স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা ভাসানী : শেখ মুজিব পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন : নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকা (ভিডিওসহ)

0
666

এনা (নিউইয়র্ক) : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ করেছিলেন, আওয়ামী লীগেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তিনি বুঝেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের থাকা হবে না। মূলত সেখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ ছিলো। ১৯৫৭ সালে তার আস্সালামুআলাইকুম ঘোষণার মধ্যদিয়ে তিনি স্বাধীনতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনক ও স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। আর শেখ মুজিব পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক আয়োজিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা এ কথা বলেন।
মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট কলামিষ্ট দেওয়ান শামসুল আরেফীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একান্ত সহচর মোস্তফা জামাল হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা, অধ্যাপক আবিদ বাহার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঠিকানার প্রেসিডেন্ট/ সিওও সাঈদ- উর- রব, সাংবাদিক মনজুর আহমেদ চৌধুরী, সাংবাদিক ও ভাসানী ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি মঈনুদ্দীন নাসের, রীটা রহমান, এডভোকেট ওহিদুর রহমান, সাবেক সচিব দেওয়ান শামসুর রহমান, এডভোকেট মনির আহমেদ, সংগঠনের নব নির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ টিপু সুলতান, প্রবীন সাংবাদিক আব্দুর রহিম আজাদ, আতিকুর রহমান সালু, কাজী ফৌজিয়া, আজহারুল হক মিলন, সাহান সাহা, প্রমুখ।
মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নিষ্ঠুর বাস্তবতায় আরেকবার মাওলানা ভাসানীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাঙালি জাতি তার কাছ থেকে যতটুকু পেয়েছে তা পুঁজি করেই আমাদের চলতে হবে। তিনি বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বার বার বিশ্বাসঘাকতার শিকার হয়েছেন। ভাসানী যখন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ শুরু করেন তখন থেকেই কেউ এটর্নী জেনারেল হয়ে, কেউ কেউ বললেন, ৯৮% স্বায়ত্ব শাসন দেয়া হয়েছে, সংগঠন করার পর সেই সংগঠনও তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়। তিনিই প্রথম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধিকারের দাবি তুলেন এবং আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার নেতা হরেকৃষ্ণ কুমার বলেছিলেন বাঙালি জাতি সৌভাগ্যবান তারা ভাসানীর মত নেতা পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর মাওলানা ভাসানী বলেছিলেন পিন্ডির জিঞ্জির ভেঙ্গেছি, দিল্লির পিঞ্জিরে আবদ্ধ হবার জন্য নয়। আজ আমরা সেই পিঞ্জিরেই বন্দী। এই বন্দী দশা থেকে আমাদের মুক্ত হতে ভাসানীর আদর্শ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করে দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ করেছিলেন, আওয়ামী লীগেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তিনি বুঝেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের থাকা হবে না। মূলত সেখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ ছিলো। ১৯৫৭ সালে তার আস্সালামুআলাইকুম ঘোষণার মধ্যদিয়ে তিনি স্বাধীনতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনক ও স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি কখনো সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি। তিনি ভাষা আন্দোলনে ছিলেন, ভাষা-শহীদদের জানাজায় ইমামতি করেছিলেন, শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন, ৬০ এর দশকের সব আন্দোলনেই প্রথম সারিতে ছিলেন, শেখ মুজিবকে মুক্ত করতে আন্দোলন করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন ঢাকা শহর ক্র্যাকডাউন করা হয়, বর্বর হামলা চালানো হয় তখন শেখ মুজিব ধানমন্ডির বাসায় ছিলেন, কোন দিক নির্দেশনা না দিয়ে তিনি পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। শেখ মুজিব পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। আর মাওলানা ভাসানীর বাড়িতে পাকিস্তানীরা হামলা করে। ভাসানী পাকিস্তান যাননি, তিনি গিয়েছিলেন ভারতে। এটাই হলো ইতিহাস।
আবিদ বাহার বলেন, মাওলানা ভাসানী রাজনৈতিক জীবন হচ্ছে ৬৫ বছর। দীর্ঘ তার এই রাজনীতি থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তার রাজনৈতিক চরিত্রের ফাউন্ডেশন ছিলো সুফিজম। তাঁর ছিলো ধৈয্য, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ধর্মের প্রতি আনুগত্য।
সভাপতি দেওয়ান শামসুল আরেফীন সৈয়দ টিপু সুলতানকে সভাপতি এবং আলী ইমাম শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে সম্মেলনের নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন এবং তার সভাপতিকালীর সময়ের কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী স্বপ্না কাওসার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here