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, জানতে পারবেন সভ্যতার বিকাশ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের এই দীর্ঘ পথের নানান জানা-অজানা মজার তথ্য। স্বাদ নিতে পারবেন জিভে জল আনা মজার সব খাবারের। ঘুরে দেখার জন্য অবশ্যই তালিকায় রাখুন এই জায়গাগুলো-
কৌরিয়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাচীন এই শহরটি ১৩ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু এর পঞ্চম শতকের Greco-Roman ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের বেশী আকর্ষণ করে। এটি লিমাসল শহরের কাছাকাছি অবস্থিত, পাহাড়ের উপরে। এখান থেকে দেখা যায় এপিস্কোপি বে, টাম্বল হোমস, টেম্পল সহ পুরো কৌরিয়ন শহর। ২ হাজার বছর আগের সাইপ্রাসকে চিনতে হলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন কৌরিয়ন। এপোলোর প্রাচীন মন্দির, একটি এম্ফিথিয়েটার, এগোরা, বিশালা স্নানাগার সব মিলিয়ে কৌরিয়ন ইতিহাসের একটি খোলা বই।
কলসি ক্যাসল
সাইপ্রাসের দক্ষিণ টিপের কাছে এর অবস্থান। দূর্গটি ৩ তলাবিশীষ্ট, মিলিটারি দূর্গ হিসেবে এর নির্মাণ হয়েছিল মধ্যযুগে। ১৩ থেকে ১৪ শতকে দূর্গটি হসপিটালারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল যাকে বলা হত নাইটস অব সেন্ট জন। এর পর দূর্গটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতিপক্ষ নাইটস টেমপ্লারের হাতে। দূর্গটির পাথুরে দেয়াল, স্পাইরাল সিঁড়ি যা আপনাকে নিয়ে যাবে দূর্গের ছাদ অব্দি তার সবই আপনাকে মুগ্ধ করবে। ছাদ থেকে উপভোগ করতে পারবেন আঙ্গুরক্ষেতে ঢাকা উপদ্বীপ আর মেডিটারিয়ান সমুদ্রের নীল জলরাশির সৌন্দর্য্য।
ওমোডোস গ্রাম
নিকোশিয়া শহরের কাছে ট্রূডোস পর্বতের কাছে এর অবস্থান। ওয়াইন ভক্ত পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ এই শহরটি। বিভিন্ন ওয়াইনের স্বাদ নিতে হলে অবশ্যই যাবেন এখানে। তাছাড়া প্রাচীন শহরের কব্লেড পথ, পাথরের বাড়ি এবং সবুজ বাগান এক্সপ্লোর করতেও ভাল লাগবে আপনার। শহরটি একই সাথে ভীষন সুন্দর, চোখ জুড়িয়ে দেয় এর মনোমুগ্ধকর রূপ। ১৭ শতকের মন্দির আর মিউজিয়ামগুলোও অবাক করবে আপনাকে, বিশেষ করে ভবনগুলোর ভিন্নধর্মী কাঠের কার্ভিং দেখার মত চমৎকার বটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here