মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার ফারাক 

0
1057
muktijoddha001আল আমিন বাবু ।। আজ বিজয়ের এই ক্ষনে আপনি কি আপনার মুক্তিযোদ্ধা বাবা , মা , ভাই বা বোনটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ? বা কৃতজ্ঞতা ? শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কি আপনার পাড়ার সেই রিক্সা চালক বা আপনার গ্রামের সেই খ্যাতমার্কা কৃষকটিকে অথবা গায়ে মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত জেলেকে,বা আপনাদের স্টেশনের লাল জামা পড়া সেই কুলিকে অথবা আপনার গ্রামের সেই মালুপল্লীর কামারকে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেই যুদ্ধে গিয়েছিলো যার বিনিময় আজ আপনি স্বাধীন দেশের নাগরিক । তারা যদি শহীদ হয়ে যেতেন তবে আপনারা  সেই শহীদ কে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছুটা হলেও কিছু সুযোগ সুবিধা পেতেন যা আজ তারা জীবিত ফিরে আসার জন্য হয়তো পাচ্ছেন না । আসোলেই  যারা ফিরে এসেছিলেন তারা সত্যিই দুর্ভাগ্যবান , কারণ তাদের কথা কয়জনই বা ভাবে ? তারা বেঁচে থেকে যে অবহেলা পেয়েছেন  মরে গেলে  অন্ততপক্ষে “শহীদ ” নামক খেতাবটি তো  পেতেন ।
 যে পেশীশক্তি দিয়ে,ধমনীর টগবগে রক্তের ধারায় বলীয়ান হয়ে ,বঙ্গবন্ধুর ডাকে,জয় বাংলা স্লোগানের হুঙ্কারে যারা  আমাদেরকে পাকিস্তানী বর্বর সেনা বাহিনী ও তাদের দোসর কিছু  নির্লজ্জ বাঙালী রাজাকার,আলবদর ,শান্তি বাহিনী, মুসলিম লীগ ,জামাতে ইসলাম ,নামক কিছু হিংস্র পশুদের হাত থেকে  রক্ষা করে ছিলেন,যারা উপহার দিয়েছেন আমাদের একটা নিদৃষ্ট  মানচিত্র ,muktijoddha003লাল সবুজের পতাকা, আজ তাদের পেশী শক্তি কমে বার্ধ্যকে এসে দাঁড়িয়েছে ।যারা  জীবন সময়ের  প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন,আর কয়েকটা বছরের মধ্যেই এক এক করে যারা এই মাটি থেকে ঝরে পড়বেন,যাদের পেশিশক্তি ও রক্তের ধারার উপর দাঁড়িয়ে আপনারা  যারা লাল সবুজের দেশে উন্নয়নের জোয়ার আনবার কাজে আজ নিবেদিত প্রাণ  তারা এই মানুষগুলোকে কি নামে ডাকবেন ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ?নাকি শুধুই মুক্তিযোদ্ধা । তাদের প্রতি আমাদের  কি কোনো  কৃতজ্ঞতা বা দায়িত্ববোধ নেই ?
