সামিয়ার আত্মহনন ও কিছু প্রশ্ন

0
667

download-1-1নিউইয়র্কের ২৩ বছরের কিশোরী সামিয়া খান ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার পর কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নামার পাশাপাশি চারিদিকে গুঞ্জন সামিয়াকে কেন আত্মহননের পথে ঠেলে দেয়া হয়েছি? শৈশবে একান্ত এক আপনজনের কাছ থেকে লজ্জাজনক এক পরিস্থিতির
শিকার হয়ে সামিয়া একযুগেরও বেশী সময় ধরে সেই ভয়াবহ স্মৃতি বহন করে শেষবারের আগেও আরো বেশ কবার আ
ত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো বলে তার বন্ধুমহলে কানঘুষা চলছে। ফুলেল মত নিষ্পাপ একটি মেয়ে যার চোখে ভবিষতের স্বপ্ন হাতছানি দেবার কথা, সেই কিশোরীকে সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে বারবার চেষ্ঠষ্ঠা করেছিলো? আর তাতে কেন তার পিতা-মাতা ও ঘনিষ্ঠ স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে স্বাভবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্ঠায় চিকিৎসা করাননি?
সামিয়া যেভাবে আত্মহনন করেছে তা আমাদের কমিউনিটিকে ভাবিয়ে তুলেছে। কি এমন ঘটনার শিকার হয়েছিলো সামিয়া যা তাকে শেষ পর্যন্তু আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে? কি অব্যক্ত বেদনা নিয়ে সামিয়া এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেল?- এসবই ভা
ববার বিষয়। সাপ্তাহিক বর্ণমালা ও বর্ণমালার ওয়েব সাইটে সামিয়ার আত্মহত্যার সংবাদ পড়ে অসংখ্য মানুষ টেলিফোনে ও ফেইসবুকে ইনবক্সে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন ‘সামিয়ার আত্মহত্যার’ নেপথ্যে কি রহস্য রয়েছে? ওয়েব সাইটে মন্তব্যে অনেকেই অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন সামিয়া সেক্সচ্যুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে ভুগতে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সেক্সচ্যুয়াল অ্যাবিউজ কে করেছে সামিয়াকে? এ প্রশ্ন সবার। আর যদি তা হয়ে থাকেন তাহলে এ নিয়ে কেন কোন পুলিশি রিপোর্ট করা হয়ািন?
সামিয়া এত কিছুর পরও বেঁেচে থাকার স্বপ্ন দেখতেন- কারন যেদিন তিনি আত্মহত্যা করেছেন সেদিন তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মানে এেকদিকে বেঁচে থাকার আকুঁতি এবং অন্যদিকে চরম মানসিক যন্তণা- এই দুয়ের দ্বন্দ্বে সামিয়ার জীবন এক কঠিণ মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে কাটছিল দীর্ঘদিন ধরে। জানা গেছে মাত্র আট বছর বয়সেই শিশু সামিয়ার জীবন থেকে স্বাভাবিক হাসি হারিয়ে যায়। এরপর বাবা-মা‘র সাথে না, তার খালার কাছেই থাকতে শুরু করেন সামিয়া। আসলে কি কারনে এবং কি ঘটনায় সামিয়া তার জীবনের সবচেয়ে আপনজন বাবা-মা‘র সংস্পর্শ ছেড়ে খালার বাসায় বসবাস করছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
আসলে সামিয়ার আত্মহত্যা রহস্য উদঘাটন হবে কিনা তা কেউ বলতে পারেন না। কিন্তু সবার কথা সামিয়া যে কারনে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তা যদি উদঘাটন না করা যায় তাহলে ভবিষতে আরো অনেক সামিয়া একই কারণে হয়তো সামিয়ার পথ বেছে নিতে পারে। আর তা রোধ করতে এখনই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সবার আগে সামিয়ার পরিবারের এবং একান্ত আপনজনদের উচিৎ হবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলা এবং সঠিক তথ্য জানানো।
এদিকে ইতোমধ্যে সামিয়ার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি যারা তারা ফেইসবুকে ‘জাস্টিস ফর সামিয়া’ নামে একটি গ্রুপ  তৈরী করে সবাইকে এতে যোগ দেবার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও তার এক বান্ধবী একটি নারী স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা পালনকরী সংগঠনের ওয়েব সাইটে সামিয়ার জীবনে ঘটে যাওযা ঘটনা তুলে ধরে লিখেছেন। সেখানে মৃত্যুর বেশ কিছুদিন আগে ইন্স্ট্রাগামে সামিয়া তার জীবনের যে অব্যক্ত বেদনার কথা বলেছেন তারও লিংক দিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here