৭১‘এ পাক সেনাবাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবী জেনোসাইড ৭১ ফাউন্ডেশনের

0
210

g710001বর্ণমালা নিউজ।। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত গণহত্যায় প্রাণ দেয়া লক্ষ কোটি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশীরা ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ ও প্রতিরোধ’ দিবসের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত ইতিহাসের অন্যতম গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের দাবীতে কাজ করে যাওয়া সংগঠন ’জেনোসাইড ৭১ ফাউন্ডেশন ইউএসএ‘- উদ্যোগে গত ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার শুক্রবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে এ উপলক্ষে সেমিনার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আায়োজন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বাংলাদেশীরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
গত বছরের গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ ও প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। সেই প্রেক্ষিতে নিউইয়র্কে দিবসটি পালন করে আসছে জেনোসাইড ৭১ ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে জেনোসাইড ৭১ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর স্বীকৃত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা কর্মকর্তার বিচার, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩৭ হাজার কোটি টাকা ও স¤পদের নায্য হিস্যা আদায় এবং গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও নারীর সম্ভ্রমহানীর ফলে জন্ম নেয়া যুদ্ধশিশুর দায়ভারসহ ক্ষতিপুরণ আদায়ের দাবী তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সূচনা পর্বে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষেরা মোমবাতী প্রজ্জ্বলন করে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন জলি কর। কবিতা পড়ে শোনান গোপন সাহা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ব্রঙ্কস কমিউনিটি লিডার আব্দুস শহীদ, সাপ্তাহিক ঠিকানা সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, ডা, মাসুদুল হাসান, জাসদ নেতা নূরে আলম জিকু, সঙ্গীত শিল্পী শফি চৌধুরী হারুণ, শহীদ উদ্দিন, তাহমিনা শহীদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ড. প্রদীপ কর বিভিন্ন দেশে গণহত্যার একটি ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একাত্তরে পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনী প্রায় ৩ মিলিয়ন বাঙালীকে হত্যা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় গণহত্যা। তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও সাজাপ্রাপ্তদের সাজার বাস্তবায়ন দাবি করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংস্কৃতি কর্মী সেমন্তী ওয়াহেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here