শেষ বিতর্কেও জয়ী হিলারি

 

তৃতীয় বিতর্কে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

তৃতীয় বিতর্কে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ডেস্ক রিপোর্ট :আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্ব াচ পূর্ব তৃতীয় ও শেষ মুখোমুখি বিতর্কেও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথী হিলারি ক্লিনটনের কাছে পরাজিত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন/ওআরসির জরিপের ফলাফলে এমনটাই বলা হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ দর্শক মনে করেন, হিলারি জয়ী হয়েছেন। ৩৯ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প জয়ী।সিএনএন/ওআরসির জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় বিতর্কেও হিলারি জয়ী হয়েছিলেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই দুই প্রার্থী  গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ক্যালিফেঅর্নিয়ার লাস ভেগাসে তৃতীয় দফা মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেন। এবারও তাঁরা যথারীতি পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন।

৯০ মিনিটের বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন ফক্স নিউজ সানডের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস। সিএনএনসহ অধিকাংশ ইউএস টিভি নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে এই বিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে শুধু উপস্থাপকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিতর্ক মঞ্চ ত্যাগ করেন হিলারি ক্লিনটন।
ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে শুধু উপস্থাপকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিতর্ক মঞ্চ ত্যাগ করেন হিলারি ক্লিনটন।

বিতর্ক শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে শুধু উপস্থাপকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিতর্ক মঞ্চ ত্যাগ করেন হিলারি ক্লিনটন।

এর আগে আগ্নেয়াস্ত্র, গর্ভপাত, মাইগ্রেশন ও ট্যাক্স নিয়ে বেশ তেতো আলাপ চলে ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে। হিলারি আগ্নেয়াস্ত্র, গর্ভপাত, মাইগ্রেশন ও চলতি ট্যাক্স ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে এই বিষয়গুলো নিয়ে তীব্র সমালোচনরা পাশাপাশি হিলারিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে ট্রাম্প। প্রতি উত্তরে হিলারিও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ট্যাক্স প্রদান বিষয়টি সামনে আনে এবং এ ছাড়াও গর্ভপাত ও মাইগ্রেশন বিষয়ে বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্যের সমালোচনা করেন।

আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ওবামা সরকারের আইন প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে এবারের নির্বাচনে। আর সে কারণেই এবারের নির্বাচনে হিলারির সঙ্গে শেষ বিতর্কে মুখোমুখি হলে এই বিষয়ে প্রথম প্রশ্ন করা হয় ট্রাম্পকে। এর উত্তরে ট্রাম্প বেশ স্পষ্টভাবেই তার অবস্থান জানান।
ট্রাম্প এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন করে আপনি কি করবেন। এই রাষ্ট্রে সবচাইতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করা হয়েছে শিকাগোতে। অথচ সেখানেই অস্ত্র ব্যবহারে বছরে সবচাইতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। আমি মনে করি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন করে এ বিষয়ে কোন উপকার পাওয়া যাবে না।
এদিকে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে হিলারি বলেন, আমাদের দেশে এই বন্দুক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি বছর ৩৩ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আর সে কারণেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। অবশ্য হিলারির দেয়া তথ্যটি মূলত ২০১৪ সালের একটি পরিসংখ্যান থেকে নেয়া। বর্তমান পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ।পরিসংখ্যান থেকেপাওয়া তথ্যে জানা গেছে বন্দুক ব্যবহার করে নিহতের ঘটনাগুলোর শতকরা ৬৩ ভাগই আত্মহত্যার ঘটনা।
সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেসের গর্ভপাত বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে- একে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত অধিকার বলে মন্তব্য করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, আমি মনে করি প্রত্যেক নারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত এটি। আর তা নেয়ার অধিকার তাদের আছে।
এর আগে ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে গর্ভপাত না করার পক্ষে অবস্থান নেবেন। গর্ভপাত না করার বিষয়ে বিভিন্ন আদালতের দেয়া রায়গুলো টিকে থাকবে বলেই মত দেন তিনি।
এর উত্তরে হিলারি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, গর্ভপাতের জন্য নারীদের শাস্তি হওয়া উচিত। সে আসলে কোন যুগে বাস করছে আমি জানি না। আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে ট্রাম্প হিলারির বক্তব্যের সমালোচনায় বলেন, একজন মায়ের গর্ভ থেকে তার বাচ্চাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে ফেল হিলারি সমর্থন করতে পারে। কিন্তু আমি পারি না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here