নিউইয়র্কে ভূঁয়া ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের প্রতারণা থেকে সাবধান

0
542

বর্ণমালা ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আমেরিকায় মুসলিম ও অন্যান্য অভিবাসী কমিউনিটির বিরুদ্ধে ‘হেইট ক্রাইম’ অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গেছে। আর সেইসাথে আতঙ্কিত বৈধ কাগজপত্রহীনদের সাথে শুরু হয়েছে ‘অভিবাসন প্রতারণা’।
নিউইয়hatecrime2র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্নাইডারম্যান এক বিবৃতিতে তার স্টেটের অভিবাসীদের সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন গ্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।
গত ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার গ্রদত্ত বিবৃতিতে স্নাইডারম্যান বলেন, অভিবাসন আইনজীবী অথবা সমাজকর্মীর নাম দিয়ে একদল লোক ও কোনো কোনো সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে আগ্রহী ব্যক্তিদের উদ্বেগ ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এক ধরনের প্রতারণা ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর অফিস এ ধরনের অসংখ্য ফোন ও অভিযোগপত্র পেয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, যারা প্রতারণা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁর অফিস সম্ভাব্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্নাইডারম্যান জানান, নির্বাচনের পর দুই সপ্তাহে ইমিগ্রেশন প্রশ্নে প্রতারণার অভিযোগের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নর্থ ম্যানহাটনের ‘কোয়ালিশন অব ইমিগ্রেশন রাইটস’ নামক সংস্থার নাম উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের কাছে প্রাপ্ত অভিযোগের পরিমাণ আগের তুলনায় ২৬৬ শতাংশ বেশি। শুধু নভেম্বর মাসে অভিযোগ নিয়ে নিজে এসে যোগাযোগ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় ২৫০ শতাংশ বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তা সেজে এসব প্রতারক বৈধ কাগজপত্র নেই এমন অভিবাসীদের কাছ থেকে অবিলম্বে অর্থ দাবি করছে। স্নাইডারম্যান জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেড় হাজার ডলার বা তার চেয়েও বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে। দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করা হলে তাদের অবিলম্বে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে এই প্রতারকেরা হুমকি দিচ্ছে।
স্নাইডারম্যান কোনো অবস্থাতেই টেলিফোনে ব্যক্তিগত তথ্য, অর্থ প্রেরণ বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র প্রদান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের সঙ্গে অভিবাসন প্রশ্নে সাহায্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সমাজকর্মীর নামধারী কোন কোন ব্যক্তি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে অভিবাসন বিষয়ে মনগড়া বক্তব্য রেখে নিরীহ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্ধশিক্ষিত এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন নন-গ্রফিট সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এর আগে এদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কন্স্যুলেট ও ওয়াশিটন দূতাবাসের কর্মকর্তারা টেক্সাস ও ক্যালিফোর্ণিয়ার ইমিগ্রেশন কারাগারে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশীদের সনাক্ত করায় শতাধিক বাংলাদেশীকে ডিপোর্ট হতে হয়েছিল। পরবর্তীতৈ একটি উড়ো খবর ঘরে ঘরে ইমিগ্রেশন অফিসাররা হানা দিয়ে অবৈধদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে রটিয়ে এই মহলটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এদের এমন ভূয়া প্রচারণায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পরেন বলেও জানা গেছে।
একিটি সূত্র বলছে, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইমিগ্রেশনের মত নাজুক বিষয়টি নিয়ে অনভিজ্ঞ এবং সমাজে বিভিন্ন অনিয়মকারী ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানোতে বৈধ হাগজপত্রহীন মানুষরা শুধু বিভ্রান্ত হচ্ছেন তাই না এদের ভুল পরামর্শে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন।
এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর ঐসব অর্ধশিক্ষিত সমাজকর্মী নামধারীরা আবারও মানুষকে বিভ্রান্ত করার কাজে নেমে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এরা নি¤œ বেতনে বিভিন্ন নন গ্রফিট সংগঠনে কাজ করেন এবং কাজের শর্তানুযায়ী এরা ভীতসন্ত্রস্ত বৈধ কাগজপত্রহীনদের টার্গেট করে তাদের সংগঠনের সেবা নিতে প্র্রলুদ্ধ করছেন। এসব সংগঠন ভিকটিম কেস তৈরী করে সিটি, স্টেট বা ফেডারেল ফান্ড থেকে বিপুল অংকের অর্থ আয় করে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here