এডমন্টনে সর্বজনীন দুর্গাপূজা

0
217

দেলোয়ার জাহিদ
এডমন্টনে প্রতি বছরের মতো এ বছরও মহাধুমধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে,আসন্ন এ দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। এ আয়োজন থাকছে পূজা, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালি কমিউনিটির সদস্যগণ এসব অনুষ্ঠানমালার আয়োজন ও অংশগ্রহন করে থাকেন। এডমন্টনে এ উপলক্ষে কমিউনিটিতে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন প্রতিবছরই পূজাত্তোর পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
20151022_134223আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবারই সহযোগিতা কামনা করা হয়। শরৎকালের সাদা কাশফুল,মেঘ, ও স্বচ্ছতোয়া নদী হয়ে মর্ত্যে আগমন করেছিলেন দেবী দুর্গা। শুক্লপক্ষে ভক্তের অকাল বোধনে মা দুর্গা,লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, কলা-বৌ এবং মাথার ওপর শিবকে নিয়ে আগমন করেন পূজামণ্ডপে। সঙ্গেথাকে অসুর, কার্তিকের বাহন ময়ূর, দুর্গার বাহন সিংহ, লক্ষ্মীর পেঁচা, গণেশের ইঁদুর, এবং সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস।
বাংলাদেশে এটি বাসন্তী পূজা নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৬) রাজত্বকালে বাংলায় মহাধুমধামে ও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপূজার প্রচলন করেন রাজশাহী জেলার তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ। রাজসিক বলে খ্যাত দুর্গাপূজা মূলতঃ রাজা, জমিদার এবং সচ্ছল পরিবারেইমধ্যেই পালনের প্রচলন ছিল। আয়োজকও ছিলেন সামর্থবান মানুষেরা। গ্রামের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেতে উঠতেন আনন্দ উৎসবে।
প্রবাসে দুর্গাপূজা আয়োজনের শেকর বাঙ্গালী সংস্কৃতির গভীর থেকে আসা। পূজাকালে গ্রাম বাংলায় সন্ধ্যা-আরতির পর শুরু হতো কবিগান, নর্তকী-বাইজির জলসা, যাত্রাপালা, গান-বাজনা, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর,এবং সেসাথে বসত বর্ণাঢ্য মেলা। উৎসব চলত মাসব্যাপী. এরমধ্যে পাঁচ দিনের পূজা, আর্থিক কারণেই সবাই মিলে চাঁদা তুলে এখন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।
মা দুর্গাকে দুর্গতিনাশিনী বলে মনে করা হয়। সব অশুভ শক্তি বিনাশ করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক দশভুজা দুর্গাদেবী। আজও অশুভ শক্তি বিরাজমান সর্বত্র। কালের বিবর্তনে এর রূপ হয়তো ভিন্ন হতে ভিন্নতর হয়েছে। এ অশুভ শক্তি বিনাশে ঐক্যের প্রেরণায় একত্রিত হবার আহবান নিয় আসে দুর্গাপূজা। সংঘ গড়ে তুলতে প্রেরণা নিয়ে এবং এ সংঘ-শক্তির মাধ্যমে অসুরকে পরাজিত করতে উৎসাহ যোগায়। এ বিশ্বাসেই প্রতি বছর বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় আকাল বোধনে দশভুজা মা দুর্গার আরাধনা করেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমরা সবাইকে, বিশেষত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, শারদীয় দুর্গোৎসবের মতোই আনন্দে, উৎসবে রঙিন হোক তাদের আগামী জীবনেরদিনগুলো।
ছবি:বঙ্গ সোসাইটি অব আলবার্টার (দুর্গাপূজা ২০১৫) আনুষ্ঠানে সংগঠক/আয়োজকদের একাংশ ও শিল্পীবৃন্দের সাথে প্রতিবেদক।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here