‘কপ-২২’ সম্মেলনে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

0
155

235116hasina_2kalerkantho_picঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আজ বলেছেন, মরক্কোর মারাক্কেশ-এ ‘কপ-২২’-এর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং এক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘কপ-২২’-এ যোগদান জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বহুমুখী সাফল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় দেশটির দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন’-এর ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’র ২২তম সভায় (কপ-২২)-এর যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মরক্কো সফর উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন আযোজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মারাক্কেশ সম্মেলনে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের গৃহিত উদ্যোগ ও গৃহিত ব্যবস্থা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের ৫৬টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ ‘কপ-২২’ সম্মেলনে যোগদান করবেন। মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মদের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে যোগদান করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-১০১৯) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সোমবার সকাল ১০টায় মরক্কোর সাবেক রাজকীয় শহর মারাক্কেশের উদ্দেশ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ওইদিন স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় মারাক্কেশের মেনারা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল লা মামৌনিয়াতে নেয়া হবে। এ সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

তিনি মঙ্গলবার মারাক্কেশের বাব ইগলী হলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কপ-২২’র উচ্চ পর্যায়ের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। এর আগে মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মেদ, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন ও ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী পেট্রিসিয়া এসপাইনোসা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের অভ্যর্থনা জানাবেন।

বিকেলে কপ-২২’র যৌথ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ৪৯তম বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং এই বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় ও সমন্বিত প্রয়াস এগিয়ে নিতে এক প্রচারাভিযান জোরদার করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানাবেন।

একইদিন অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মদের দেয়া ভোজসভায় যোগ দেবেন। তিনদিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৬ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।

এ বছর ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কপ-২১ ’এ গৃহীত ঐতিহাসিক চুক্তির পর এটাই হচ্ছে প্রথম বড় ধরনের কোন সম্মেলন। গত বছর ডিসেম্বরে প্যারিসে কপ-২১ ’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রীণ হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসে ১৯৯৪ সালে জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন শুরু হয়। এই কনভেনশনের সর্বোচ্চ পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে কপ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here