জয়েন্টের ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল দূর করুন সহজ উপায়ে

0
389

uric-acid-crystals-in-jointsরক্তস্রোতে ইউরিক এসিডের উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে যে স্বাস্থ্যসমস্যা হয় তাকে গেঁটেবাত বলে। অনেক মানুষই গেঁটেবাতে আক্রান্ত হন বিশেষ করে বয়স্করা। রক্তে ইউরিক এসিডের অতিরিক্ত উৎপাদন হলে তা জয়েন্টে গিয়ে জমা হয় যাকে ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল বলা হয়। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে অথবা উচ্চ মাত্রার পিউরিন যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলেও হতে পারে। জয়েন্টের ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল হওয়ার কারণ ও দূর করার সহজ কিছু উপায়ের বিষয়ে জানবো আজ।

জয়েন্টের ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল হওয়ার কারণ

গেঁটেবাত হওয়া বা ইউরিক এসিডের জমাটবদ্ধতার সাধারণ কারণ হচ্ছে – উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, দীর্ঘমেয়াদী কিডনির সমস্যা, লিউকেমিয়া, সোরিয়াসিস, অ্যানেমিয়া, অ্যালকোহল সেবন এবং পারিবারিক ইতিহাস।

গবেষণা মতে, উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এসিডিক উপজাত তৈরি করে। মাংস, ডিম এবং দুগ্ধজাত পণ্য যেমন- মাখন এ ধরণের খাবার। এছাড়াও কর্ণ, অ্যালকোহল, চিনি, তেল ইত্যাদি খাবারগুলো ও শরীরে এসিডিক উপজাত তৈরি করে।

অন্যদিকে কিছু খাবার যেমন- সবুজ শাকসবজি, মিষ্টিকুমড়া, পুদিনা, শশা, বাঁধাকপি, কিউই, আনারস, মাশরুম, আখরোট, ক্যাপসিকাম শরীরে ক্ষারীয় অবস্থা তৈরি করে। তাই গেঁটেবাত থেকে মুক্ত থাকার জন্য এই খাবারগুলো খাওয়া উচিৎ।

যখন আমাদের শরীরকে অনেক বেশি প্রোটিন প্রসেস করতে হয় তখনই গেঁটেবাত হয়। কিছু প্রোটিন ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায় আর কিছু শরীরেই থেকে যায়। যখন এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায় তখন তা শরীরের বিভিন্ন স্থান যেমন- রক্তস্রোত ও জয়েন্টে জমা হয়।

ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল অনেক বেশি ব্যথার সৃষ্টি করে, ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং ঐ নির্দিষ্ট স্থানে শক্ত অনুভূতি হয় এবং অনেক চাপ অনুভূত হয়, বিশেষ করে হাতে ও পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে। হাঁটু, পায়ের পাতা, গোড়ালি, কাঁধ এবং কনুইয়ে ও ছড়াতে পারে ব্যথা।

জয়েন্টের ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল প্রাকৃতিক ভাবে দূর করার উপায়  

১। ইউরিক এসিড জমে থাকার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরী। অনেক বেশি পানি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে এবং কম পিউরিন যুক্ত খাবার যেমন- শশা খেতে হবে। ১০০ গ্রাম শশায় ৭.৩ মিলিগ্রাম পিউরিন থাকে। তাই শশা ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে এবং গেঁটেবাত প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২। পানি জয়েন্টে জমা হওয়া ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল দূর করতে সাহায্য করে।গেঁটেবাতের ফলে জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা হয়। সারাদিনে প্রচুর পানি পান করুন এবং পানি সমৃদ্ধ খাবার খান বেশি করে। শশা, লাউ, ধুন্দুল এবং ফল খেতে পারেন।

৩। প্রাকৃতিক ভাবে ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল দূর করার জন্য জুস তৈরি করতে যা যা লাগবে – একটি মাঝারি আকারের শশা, ২টি সেলেরি ডাঁটা, এক টুকরো লেবু, ১ চা চামচ আদা কুঁচি।  সবগুলো উপাদান ভালো করে ধুয়ে নিন। শশা ও সেলেরি পাতা টুকরো করে কেটে নিয়ে ফুড প্রসেসরে বা ব্লেন্ডারে রাখুন। এর সাথে লেবুর টুকরো ও আদা কুঁচি যোগ করে মসৃণ জুস তৈরি  করুন। এই জুসটি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। সন্ধ্যায়ও এক গ্লাস পান করতে পারেন।

৪। ৪ টি গাজর, ১ টি আম, ১ টুকরো আনারস, স্ট্রবেরি ৩০ গ্রাম এবং ১ টি লেবু দিয়ে জুস তৈরি করুন। সকালে এই পানীয়টি পান করুন।

৫। ৩ টেবিলচামচ রোজমেরির তেল ও ৩ টেবিলচামচ সয়াবিন তেল মিশিয়ে জয়েন্টে মালিশ করলে গেঁটেবাতের ব্যথা দূর হয়।

৬। দিনে ৩ বার টমেটোর জুস পান করতে পারেন। জুসের জন্য পাকা টমেটো ব্যবহার করবেন। কাঁচা টমেটো রান্না করে খেতে পারেন।

৭। বেকিং সোডার সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে লাগালে ব্যথা ও প্রদাহ কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here