ঘুরে আসুন পানির তলার পৃথিবী থেকে (পর্ব-২)

0
184

buckপৃথিবীর মাটি আর আকাশের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে রোমাঞ্চকর আর গা শিউরে ওঠা নানা অভিজ্ঞতার হাতছানি। তবে কেবল ওপরেই নয়, মাটির নীচের পৃথিবীটাও কিন্তু এতটাই সুন্দর আর শ্বাসরুদ্ধকর এ্যাডভেঞ্চারে ভরা। কিংবা বলা চলে কখনো আমাদের ভাবনার চাইতেও একটু বেশি রোমহর্ষক সেগুলো। বিশেষ করে সেটা যদি হয় পানির দুনিয়ার কোন স্থানে। নীচে দেওয়া হল পৃথিবীর বুকে ডাইভারদের স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত এমনই কিছু রোমহর্ষক আর উত্তেজনায় ভরপুর স্থানের কথা।

৪. পানির তলার প্রবালপ্রাচীর অনুসরণ ( বাক আইল্যান্ড বা বাক দ্বীপ, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড )

বাক আইল্যান্ডের ঠিক উত্তরদিকটায় আপনি খুঁজে পাবেন ন্যাশনাল পার্কের পানির নীচের ট্রেইল। এখানে পানিকে ভালোবেসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জন্যে চমত্কার করে প্রবালপ্রাচীরের চারপাশে মার্কারের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। যেটাকে অনুসরণ করে সাদা-বালির অংশ পেরিয়ে আপনি সোজা পৌঁছে যাবেন স্ফটিকের মতন স্বচ্ছ ক্যারিবীয়ানের পানিতে। আর এখানেই আপনি খুঁজে পাবেন পৃথিবীর সেরা ডাইভিংএর অভিজ্ঞতা। পানির নীচের অসম্ভব রকমের সৌন্দর্য তো রয়েছেই, এখানে আপনি সেইসাথে আরো পাবেন এলখর্ণ কোরাল, মানুষের তৈরি কৃত্রিম প্রবাল গুহা, প্রবাল হাঙর, বিলুপ্তপ্রায় লেদারব্যাক টার্টল বা কচ্ছপ, স্পটেড এগল রেসহ প্রায় ২০ প্রজাতির গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলীয় মাছ। তাতে আছে প্যারটফিশ, অ্যাঞ্জেলফিশ আর ব্লু ট্যাঙ্গসের কথাও। এখানকার দুটো বা আইল্যান্ড আপনাকে খানিকটা সময়ের জন্যে দ্বিধান্বিত করে তুললেও বিষ্ময়কর ডাইভিং দিয়ে সেই দ্বিধাকে নিমিষে ভুলিয়ে দেবে দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর আর মত্সম্ভার।

৫. ব্লু কর্ণার ওয়াল ( পালাউ, মাইক্রোনেশিয়া )

পৃথিবীর ডাইভিং পয়েন্টগুলোর ভেতরে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ও রোমাঞ্চকর এই ব্লু কর্ণার ওয়াল কেবল সেইসব ডাইভারদের জন্যে যাদের রয়েছে অতীতে প্রচুর ডাইভিংএর অভিজ্ঞতা এবং বুক ভরা সাহস। কারণ পালাউএর এই ভয়ংকর সুন্দর স্থানটিতে নরম ও শক্ত উভয় কোরাল, বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর, টুনা, বারাকুডা, মান্টা রে আর কিং ট্রিগারের দেখা পাওয়া গেলেও সেইসাথে অহরহই মুখোমুখি হতে হয় প্রচন্ড ঢেউয়েরও। যে ঢেউয়ের মোকাবেলা একমাত্র অদম্য সাহসীদের পক্ষেই করা সম্ভব। তবে কেবল ঢেউ আর মাছের বিশাল আবাসই নয়, ব্লু কর্ণার ওয়াল পৃথিবীর সব ডাইভারদের কাছে স্বর্গীয় এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া পানির নীচের ধ্বংসাবশেষগুলোর জন্যেও। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ২০০ টি দ্বীপের অন্যতম একটি পালাউয়ের এই স্থানটিতে তাপমাত্রা সবসময়ই বেশ উষ্ণ থাকে। পলে যেকোন সময়েই এটি ডাইভারদের জন্যে আদর্শ স্থান। প্রায় ১,৫০০ প্রজাতির মাছ আর ৭০০ প্রজাতির প্রবালে সমৃদ্ধ ব্লু কর্ণার ওয়াল তাই সব মিলিয়ে সবসময়েই ডাইভিংয়ের ক্ষেত্রে সবার কাছে এগিয়ে রয়েছে।

