‘সংখ্যালঘুদের আন্দোলন দেশবিরোধী নয়’

0
224

ana-pic-1ড. সিদ্দিকুর রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছিলেন

বর্ণমালা নিউজ : বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অত্যাচার, নির্যাতনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহির্বিশ্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আন্দোলন কোনোভাবেই বাংলাদেশ সরকার বা দেশবিরোধী কোন আন্দোলন নয়। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের এবং দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন-ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এমন আন্দোলন করছি। গত ১৯ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি পার্টি সেন্টারে পূজা পুনর্মিলনী পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন পর্যায়ের সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্তের সভাপতিত্বে এবং মানবাধিকার কর্মী শিতাংশু গুহের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূজা পুনর্মিলনী পরিষদর সভাপতি শ্যামল কর এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ভজন সরকার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত বিশ্বাস, সুশীল সাহা, রবীন্দ্র সরকার, কুমার বাবুল সাহা, সুভাষ পাল, অভিনাষ আচার্য্য প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালেও আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে ছিলো। সেই আন্দোলনের সুফল তারাও ভোগ করেছিল। তখন যদি সংখ্যালঘুদের আন্দোলন দেশবিরোধী না হয়ে থাকে তাহলে এখন দেশবিরোধী হবে কেনো?
নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাতের যোগসজশের অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, । ’৯১/৯২ সালে খালেদা জিয়া নিউইয়র্ক এলে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি যখন প্রতিবাদ জানায় তখন তিনি খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। নিউইয়র্কে সফরে এসে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর দেয়া বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডটিও তিনি মিডিয়াকে সাল্পাই দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠান চলাকালে একজন সাংবাদিকের অনুষ্ঠানটি লাইভ প্রচারের সময়ে ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান একটি প্রশ্ন করলে তার জবাবে সিতাংশু গুহ, সিদ্দিকুর রহমানকে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতা অভিহিত করে তার সভাপতি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। সিতাংশু গুহ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগে‘র নয় জামাতের সুর পাওয়া যায়। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সন্্রতাসের মত ‘সংক্রালঘু নির্যাতন’-এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আশা করছি।
সভার সভাপতি নবেন্দু দত্ত বলেন, তার (সিদ্দিকুর রহমান) কাছে আমাদের দেশপ্রেম শিখতে হবে না, বরং তার কার্যক্রম দেখে আমাদের সন্দেহ তার দেশপ্রেম নিয়ে। তার মত ব্যক্তির আওয়ামী লীগের এতো বড় পদে থাকা উচিৎ না। তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সর্বত্র বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।
সুব্রত বিশ্বস বলেন, তিনি যা করতে চাচ্ছেন তাতে সফল হবেন না। বরং তিনিই ধ্বংস হয়ে যাবেন। সমগ্র হিন্দুদের সততা ও আনুগত্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এমন লোকের যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকার কোন নৈতিক অবস্থান নেই। আর দেশে ধর্মীয় সংঘালঘুদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ ও কর্মসূচী অব্যহত থাকবে।
প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সংখ্যক সাম্প্রদায়িক স্বার্থবাদী চক্র সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও সাঁওতালদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-উচ্ছেদ-জবরদখল এমনকি দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। দেশে ও প্রবাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সভা সমাবেশের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভপতি জনাব সিদ্দিকুর রহমান পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে এসব সমাবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংখ্যালঘুদের এ সমাবেশকে বাংলাদেশ বিরোধী কিছু সংখ্যক সংখ্যালঘুদের চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেছেন। একই সাথে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংখ্যালঘুদের আন্তরিকতা ও দেশাত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ আমরা লক্ষ্য করলাম, জনাব সিদ্দিকুর রহমান আওয়ামী লীগ এবং তার জনাকয়েক সহযোগী মিলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আমরা মনে করি সিদ্দিকুর রহমান সাহেব এই বিবৃতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এর পরিণতি ভয়াবহ হওয়া নিতান্ত স্বাভাবিক। আমরা চাই না কোন অশান্তি কিংবা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হোক। কিন্তু যদি কিছু ঘটে বা সৃষ্টি হয় তার জন্য জনাব সিদ্দিকুর রহমান ও তার সহযোগীরাই দায়ী থাকবেন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ থেকে অদ্যাবধি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি জানমাল ক্ষতির ভুক্তভোগী হয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। একইভাবে আওয়ামী লীগের ওপরও। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে। তখন দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আন্দোলনই জোট সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগও সে আন্দোলনের সুবিধা ভোগ করেছে। তখনকার সংখ্যালঘু আন্দোলন যদি দেশবিরোধী চক্রান্ত না হয়ে থাকে আজকের আন্দোলন জনাব সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টিতে দেশবিরোধী হয় কিভাবে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সরকারের মাঝে থেকে এক শ্রেণীর সাম্প্রদায়িক চক্র বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে সংখ্যালঘূদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনে লিপ্ত রয়েছে। সরকারও মাঝে মধ্যে এসব চক্রের চক্রান্তের কথা বলে থাকেন। তাই জনাব সিদ্দিকুর রহমান কোন দৃষ্টিতে আমাদের এ সমাবেশ দেশবিরোধী আখ্যায়িত করেন। আমাদের আশঙ্কা তিনিও ঐ চক্রের হয়ে প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছেন কিনা? কারণ অতীতে দলের অভ্যন্তর থেকেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। এমনকি প্রখ্যাত লেখক সাংবাদিক জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে মৌলবাদী চক্রের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করলেও জনাব সিদ্দিকুর রহমান তখন তার একটি গ্রুপ নিয়ে মৌলবাদীদের পক্ষাবলম্বন করতে দেখা গেছে। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক লেখালেখিও হয়েছে। ’৯১/৯২ সালে খালেদা জিয়া নিউইয়র্ক এলে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি যখন প্রতিবাদ জানায় তখন তিনি খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আরও অভিযোগ শোনা যায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠে তার রেকর্ডটিও তিনি মিডিয়াকে সাল্পাই দিয়েছিলেন। তৃতীয়ত ক্ষুদ্র একটি গ্রুপের চক্রান্ত বলে শিতাংশু গুহকে অভিযুক্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে বিভক্তির দোষারূপ দিয়ে এবং শিতাংশু গুহের সাথে ব্যক্তিগত কোন বিরোধ চরিতার্থ করতে তার এই অভিসন্ধি কি না তা নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। কারণ সমাবেশ এককভাবে শিতাংশু গুহের নেতৃত্বে কিংবা উদ্যোগে ছিল না। প্রত্যেকটি সমাবেশ সম্মিলিত পূজা পুনর্মিলনী পরিষদের নেতৃত্বে সকল সংখ্যালঘু এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে দেশে আদিবাসী, সাওতাল এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, উচ্ছেদ, জবরদখল এমনকি দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পাশপাশি মাঝে মধ্যে কিছু হৃদয় বিদারক ঘটনা সমগ্র জাতির বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অথচ এর প্রতিকার আমরা লক্ষ্য করি না। একের পর এক এসব ঘটনার কোন বিচার হয়না এবং হচ্ছেনা। সর্বশেষ ব্রাম্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর এবং গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর নৃশংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। নাসিরনগরের ঘটনা সরকার ও প্রশাসনের নজরে আসার পরও পর পর তিন তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ঘটনার ৪ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর সরকার ও সরকারী দলের প্রতিনিধি দেখতে গেছেন। চারদিন পর স্থানীয সাংসদ ও মৎসমন্ত্রী এলাকায় গেছেন। তাঁর যাওয়াতে অত্যাচারিত সংখ্যালঘুরা আশ^স্ত হয়েছিল। কিন্তু না, ’মালাউনের’ বাচ্চারা বাড়াবাড়ি করছে বলে তিনি ঘটনাকে আরো উস্কে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন সমগ্র দেশে সংখ্যালঘুরা শান্তিতেই আছেন। পুলিশ বলছে রসরাজ নির্দোষ অথচ আজও তাকে জেল খাটতে হচ্ছে। নি¤œস্তরের তিনজন দলীয় কর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়ে মূল অপরাধীদের ধরাছূঁয়ার বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি গোবিন্দগঞ্জেও অনুরূপ ঘটনা ঘটলো। কোন প্রকার আপস মিমাংশায় না গিয়ে নিরীহ সাঁওতালদের ওপর একাত্তরের কায়দায় আক্রমণ করা হলো। মুহূর্মুহু গুলি চালানো হয় নিরীহ নিরস্ত্র সাঁওতালদের ওপর। চারজন নিহত হন। আহত হন অনেকে। সাওতালদের অভিযোগ তাদের অনেকে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বেডের সাথে বেঁধে রেখে। সে অমানবিক বাঁধন মুক্ত করতে হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে। গরিব সাঁওতালদের দুই শতেরও ওপর ঘরবাড়ি জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়। দুই হাজারের ওপর সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও নিঃস্ব করে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হলো। ঘটনার সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশ জড়িতে বলে মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা কর্মী এবং টিভি ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। সাঁওতালরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। সর্বশেষ একটি টিভি ফুটেজে পুলিশই ঘরে আগুন দিয়েছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে মাননীয় হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা কত অমানবিক ও নৃশংস হলে দেশের প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে রেজিস্টারের নেতৃত্বে তাদেরকে সাহায্য পাঠাতে হয়। এগুলো হলো সাম্প্রতিক ঘটনা।