সুইডেনের স্টোকহোল্মে একবার ওয়াটার ফেষ্টিভেল দেখতে গিয়েছি, হঠাৎ খেয়াল করলাম এক জায়গায় একদল যন্ত্রী তাদের অর্কেস্ট্রা প্লে করছেন, সেখানে অনেক বৃদ্ধমানুষ এক নিদৃষ্ট ধরণের স্যুট ও মাথায় হ্যাট পরে খুবই গর্বের সাথে বসে রয়েছেন ,তাদের সারা শরীর আর হ্যাট জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন রকম ব্যাজ যা প্রায় তাদের স্যুট আর হ্যাটের রঙকেই ঢেকে ফেলেছে,সেই সময়ের ছবিটা আমার মাথায় গেথে গেলো, শুধুই বিস্ময় নিয়ে দেখলাম কিন্তু তখন সুইডেনে একদম নতুন যাওয়াতে আর ভাষার উপর কোনো রকমই কব্জা না থাকাতে  এবং বাঙালী স্বভাবসুলভ অযথা লজ্জাবোধ থাকার কারণে কাউকেই কিছু জিজ্ঞেস করা হলোনা । কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বৃদ্ধদেৱ একজনকে আবিষ্কার করলাম এক লাইব্রেরিতে তখন আমি কিছুটা সুইডিশ ভাষা রপ্ত করেছি । আমি আজ তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সেদিন তোমরা ওখানে কি করছিলে?” তিনি উত্তর দিলেন, তারা সবাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের যোদ্ধা বা ভলান্টিয়ার ছিলেন তাই তাদের কে সেদিন অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে সম্মানিত করা হচ্ছিলো শুধু তাই নয় তাদেরকে দেশের যেকোনো উৎসবের সময়ই বিভিন্নভাবে সম্মানিত করা হয় যে কারণে বিভিন্ন ব্যাজে তাদের স্যুট ও হ্যাট ঢেকে গিয়েছে ।কিন্তু এবার আরো অবাক হলাম যখন শুনলাম তার বয়স ৭২এবং তিনি ওই লাব্রেরিতে কাজ করেন । আমি বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম ,”সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী একজন মানুষ তো খুব বেশিও যদি হয় তবে তাকে ৬৫ বছরেই অবসরে যেতে হয় তবে তুমি কি করে কাজ করছো ? ” তিনি জানালেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাবার পরও তিনি যতদিন চাইবেন ততদিন কাজ করতে পারবেন ,এটাও তাদের জন্য দেশের দেয়া সন্মান ।”
দুঃখে কষ্টে বুকের মধ্যে মোচোড়  দিয়ে উঠলো ,হায়রে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য  সম্মানটুকু দূরেই থাকে, যে সব মুক্তিযোদ্ধারা চাকুরীজীবি ছিলেন তাদের সাথেও হয়েছে প্রহসন ,তাদের চাকরির বয়স ৬০ থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৬২ করা হলো তার কিছুদিন পরই সরকারের অনেক আমলা আর কর্মজীবীদের চাকরির বয়স ও ৬২ করে দেয়া হলো । এই কি জাতির  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পুরস্কার ? জামাত ঘারানার  আমলার দুৰ্ব্যেবহার সহ্য করতে না পেরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান চিঠি লিখে আত্মহত্যা করলেন, তার কি কোনো বিচার হোলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে পাড়ার মাস্তানরা পিটিয়ে মেরে ফেললো , তার কি কোনো বিচার হলো ? ঘরের মধ্যে ঢুকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো ,তার কিmuktijoddha002 কোনো বিচার হলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা পথে ঘটে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে যাচ্ছে , না খেয়ে না চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে  আমরা কি তার খবর রাখি ? অথচ ১৬ই ডিসেম্বরে আমরা আনন্দ উৎসব করি ,  ২৬শে মার্চ আমরা  সংসদ ভবনের সামনে বিশাল আয়জনে বিশাল অংকের অর্থের বাজেটে আলোকসজ্জা করি, বিভিন্ন শোভা সেমিনারে  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে বক্তৃতার তুবড়ী ছুটাই । কেন এই অসংগতি ? আজ স্বাধীনতার পক্ষের সরকার থাকার পরও কেন এই অসঙ্গতি দূর হচ্ছেনা ? এর কারণ কি ? যেখানে আমাদের বঙ্গবন্ধুর কন্যা তাদের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ।
চলুন অসংগতি গুলো খুঁজি ! ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পক্ষের প্রত্যেকটি বাঙ্গালীরই মুক্তিযুদ্ধে প্রতক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান রয়েছে !একজন দরিদ্র বৃদ্ধাও তার ক্ষেতের শেষ মুলো আর বেগুন তুলে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন । একজন ভিক্ষুক তার ভিক্ষা করা থলের ভিতর থেকে শেষ মুঠো চালটুকুও  মুক্তিদের খাবারের জন্য বের করে দিতে দ্বিধা করেননি ।এক গৃহস্থ স্বপরিবারে হত্যা হয়েছে শুধু মাত্র কজন  মুক্তি বাহিনীকে এক রাত আশ্রয় দেবার কারণে । এ ধরণের ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে ।কারণ তখন কিছু কুলাঙ্গার যুদ্ধপরাধী ছাড়া গোটা জাতিই ছিল এক মরণপণ যুদ্ধের মধ্যে । তাই এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা । তাহলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কারা ?
