১১৮ বছরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঝড়ের শঙ্কায় ফ্লোরিডা: আতঙ্কে বাংলাদেশীরাও

ফ্লোরিডার মায়ামি এয়ারপোর্ট
ফ্লোরিডার মায়ামি এয়ারপোর্ট

বর্ণমালা ডেস্ক: মিয়ামি বীচ, হাইতি, ডমিনিকান রিপাবলিকসহ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে মানবিক বিপর্যয় তৈরি এবং গত বৃহস্পতিবার বাহামা দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় আছড়ে পড়ার পর এবারআমেরিকার দিকে এগুচ্ছে প্রচন্ড শক্তিতে হারিকেন ম্যাথিউ। হারিকেনটি এখন তীব্রতার দিক দিয়ে বিপজ্জনক ৪ মাত্রার ঝড় হিসেবে (পাঁচটি পর্যায়ে হারিকেনের তীব্রতা নির্ণয় করা হয়)  ফ্লোরিডার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৭ অক্টোবর শুক্রবার হারিকেনটি ফ্লোরিডা স্টেটের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ১০ বছরের মধ্যে আমেরিকায় সরাসরি এতো বড় ধরনের ঝড় আঘাত হানেনি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। আর ফ্লোরিডায় ১১৮ বছরের মধ্যে এতো শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ। ‌
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে এরইমধ্যে ফ্লোরিডার দুটি কাউন্টিতে শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে হারিকেন সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

ফ্লোরিডার পামবীচ এলাকায় বসবাসরত: প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশী নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্ণমালার সাথে টেলিফোনে ফ্লোরিডার বাংলাদেশী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই অন্যান্য কমিউনিটির মত বাংলাদেশীরা ঘরে অবস্থান নিয়ে হ্যারিকেন মাথ্যুউকে মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন।তরা ঘরে ঝড় প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে জানলা-দরজা কাঠ ও স্টীলের পাত দিয়ে সীল করেছেন বলে জানান ফজলুর রহমান।

পাশ্ববতী ডে টোনার বাসিন্দা খোরশেদ হোসেন হিটু জানান একানে শতাধিক বাংলাদেশী বসবাস করেন এবং তারা বিকেল থেকেই ঘরে অবস্থান করছেন। হিটু জানান, তাদের এলাকায় রাত দুটার পর ঝড় আঘাত হানতে পারে।

উল্লেখ্য, হাইতির উপকূলে গত মঙ্গলবার আঘাত হানে শক্তিশালী হারিকেন ম্যাথিউ। হারিকেনের আঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত হাইতিতে ২৮৩ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। ম্যাথিউর তাণ্ডবে হাজহার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ২০১০ সালে হাইতির ভূমিকম্পের পর এবারের হারিকেনকে দেশটির সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। হাইতির পর বৃহস্পতিবার বাহামা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে ম্যাথিউ। সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুক্রবার ৪ মাত্রার ঝড় হিসেবে ম্যাথিউ ফ্লোরিডা উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।হারিকেনের তীব্রতার মাত্রার দিক দিয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রা। সেসময় ১১ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিয়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের উপ পরিচালক সিএনএন-কে বলেন, ‘হারিকেন পরবর্তী জলোচ্ছ্বাসের কারণে বেশিরভাগ প্রাণহানি হয়ে থাকে বলে আমরা জানি।’ এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে ১১০ মাইলেরও বেশি বেগে হারিকেন উইলমা যুক্তরাষ্ট্র উপকূলে আছড়ে পড়েছিল।
জেফ মাসটার্স নামে এক হারিকেন বিশেষজ্ঞ তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন ম্যাথিউর কারণে কেপ ক্যানাভারাল এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ এলাকাটিকে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী মহাকাশ যান উৎক্ষেপণের প্রাথমিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। সতর্কতা পাওয়ার পর কর্মী ও যন্ত্রপাতির সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছে নাসা।

হারিকেন ম্যাথিউ মঙ্গলবার ক্যারিবীয় সাগর থেকে উৎপত্তি হয়ে সরে গিয়ে হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকে সজোরে আঘাত ঝড়টিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এর প্রভাবে বাহামা ও ফ্লোরিডা উপকূলেও ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তীব্রতা অনুযায়ী ঝড়টিকে ‘ক্যাটাগরি ৪’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টিপাত নিয়ে হারিকেনটি বৃহস্পতিবার হাইতিতে আঘাত হানে। এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য দেশটির বহুল প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here