লন্ডনে হাইকমিশনের বিজয় দিবস উদযাপন, উপেক্ষিত বঙ্গবন্ধু!

0
201

যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্যের লন্ডন হাইকমিশনের মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গববন্ধু ছিলেন উপেক্ষিত, আর এ নিয়ে ক্ষোভে প্রকাশ করছেন স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে উদযাপিত বাংলাদেশের ৪৫তম মহান বিজয় দিবস। ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় হাইকমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল কাওনাইন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর হাইকমিশন ভবনের হল রুমে দিবসটির তাৎপর্যের উপর অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা অনুষ্ঠান।

কিন্তু ব্যানারে কোথাও বঙ্গবন্ধু বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিলনা। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। প্রশ্ন তুলেছেন, নব নিযুক্ত হাই কমিশনারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা জামাল খানের একটি স্ট্যাটাস মূলত ভাইরাল হয়ে পড়ে।যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,সুলতান মোহাম্মদ শরীফ বলেন, একটি রাষ্ট্র কিভাবে চলে ধারনা না রেখে অযথা বিতর্ক সৃষ্টির কোন মানে নেই। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, হাইকমিশন সরকারী নির্দেশের বাইরে যাবে কিভাবে, একই ব্যানারে তো বিগত বছর ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে, তখন কেউ সমালোচনা করলো না, আর দেয়ালে তো পোট্রেট ছিল বঙ্গবন্ধুর।

বিজয় দিবসের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকার কারণ জানতে চাইলে হাইকমিশনের মিনিস্টার প্রেস নাদিম কাদির বলেন, ‘ইতিপূর্বে হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিলো না। স্বাধীনতা দিবস ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে ডিজাইন করে ব্যানার বানানো হয়। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার না করার অন্য কোনও এজেন্ডা নেই। সরকারের নির্দেশিত গাইডলাইন মেনেই অনুষ্ঠান, ব্যানার এসব করা হয়ে থাকে। এখানে কারো ব্যক্তিগত কিছু করার নেই। বিশ্বের বিভিন্ন হাইকমিশনে ছবি ব্যবহারের উদাহরণ দিলে, তিনি বলেন সেটা একান্তই তাদের বিষয়।

ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক জামাল খান বলেন, আমি খুব সহজভাবে বুঝি, যে মানুষের জন্য দেশ, আমাদের স্বাধীনতা, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর ছবি না থাকা আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে ব্যথিত করেছে। বিশ্বের অন্যান্য হাইকমিশনের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ব্যানারই দেখেছি আমি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনার শুরুতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারো দয়ায় আসেনি, রক্তের বিনিময়ে এসেছে আমাদের এই স্বাধীনতা। আন্তজাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধকালীন সময়ে কূটনৈতিক সাফল্যের কারণে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে খুব অল্প সময়ে।

হাইকমিশনার তার বক্তব্যের শুরুতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ও নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন, সেই সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরঙ্গনা ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে বসবাসরত বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙ্গালীদের অনন্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here