বঙ্গবন্ধুর  ৭ই মার্চের ভাষণে একটা অঘোষিত  গেরিলা যুদ্ধের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল । তিনি বলেছিলেন , “আমরা ওদের ভাতে মারবো , পানিতে মারবো ” এটি ছিল শত্রুপক্ষের খাদ্য পানি বা রসদ সরবরাহ বন্ধের একটা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল । তিনি বলেছিলেন , তোমাদের যার যাকিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে ,প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো ” এটা শত্রুপক্ষের উপর চারিদিক থেকে হিট এন্ড রান নামক গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অর্থাৎ শত্রুকে চারিদিক থেকে গোপন আক্রমণের মাধ্যমে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য করে ফেলা বা শত্রুর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা । অতঃপর তিনি এই যুদ্ধকে একটা জনযুদ্ধে পরিণত করতে সক্ষম হলেন যখন তিনি বললেন ,”রক্ত যখন দিতে শিখেছি তখন রক্ত আরো দেবো তবুও এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ !” এখানে ইনশাল্লাহ শব্দের ব্যবহারের মাদ্ধমে বঙ্গবন্ধু ধর্মপ্রাণ মানুষদের বোঝাতে সক্ষম হলেন যে তিনি এই যুদ্ধে সৃষ্টিকর্তার কাছেও সাহায্য চেয়েছেন অর্থাৎ তিনি ধর্মনিরপেক্ষ বটে তবে নাস্তিক নন যা ওই সময়ে পাকিস্তান শক্তি প্রচার করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ।পরিশেষে তিনি বললেন “আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটা কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধের ট্রেনিং শুরু করতে অর্থাৎ যুদ্ধ অবশ্যভাম্বি তার জন্য উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করা । এই উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনে  সেদিন যারা  ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারাই ছিল মুক্তিবাহিনী ।
পাঠক, আমি বোধহয় এখানে মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার মাঝের পার্থক্যটি একটু পরিষ্কার করতে পেরেছি । সেদিন এই মুক্তিবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল; ছাত্র ,শিক্ষক ,চাষী ,জেলে কামার ,কুমার ,রিক্সাওয়ালা, কুলি মজুর তথা বাংলার সর্বশ্রেণীর জনগণ যারা সরাসরি রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন স্বল্পমাত্রার ট্রেনিং নিয়েই তারা মরণপণ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন । এদের মধ্যে যারা রণাঙ্গণে মারা গেছেন তারাই আমাদের শহীদ আর যারা ফিরে এসেছিলেন তারা গাজী যাদেরকে আমি “বিজয়ী বীর ” বলে আখ্যায়িত করতে চাই । স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বা দেশের ভিতর বিভিন্নভাবে যে সব কণ্ঠশিল্পী তাদের সংগীত দিয়ে যুদ্ধ করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা বা কণ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা , যে সব বুদ্ধিজীবীরা দেশের ভিতর থেকে কলমের বা বুদ্ধির যুদ্ধ করেছেন তারাও অবশই মুক্তিযোদ্ধা ,বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা , দেশে ও প্রবাসে যে যেখানে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তারা সবাই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা । যদিও মুক্তির গান এর কণ্ঠ শিল্পীদের আমি একটু বেশি সম্মানের চোখেই দেখি কারণ তারা শুধু কলকাতার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেই নিজেদের  সীমাবদ্ধ না  রেখে সরাসরি  রণাঙ্গণে তাদের গানের দল নিয়ে ছুটে  বেরিয়েছিলেন,  সেটাই তাদের স্বকীয়তা ।
