বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ও অসারতা

বাংলাদেশের বাইরে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় সামাজিক সংগঠন নিউইয়র্কের ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার ২৩ অক্টোবর। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের প্রচারণা, প্যানেল ভাঙ্গা-গড়ার খেলা
editorial-logo20000শেষে সোসাইটির ইতিহাসে ব্যয়বহুল ও নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রাথীদের গ্যাঁটের পয়সায় ভোটার বানিয়ে সেই ভোটারদের বাড়ী বাড়ী থেকে তুলে ভোট কেন্দ্রে এনে ভোট নেয়ার অভিনব নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সোসাইটির ক্ষমতা দখলের এই প্রচেষ্ঠায় গুটি কয়েক বাংলাদেশী সংশ্লিষ্ট থাকলেও তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ও আচার আচরন পুরো দেশী কায়দার। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা যদিও দাবী করেন তারা প্রবাসে বাংলাদেশীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু দেখা যায় সোসাইটি যা যা করার দাবী করে তার সবই ছোটখাটো আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও করে থাকে। বিয়াল্লিশ বছর আগে একটি ঘরোয়া সংগঠনের আদলে গড়ে উঠেছিলো বাংলাদেশ সোসাইটি ১৯৭৪ সালে। তখন কয়েক‘শ বাংলাদেশীর বসবাসের শহর নিউইয়র্কে গড়ে উঠা সংগঠনটি আজ প্রায় তিন লক্ষ বাংলাদেশীর সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না কারন এর গঠনতন্ত্রের সীমাধদ্ধতার কারনে। একটি ১৯ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠনের জন্য ২ বছর পর নির্বাচন আর নির্বাচিত কমিটির কিছু লোক দেখানো অনুষ্ঠান আয়োজনের ফাঁকে হয়তো কখনও কখনও কিছু সেবামূলক কাজ করা। কিন্তু গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে একে সত্যিকার অর্থে প্রবাসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার কোন উদ্যোগ কখনও নেওয়া হয়নি। হয়নি যখন ডাক্তার-ফার্মাস্টিরা সামনের সারিতে থেকে একে নেতৃত্ব দিয়েছেন অথবা তাদের হাত থেকে অপেশাজীবিরা ক্ষমতা দখলের পর।
ভোটে জেতার জন্য ভোটের বছর নিজের পয়সায় ভোটার বানানোর অভিনব পদ্ধতি বাদ দিয়ে নিউইয়র্কের ৩ লক্ষ বাংলাদেশীকে এই সংগঠনের সাধারন সদস্য করার বিষয়টি বাস্তবায়িত করতে পারলে এই সংগঠনের মাধ্যমে আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি তার সব চাওয়া-পাওয়া ও দাবী দাওয়া আদায় ও তুলে ধরতে পারতো সিটি, স্ট্টে ও ফেডারেল প্রসাশনের কাছে। এটি এর নেতাদের অনেকেই বোঝেন কিন্তু তারা সে পথে যেতে চান না।
একটি নন প্রফিট সংগঠনের তিন লক্ষ সদস্য থাকলে সেটি যে ক্ষমতধর সংগঠন হতে পারতো তা যেদিন উপলদ্ধি করতে পারবেন এই সংগঠন নিয়ে যারা খেলাধূলা করেন, সেনি হয়তো বাংলাদেশ সোসাইটি সত্যিকার অর্থে শুধু আমেরিকায় নয় সারা বিশ্বে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তখন দলীয় নয় সোসাইটির মত জনসম্পৃক্ত সংগঠনের সমবর্ধনা নিতে নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here