মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধের দাবীতে ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের পাশে ইকনা ও মুনা

0
124

মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্বারকলিপি ও হস্তক্ষেপ কামনা 

ana-pic-1র্ণমালা ডেস্ক : মায়ানমারের আরাকান ও রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মায়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম শিশু ও নর- নারীর উপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যার প্রতিবাদে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী জামাতপন্থীদের দুটি সংগঠন ‘মুসিলম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা’ (মুনা) ও ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেকিরা (ইকনা)-র সহায়তায় ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউআরও)। বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের নবনির্বাচিত মহাসচিব এন্টোনিও গুটারেজ ও বাংলাদেশ সরকার প্রধান বরাবর (জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে) স্বারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
গত ১৪ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় সংগঠনের ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বে এ স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। ‘আমেরিকানস এগ্রেনিস্ট জেনোসাইড অব মুসলিম ইন মিয়ারমার’ এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের সহযোগিতায় ছিল, বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী জামাতপন্থীদের দুটি সংগঠন ‘মুসিলম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা’ (মুনা) ও ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেকিরা (ইকনা), ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব নর্থ আমেকিরাসহ ৩৬টি সংগঠন এবং বার্মা ট্রাক্স ফোর্স (বিটিএফ)। প্রচন্ড ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে এ বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েশ‘শ বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী যোগ দেন। বিপুল সংখ্যক মহিলাও উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে। এ সময়ে তাদের হাতে ছিলো বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড ও ফেস্টুন। যার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমাদের উপর নির্যাতনের অমানবিক চিত্র।
বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মায়ানমার সরকার অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে এবং তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীদের হাতে নিপীড়ন, ভয়-ভীতি ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মংন্ড এবং পার্শ্ববর্তী রাতেডং শহরের তিনটি চৌকিতে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীদের হামলায় ৯ জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযুক্ত করে তাদের গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অভিযানের নাম করে মায়ানমার সেনাবাহিনী, বিজিপি ও পুলিশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানা হচ্ছে। তারা নারীদের ধর্ষণ, হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা গণহারে মানুষ হত্যা, গ্রেপ্তার এবং নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করায় সকল প্রকার নাগরিক ও মৌলিক সুবিধা হতে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও মায়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করা হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বে বৌদ্ধদেরকে সরাসরি ইন্ধন ও মদদ যোগাচ্ছে মায়ানমার সরকার।
বক্তারা আরো বলেন, মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা বিশ্ববিবেককে তাড়িত করেছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রতিদিন যে হারে মানুষ হত্যা ও আহত করছে তার নিন্দা জানানোর আমাদের ভাষা জানা নেই। তারা বলেন, মিয়ানমারে নীরিহ মুসলমানদেরকে হত্যা করে বাড়ি-ঘর থেকে বিতাড়িত করে বিশ্ব মুসলমানদের হৃদয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থারসমুহসহ জাতিসংঘের নবনির্বাচিত মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, মিয়ানমার মুসলমানদের প্রতি সদয় হয়ে তাদেরকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় প্রদানের জন্য আহবান জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইকনার সেক্রেটারী জেনারেল তারিকুর রহমান, ইমাম আইয়ূব বাকী, মুনার সহকারী সেক্রেটারী আরমান চৌধুরী, ইউনাইডেট উলামা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মুফতি লুৎফর রহমান ক্বাশেমী, মোহাম্মদ এন মজুমদার, আদম কেরর, লুৎফর রহমান লাতু, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ওয়াদুদ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, মাহবুবুর রহমান, জেনারদান চৌধুরী, হোসনেয়ারা বেগমসহ আরো অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here