মোটকথা সেদিন যারা বেঙ্গল রেজিমেন্ট ,ই পি আর ,পুলিশ ,আনসার বাহিনী ছিলেন যারা পাকিস্তান বাহিনী থেকে বের হয়ে এসে দেশের জনতার এক কাতারে দাঁড়ালেন এবং বঙ্গবন্ধুর আহব্বান যারা যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিয়ে রণাঙ্গণে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তারাই মুক্তি বাহিনী তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । অথচ আমরা বা নতুন প্রজন্ম তাদের কয়জনকে চেনে ? যখনি মুক্তিযুদ্ধের কথা আসে আমরা বিভিন্ন মিডিয়াতে ঘুরে ফিরে অল্পকিছু চেনামুখ ই দেখতে পাই । তবে বাকি শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কোথায় গেলো ? যুদ্ধক্ষেত্রে জাতির হিরোদের নাম যখন আসে তখন আমরা মাত্র ৭ জনের ছবি দেখতে পাই যারা সবাই ছিলেন রেগুলার আর্মির সদস্য । অথচ সরকারি হিসাবে ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার (এফ এফ ) মুক্তিবাহিনীর মধ্যে ৭৫ হাজার ছিলেন রেগুলার আর্মি যারা জনতার কাতারে এসে দাঁড়ান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন  বাংলাদেশ সরকারের অনুগত সেনা বাহিনী হিসাবে প্রকাশ পায় যার সর্বাধিনায়ক ছিলেন জেনারেল ওসমানী যারা  বিভিন্ন  সেক্টরে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেন কিন্তু এর বাইরে ১ লক্ষ্য ছিলেন মুক্তিফৌজ যারা বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার আর্মির হাতে স্বল্পকালীন ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধের রণাঙ্গণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বা ট্রেনিং নিচ্ছিলেন , মোটকথা এরা সবাই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েই রণাঙ্গণে মৃত্যুর জন্যই তৈরী হচ্ছিলেন । এরাই মুক্তিবাহিনি , এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এরাই বিজয়ী বীর অর্থাৎ ১৯৭১ এ রণাঙ্গণের ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । এর বাইরে যারা তারা মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিবাহিনী নয় ।
তাই আমাদের উচিত সেই মুক্তিবাহিনীকে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের ঋণ শোধ করা । দেশের ওই ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রত্যেকের নাম একটা নামফলক থাকা উচিত যা শতবছর পর প্রজন্ম তাদের পূর্বপুরুষদের বীরগাথা জেনে এ দেশকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ হবে,নিজেদের আত্মসম্মান বাড়াবে যা তাদের পৃথিবীর বুকে সম্মানিত জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে চলতে শিখাবে । আজ দুঃখের সাথেই বলছি প্রায় ১২ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জনকে সঠিক মূল্যায়ন করা কি যায়না ?  তাদের মধ্যে আজ কজনই বা বেঁচে রয়েছেন ? আর যারা বেঁচে আছেন তারাই বা আর কটা বছর বেঁচে থাকবেন ?যারা আপনাকে দেশ দিলো,জাতির পরিচয়ের স্থায়ীত্ব দিলো,বর্বর পাকিস্তানী মৌলবাদী বাহিনী ও তাদের এদেশের কুলাঙ্গার দোসরদের  হাত থেকে মুক্ত করলো তাদের দায়িত্ব নিতে কি এই জাতি অক্ষম ? কেন মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা ,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তাদের নিশ্চিত নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন না তাদেরই অর্জন করা এই দেশে ? কেন মুক্তিবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাদের উপযুক্ত সন্মান নিয়ে প্রহসন চলবে ? উত্তর গুলো আপনারাই খুজুন । আমি শুধুই স্পষ্ট করেই বলতে চাই ১৯৭১ এর বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাঁপিয়ে পরা ওই ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তার বাইরে কেউ নয় ।
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু , জয় শেখ হাসিনা ,জয় হোক আমাদের সব বিজয়ী বীরদের !!!
আল আমিন বাবু
নিউইয়র্ক
১৬/১২/২০১৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here