নিউইয়র্কে ঘাতকের ছুরিকাঘাতে খুন হলেন বাংলাদেশী নাজমা

0
211

Nazma Khanamবর্ণমালা ডেস্ক : ইমাম আকুঞ্চি ও তারা মিয়া হত্যাকান্ডের রেশ না কাটতেই নিউইয়র্কে দুর্র্র্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আরেক বাংলাদেশীর নারীর। ৬০ বছর বয়েসী বাংলাদেশী নাজমা খানমকে উপর্যূপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে ৩১ আগস্ট বুধবার রাত সোয়া ৯টায় নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকা হিল্্স এলাকায়। নিজ বাসার দুই‘শ গজের মধ্যে ১৬০-১২ নরম্যাল রোডে নাজমা খানমকে হত্যা করা হয়। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় নাজমা খানম আক্রান্ত হন। শতগজ পেছনেই হাঁটছিলেন তার স্বামী শামসুল আলম।
১৭ দিনের ব্যবধানে দুটি ঘটনায় তিন বাংলাদেশী খুন হওয়ায় নিউাইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এখন জনার্কীর্ণ এলাকায় একা চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন। রাতের শিফটে যারা কাজ করছেন তারা প্রতি মুহূর্ত মৃত্যুভয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বলছেন নিকটজনকে।
পুুলিশ জানায়, ‘আমাকে মেরে ফেললো, বাঁচাও-বাঁচাও’ নাজমা খানমের এমন আর্ত চিৎকারে স্বামী দৌড়ে কাছে আসার আগেই দুর্বৃত্ত সটকে পড়ে। তার স্বামী ভেবেছিলেন যে, তার স্ত্রী হয়তো ছিনতাইকারির কবলে পড়েছেন। কিন্তু কাছে এসে দেখতে পান যে, বুক থেকে রক্ত গড়াচ্ছে। সাথে সাথে ফোন করেন পুলিশকে। দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এসে নাজমা খানমকে অনতিদূরের জ্যামাইকা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশনের সদস্য ট্রানজিট পুলিশ মোহাম্মদ কবিরের খালা নাজমা খানমের ঘাতকের সন্ধানে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে।
নাজমা খানম ৩ সন্তানের মা। তার এক সন্তান নিউইয়র্কে এবং অপর দু’জন থাকেন বাংলাদেশে।
গত ১৩ আগস্ট এই এলাকার কাছাকাছি দূরতের¡ ওজনপার্কে গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশী ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আরুঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথী তারা মিয়া (৬৪)কে। ঐ হত্যাকান্ডের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামক এক হিসপ্যানিককে। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এক কৃষ্ণাঙ্গ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ঢুকে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের উপর আক্রমণ করে। তার আক্রমণের শিখার হয়ে বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূঁইয়ার বাঁ কান ফেটে যায়। এসব ঘটনা স্পস্টভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হলেও নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বাংলাদেশীদের উপর ক্রমাগত হেইট ক্রাইমকে ’হেইট ক্রাইম’ হিসাবে স্বীকার না করায় সাধারন প্রবাসীরা বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
নাজমা খানমের আরেক ভাগ্নে মোহাম্মদ রহমান দাবি করেন, ‘তার খালাকেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মনোভাব থেকে হত্যা করা হয়েছে। এটিও হেইট ক্রাইম।’ ‘কারণ তিনি মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। এছাড়া, তার কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্তটি।’
তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে তা স্বীকার করেননি। তারা বলেছেন, ‘এক্ষুণি হেইট ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করার মত কিছুই উদঘাটিত হয়নি।’ উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইমামসহ দুই বাংলাদেশীকে হত্যার ঘটনাকেও ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশীসহ মুসলিম আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। তারা তাদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
অকুস্থলে এবং তার আশপাশের সিসিটিভিসহ সবকিছু পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জানা গেছে। নাজমা খানমের নৃশংস হত্যাকান্ডের সংবাদ মূলধারার সবকটি টিভি এবং দৈনিকে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।
ইমাম হত্যাকান্ডের ১৭ দিনের ব্যবধানে অকারণে আরেক বাংলাদেশীকে হত্যার ঘটনায় প্রবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক এলাকায় লক্ষাধিক বাংলাদেশী বাস করছেন। সকলেই বাংলাদেশী পোশাকে চলাফেরা করেন। জাতিগতভাবে বাঙালিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিজেদের অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। ‘এতদসত্বেও চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না’-মন্তব্য কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আকবর হোসেনের। এই এলাকায় ১৫ বছর যাবত বসবাস করছেন আকবর। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় একেবারেই অপরিচিত লাগছে এলাকাটি।’
নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, ঘাতকের গ্রেফতারে সহায়তার জন্যে। কেউ কিছু জানলে তা যেন ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানান, সে আহবানও জানানো হয়েছে। – তথ্যসূত্র: এনআরবি নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here