জামাতে ইসলামকে নিষিদ্ধ না করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব নয়

আটলান্টিক কাউন্সিলের বৈঠকে শাহরিয়ার কবির

shahriar_kabir10042016_04_একাত্তরের ঘাতক দালালদের যখন স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা হচ্ছে তখন দেশে এবং বিদেশে জামাতীদের পয়সায় কেনা ব্যাক্তি ও প্রতিষ্টানগুলি নানান প্রশ্ন তুলে ব্যর্থ চেষ্টা করে লম্পজম্প করার চেষ্টা করছে।একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির যুক্তরাষ্ট্রে সফরে এসে উক্ত মন্তব্য করেন। তিনি নর্থ ক্যারোলিনা, বোস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, ম্যারিল্যান্ড এবং নিউইয়র্কে এক ঝটিকা সফরে এসে তার পরিচালিত ‘জার্নি টু জাস্টিস’ প্রামাণ্যচিত্রের একাধিক প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী ও তাদের দোসর আলবদর, আলশামস, রাজাকারদের অত্যাচারের এবং নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরা হয় ‘জার্নি টু জাস্টিস’ প্রামাণ্যচিত্রে।
গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থেকে প্রামাণ্যচিত্রটি দেখেন এবং মুক্তিযুদ্ধ, জামাত, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা জানতে চান এবং লেখক সাংবাদিক ও পরিচালক শাহরিয়ার কবির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।পরেরদিন ম্যারাথন বৈঠক করেন শাহরিয়ার কবির। সকালে সেন্টার ফর ইঙ্কয়ারির প্রতিনিধি মাইকেল দে ডোরার সাথে বৈঠকে শাহরিয়ার কবির জানান জামাতে ইসলাম ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলি স্কুল মাদ্রাসার নাম করে সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশ থেকে টাকা এনে দেশে জঙ্গী তৈরী করছে এবং সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশের উন্নতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসময় মাইকেল দে ডোরা দেশের সাম্প্রতিক কালে সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে চাইলে শাহরিয়ার কবির জানান দেশে আজ সংখ্যালঘু, ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক কেউ জামাতে ইসলামের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এবং তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
দুপুরে জনাব শাহরিয়ার কবির আটলান্টিক কাউন্সিলে এক রাউন্ড টেবিল বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাউথ এশিয়া সেন্টারের প্রাক্তন ডাইরেক্টর সুজা নেওয়াজ, এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর ব্যান পলস্কি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাইদ রানা, জন হপকিন্স স্কুলের দিয়া আরিয়ানা, ব্রিটিশ দূতাবাসের ক্রিস্টিনা বিয়াদ, শেডি গ্রোভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাবিন রবিনসন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত উলিয়াম মাইলাম সহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রায় ২৫জন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি। বৈঠকে জনাব শাহরিয়ার কবির দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেন এবং বলেন জামাতে ইসলামকে নিষিদ্ধ না করে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব নয়। তিনি বলেন পাকিস্তানের দোসর জামাতে ইসলাম বাংলাদেশে সকল সন্ত্রাসের গডফাদার এবং জামাতে ইসলামকে সন্ত্রাসী দল ঘোষণা করার দাবী জানান। প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রতিনিধি জানতে চান জামাতের ইসলামের দুইজন নেতা যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির কথা উঠেনি, তাহলে কেন তাদের বিচার করে রায় কার্যকর করা হচ্ছে? উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন জামাতে ইসলামের সদস্যদের ৭১ সালের ঘৃণ্য কৃতকর্মের জন্য অর্থাৎ হত্যা, ধর্ষণ, লুঠতরাজ এবং অগ্নিসংযোগের কারণে বিচার হচ্ছে। আর অর্থের দুর্নীতিরতো তাদের প্রয়োজন নেই কারণ এই জামাতীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ তাদের সমমনাদের কাছ থেকে অর্থ এনে দেশে গড়ে তুলেছে ব্যাংক, বীমা, হাসপাতালসহ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই ব্যবসার মুনাফার টাকা দিয়ে তারা জেহাদের নামে সারা দেশে জঙ্গী তৈরি করছে, সন্ত্রাসবাদ করছে আর মুক্তমনা লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সংখ্যালঘুদের হত্যা করছে। তাদের দুরভিসন্দি চরিতার্থ করার জন্য জামাত নেতা নিজামী মন্ত্রী থাকাকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি হাজার হাজার জামাতী কর্মীদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাকুরী দিয়ে বসিয়েছেন অর্থাৎ অর্থের দুর্নীতি না করলেও অনৈতিক ভাবে চাকুরী দিয়ে দুর্নীতি করেছেন তাতে কোন সন্দেহের কারণ নেই। তিনি জানান বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনে বদ্ধ পরিকর এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশকে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ ও তার সরকারের পাশে থাকার অনুরোধ জানান। এসময় তিনি ২৫শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবীও জানান।
সন্ধ্যায় তিনি ইউরোএশিয়া গ্রুপ এবং ইয়াং ইন্ডিয়া পলিসি ফোরামের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশকে একটি জামাত ও জঙ্গিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও কারণ ব্যাখ্যা করেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের দুই সপ্তাহের উক্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সভা, বৈঠক ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে সংগঠনের নিউইইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহীম রেজা নূর ও সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় টিভিতে এক সাক্ষাৎকার দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here