আর্ত-মানবতার সেবায় প্রবাসী সমাজকর্মী মোর্শেদা জামান

0
226

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : জামালপুরের শীতার্ত মানুষদের মধ্যে কম্বলসহ শীত বস্ত্র এবং গরিব পরিবারের স্কুলগামী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করলো নিউইয়র্কের সমাজকর্মী মোর্শেদা জামান। ‘মোর্শেদা ফাউন্ডেশন’র ব্যানারে গত ১৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয় দিবসের আগের দিন হাজারো নারী-পুরুষের মধ্যে এসব সামগ্রি বিতরণের পর গরিবের চেয়েও গরিব পরিবারের স্কুলগামী সন্তানদের মধ্যে বই-পত্র ক্রয়ের জন্যে নগদ অর্থও বিতরণ করা হয়। অন্তত: ৭০ জন মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির বয়রা এলাকার সন্তান মোর্শেদা জামান-এর মহতি কার্যক্রমে সহায়তা করেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে বয়রা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানুষের ঢল নামে। নিউইয়র্কে ফিরে ২৪ ডিসেম্বর এলাকার দুখি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিস্তারিত প্রত্যাশার কথা এ সংবাদদাতার কাছে ব্যক্ত করেন আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখা, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ও জামালপুর জেলা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদা জামান। তিনি বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাওলানা নূরল ইসলাম।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এডভোকেট মোর্শেদা জামানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর মতো এই সমাজের আরও মানুষ যদি এমন নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন তাহলে গরিব মানুষদের দুর্গতি কমে যাবে খুব দ্রুত।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল গনি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজকর্মী ডা. আ. ফ. ম. শাহানশাহ্। অতিথিরা দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের হাতে শীতবস্ত্র আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় সত্তরজন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন। এছাড়া, তিনটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, দু’টি মসজিদ ও একটি এতিমখানার প্রতিনিধি এবং কয়েকজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার হাতে তুলে দেয়া হয় অনুদানের চেক।

ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন প্রবাসী জানান, ‘শীতের শুরুতেই অপ্রত্যাশিতভাবে কম্বলসহ শীতবস্ত্র পাওয়া মানুষেরা প্রাণভরে দোয়া করেন মোর্শেদা জামানের জন্য। শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় সবার অভিভাবকই ক্ষুদ্র বা বর্গাচাষী অথবা দিন-মজুর। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনার খরচ যোগাড় করতে হয়। অনেকে নিজেই কাজ করে যোগাড় করে পড়াশোনার খরচ। তারা জানায়, এই শিক্ষাবৃত্তি তাদের অনুপ্রাণিত করবে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য।

তার এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এডভোকেট মোর্শেদা জামান বলেন, ‘ফেলে আসা পাড়া-প্রতিবেশী সমাজের প্রতি আমাদের সবারই দায়িত্ব আছে। প্রধানমন্ত্রী-বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে। দারিদ্র কমছে সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে। তবে, সরকারের পক্ষেও রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলা বা সমস্ত দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় একই সময়ে সাহায্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা দরকার; দরকার নিজের সাধ্যমত দরিদ্র মানুষের সেবায় হাত বাড়িয়ে দেয়া। আমি সেই সমাজের একজন হিসেবে সেটাই করার চেষ্টা করছি। আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এই মানুষদের জন্যে যদি একটুখানি কাজে লাগে, তাহলেই নিজেকে ধন্য মনে করবো।’

মোর্শেদা জামান তাঁর এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বাড়াতে চান। নিজ এলাকার মানুষের জন্য গড়ে তুলতে চান হাসপাতাল, যেখানে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবে দরিদ্র মানুষেরা। আর তাঁর এসবকিছুর বিনিময়ে তিনি কেবলই প্রত্যাশা করেন সাধারণ মানুষের দোয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here