৬. এসএস ইয়োঙ্গালার ধ্বংসাবশেষ খোঁজা ( কুইন্সল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া )

সময়টা ছিল ১৯১১ সালের ২৩ মার্চের ঠিক সন্ধ্যে সাতটা। অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক লাইটহাউজ রক্ষী শেষবারের মতন ইয়োঙ্গালাকে দেখেন। হুইটসানডে প্যাসেজ দিয়ে যাচ্ছিল তখন জাহাজটি। এরপর আর কখনো দেখতে পাওয়া যায়নি ইয়োঙ্গালাকে। পরের দিনই এক বিশাল সাইক্লোনের মুখে পড়ে একেবারের মতন হারিয়ে যায় জাহাজটি। তবে সেটা ঠিক ১৯৫৮ সাল অব্দি।  ১৯৫৮ সালে কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলের ৫০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ মেরিন পার্কের মধ্যভাগে দুইজন ডাইভার খুঁজে পান ইয়োঙ্গানাকে। পৃষ্ঠতলের প্রায় ১০০ ফুট নীচে অবস্থিত ইয়োঙ্গানার এই ৩০০ ফুট ধ্বংসাবশেষকেই আজ পর্যন্ত টিকে থাকা পৃথিবীর অন্যতম বিশাল জাহাজের ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হয়। বর্তমানে স্থানটি খুবই পরিচিত এই ধ্বংসাবশেষের কারণে। প্রতিবছর প্রচুর মানুষ এখানে ডাইভিং করতে আসেন। ইয়োঙ্গানাকে খোঁজা ও এর সৌন্দর্য অবলোকন করাই এই স্থানের মূল আকর্ষণ। তবে দিনকে দিন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বেশ বিপাকের মুখে পড়তে হচ্ছে ইয়োঙ্গানাকে। যদি আপনিও মনে-প্রাণে হয়ে থাকেন একজন সত্যিকারের ডাইভার তাহলে এই ডাইভিং আপনার জন্যেই।

৭. আটলান্টিসের ডুবোজাহাজ পর্যটন ( হাওয়াই )

অনেকদিন ধরে মাটির ওপরে থাকতে থাকতে যদি আপনার প্রাণটা পানি পানি বলে আইঢাই করে থাকে তাহলে এই ডাইভিংয়ের স্থানটি আপনার জন্যেই। পানির একদম গভীরে নিয়ে যাওয়া হয় ডাইভারদেরকে এই ট্যুরে। ওয়াইকিকির এই পর্যটনে মোট ৬৪ জন যাত্রীকে একসাথে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। হাওয়াইয়ের সামুদ্রিক সৌন্দর্য আর সেখানকার জীবনকে দেখাতে সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ তাদেরকে নিয়ে যায় সাগরের প্রায় ১০০ ফুট নীচে। শুধু তাই নয়, আটলান্টিস ওয়াইকিকি, মাউই, কোনা ও বিভিন্ন ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকেও নিজেদের এই ডুবোজাহাজ পর্যটন চালায় আর মানুষকে নিয়ে যায় পানির নীচের রহস্যময় জগতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here