এবার আসুন অতীতের দিকে খানিকটা দৃষ্টি নিবন্ধ করি। ২০০১ সালে বিএনপি’র নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। সমগ্র দেশব্যাপী অবর্ণনীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি কমিশন ঘটনার তদন্ত করে। তদন্তের পর ২০ হাজার ঘটনা উঠে আসে। তার মধ্য থেকে কমিশন ৫ হাজার ঘটনা জরুরী ভিত্তিতে বিচারের সুপারিশ করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের দাবি সত্বেও আজ পর্যন্ত একটি ঘটনার বিচার হয়নি।
পিরোজপুর হাইস্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা সন্ধ্যা রাণীকে স্থানীয় ওসি ও সাম্প্রদাযিক গোষ্ঠী মিলে চাকরী থেকে অপসারিত করে। এখানেই ঘটনার শেষ হয়নি। এই ঘটনার সূত্র ধরে স্থানীয় পনেরোটি সংখ্যালঘু পরিবারকে অত্যাচার নির্যাতন করে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এই নৃশংস ঘটনা বার বার তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে অবহিত করে এলাকা পরিদর্শনের দাবি জানালেও তিনি দেখতে যানন্।ি পাবনার সাথিয়ার বনগ্রামে বাবুল ভৌমিকের বাড়ি সহ সমস্ত গ্রামে লুটপাট ও অত্যাচার করা হয়। কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জনাব এডভোকেট টুকু। তথাপি আজও তার বিচার হয়নি। ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকালে রাজশাহীর অভয়নগর ঋষিদের সম্প্রদায়ের সমস্ত গ্রাম জ¦ালিয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। আজও তার বিচার হয়নি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে লাথি মেরে গর্ভবতী মহিলার পেটের বাচ্ছা প্রসব হয়ে যায়। অসময়ে গর্ভপাতের ফলে বাচ্চাটিও মারা যায়। সে ঘটনার কোন বিচার হয়নি আজও। নবিগঞ্জে স্বামীকে বেধে মা মেয়েকে ধর্ষণ করার ঘটনারও বিচার হয়নি। নবীজী সম্পর্কে কটাক্ষ, ধর্ম ও কোরআনের অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে অসংখ্য সংখ্যালঘু শিক্ষকদের অত্যচার নির্যাতন ও চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী থানার হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলি ও গণিতের শিক্ষক কুমার ঘোষালের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুূভূতির অভিযোগ তুলে চাকুরীচ্যুত ও নিগৃহীত করা হয়। আজও তার বিচার হয়নি। নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক শ্যামলবাবুকে স্থানীয় সাংসদ কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ উঠে। দুঃখের বিষয় আজও তার বিচার হয়নি।
খুলনার একটি গ্রামের ৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে সমগ্র এলাকায় সাম্প্রদায়িক তুলকালাম কান্ড করা হয়। আজও তার বিচার হয়নি। রামুর ঘটনা দেশবিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আজও দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সপ্তাহ দুই আগে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের ৫০/৬০টি বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়েছে দখলের উদ্দেশ্যে। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলেছে।
সংবাদপত্রে বিচারহীনতার কথা ফুটে উঠছে প্রতিদিন। এবং এই বিচারহীনতার কারণেই বাংলাদেশে খুন-হত্যা-ধর্ষণ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো ঘটনার ধারাবাহিকতা বন্ধ হচ্ছে না। আমরাও মনে করি এই বিচার না হওয়া তথা বিচারহীনতার পরিণতিই বার বার সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে আসছে অত্যাচার নির্যাতন ও উচ্ছেদের ঘটনা। আমরা এবং দেশের সচেতন মানুষ বার বার বলে আসছেন একটি পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন করে বিচার নিশ্চিত করতে। অথচ তার কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। তারই সর্বশেষ ঘটনা ও পরিণতি নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জ। এ দু’জায়গায়ও আমরা লক্ষ্য করলাম বিচারের বাণী নিভৃতে আটকে যাচ্ছে। প্রতি ঘটনায় কিছু নিরীহ লোক ধরা পড়ে তবে ঢালাও ভাবে আসামী করে আতঙ্কের সৃষ্টির মাধ্যমে ঘটনা চাপা পড়ে যায়। নাসিরনগর ও গোবিন্দগজ্ঞেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতে দেখা গেল। তারই প্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা মনে করি আমাদের এ সমাবেশ কোন ভাবে দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। কারণ আমরাও এদেশের নাগরিক। সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই আমাদের এ আন্দোলন সমাবেশ। তাই আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ দেশের বিরুদ্ধে না দেশের দশের সকলের স্বার্থে শান্তি-শৃঙ্খলার প্রয়োজনে এ বিচারের ভার বন্ধুগণ আপনারদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।
পরিশেষে আমরা লক্ষ্য করছি ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে আমাদের সমাবেশে সাফাদি মেহেন্দি নামের জনৈক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে আমাদের সমাবেশকে জড়িয়ে নানা কল্পকাহিনীর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার সৃষ্টির অপচেষ্টা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই আমাদের সাথে ঐ নামীয় কোন ব্যক্তির সম্পর্ক নেই। আমাদের সমাবেশে তাকে আমন্ত্রণ কিংবা আবাহনও করা হয়নি। আমাদের আন্দোলনে তার কোন প্রয়োজনও নেই। আমাদের সমাবেশের শেষে এই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়। চলে যাবার সময় উপস্থিতদের কয়েকজনের সাথে সে ছবি উঠায়। সে ছবি পত্রপত্রিকায় দিয়ে আমাদেরকে অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা হচ্ছে। আমাদের এ প্রতিবাদের পর আশা করবো সংশ্লিষ্টরা আমাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here