কামাল- রুহুল প্যানেলের বিজয় উৎসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের

0
276

kamal-ruhul-p001এনা (নিউইয়র্ক) : নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির আলোচিত ও ব্যয় বহুল নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে কামাল- রুহুল প্যানেল। সেই বড় জয়কে বরণ করে নিতে জমকালো অনুষ্ঠানের করেছিলো প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এই প্যানেলের পক্ষ থেকে গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুইন্স প্যালেসে আয়োজন করা হয় সেই বিজয় উৎসবের। কামাল- রুহুল প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির কার্যকরী কমিটিতে সর্বাধিক ৮ বার নির্বাচিত সদস্য কাজী আজহারুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এই প্যানেলের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী ইমাম শিকদার, সাবেক এমপি শহিদুর রহমান, সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম এ কাইয়্যুম, নব নির্বাচিত সভাপতি কামাল আহমেদ, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসার দেলোয়ার হোসেন, সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, এ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হাজী মফিজুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সোসাইটির সহ সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার, নব নির্বাচিত সহ সভাপতি আবুল খালেকimg_3469 খায়ের, এলাকাভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মজিব আহমেদ তোতা, সরাফ সরকার, হাজী রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাসিম হাসনু, নাজমুন নূর সরওয়ার, বিশিষ্ট এটর্নী ব্রুশ ফ্রিসার, নাসির আলী খান পল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। দোয়া করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির যে সব বর্মকর্তা প্রয়াত হয়েছেন এবং ৯/১১ এ যারা আত্মাহূতি দিয়েছেন তাদের জন্য। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কালাম। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এই প্যানেলের পরাজিত দুই প্রার্থী মঈনুল ইসলাম ও সিরাজুল হক জামালকে। তুমুল করতালির মাধ্যমে আরো পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় নব নির্বাচিত সকল কর্মকর্তাকে। নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন সভাপতি কামাল আহমেদ, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ সভাপতি আবুল খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সহ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম কে জামান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাদের এ আইয়ুব, সাহিত্য সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক নওশাদ হোসেন, শিক্ষা ও স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব। কার্যকরী সদস্য ফারহানা চৌধুরী, মইনুল উদ্দিন মাহবুব, আজাদ বাকের, সাদী মিন্টু, আবুল কাশেম চৌধুরী ও সারওয়ার খান বাবু। প্রধান অতিথি বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যের জবাবে বলেন, এটা আমার জয় নয়, এই জয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের। আজকে যারা এখানে উৎসব করতে এসেছেন তাদের। তবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ তারা যোগ্য প্রার্থী এবং যোগ্য প্যানেলকে ভোট দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচনের পূর্বে আশা করি আপনারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। বাংলাদেশ ভবনের জন্য প্রয়োজনে মানুষের ঘরে ঘরে যাবেন এবং প্রবাসীimg_3459 বাংলাদেশীদের এই স্বপ্ন পূরণ করবেন। তিনি সোসাইটিকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণের সংগঠনে পরিণত করার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমি আশা করি নব নির্বাচিত কমিটি সোসাইটিতে নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলা স্কুল, বয়স্কদের জন্য ইংরেজি শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা চালু করবেন। এম এ কাইয়্যুম নব নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় আপনারা যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আশা করি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির ভবন দেখতে চাই। আজহারুল হক মিলন বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে এবারের নির্বাচন ছিলো ব্যতিক্রমী নির্বাচন। সোসাইটির ইতিহাসে এত বড় নির্বাচন হয়নি। প্রবাসী বাংলাদেশীরা আপনাদের প্রাণ খুলে ভালবাসা দিয়েছে। আশা করি সেই ভালবাসার মর্যাদা রাখবেন। হাজী মফিজুর রহমান ভোটারদের ধন্যবাদ জানান কামাল- রুহুল প্যানেলকে বিশ্বাস করে ভোট দেয়ার জন্য। আরও বক্তব্য রাখেন আলী ইমাম শিকদার ।

অনুষ্ঠানে ৫ কেন্দ্রে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের সাফল্যের জন্য সকলের হাতে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ৫ কেন্দ্রের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি এম আজিজ। নির্ধারিত সময়ের পরেই শুরু করা হয় বিজয় উৎসব। সন্ধ্যার সময় লোকজনের উপস্থিত একটু কম দেখা গেলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক সময় পুরো অডিটোরিয়াম ভর্তি হয়ে যায়। কোথাও মানুষের বসার এমন কি দাঁড়ানোরও স্থান ছিলো না। অডিটোরিয়াম ভর্তি হয়ে এক সময় মানুষ গিয়ে দাঁড়ায় বাইরে। মানুষের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক সময় অনুষ্ঠানের চেহারাই পাল্টে যায়। অনুষ্ঠানে অনেকের বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বক্তব্য পর্ব সংক্ষিপ্ত করা হয়। এক পর্যায়ে নব নির্বাচিত সভাপতি কামাল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী ঘোষণা দেন যে, যারা দাঁড়িয়ে আছেন তাদের প্রথম খাবার দেয়া হবে। সেইভাবেই খাবার পরিবেশন করা হয়। অনেকেই বলেছেন, এর আগে বিজয় উৎসবে এত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here