চিনে নেওয়া যাক ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের

0
191

182135trump_family_kalerkantho_picআন্তর্জাতিক ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট শপথ নিলেই হেলিকপ্টারে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে ওবামা পরিবার। তাঁদের জায়গায় হোয়াইট হাউসে পা রাখবেন নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার। সেই নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাব ও বিদ্বেষ ভরা মন্তব্যের সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। তাঁর পরিবারকে নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। হোয়াইট হাউসের অন্দরে তাঁদের আধিপত্যের কথা ভেবে এখন থেকেই আতঙ্কে মার্কিনবাসী। বিলিয়নেয়ার পরিবারের সকলেই কি এক ধাতুতে গড়া?‌ নাকি উপরি চাকচিক্যের নীচে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই?‌ ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের এক ঝলকে চিনে নিন।

মেলানিয়া ট্রাম্প:‌ পূর্ব ইউরোপের স্লোভেনিয়ায় জন্ম মেলাঞ্জিয়া নাভ্সের। পরবর্তীকালে নাম বদলে মেলানিয়া। মডেল হিসেবে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে কাজের ভিসা পাওয়ার আগে অভিবাসী হিসেবেই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিলেন মেলানিয়া। নিউ ইয়র্কে একটি ফ্যাশন শোয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলাপ। এ বছর ২২ জানুয়ারি তাঁদের ১২তম বিবাহ বার্ষিকী। ট্রাম্পের সরকারে তাঁর বিশেষ ভূমিকা থাকছে না। ১০ বছরের ছেলে ব্যারনের পড়াশোনার জন্য আপাতত নিউ ইয়র্কেই থাকবেন। ফার্স্ট লেডি হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্থার বিরুদ্ধে বিশেষ পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক তিনি।

ডোনাল্ড জন ট্রাম্প জুনিয়র:‌ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ইভানা ট্রাম্পের সন্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে। স্ত্রী প্রাক্তন মডেল বেনেসা কে হেডন। তাঁদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। বাবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনিই ‘‌ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’‌ এর হর্তাকর্তা হবেন। তাঁকে সাহায্য করবেন ছোট ভাই এরিক ট্রাম্প। আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে ইচ্ছুক। তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় সিরিয়ার শরণার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনায় পড়েছিলেন। শিকারে যেতে ভালবাসেন।

এরিক ট্রাম্প:‌ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পক্ষের সন্তান। স্ত্রী টেলিভিশন প্রযোজক লারা ইউনাস্কা। দাদার সঙ্গে ‘‌ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’‌ এর কাজকর্ম দেখভাল করেন। রাজনীতিতে মন বসে না। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের জন্য দাতব্য সংস্থা চালান বলে দাবি করেছেন। তবে বাস্তবে আতর হদিশ মেলেনি। দাদার মতোই শিকারের শখ আছে।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প:‌ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পক্ষের সন্তান। এককালে মডেলিং করলেও ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনারকে বিয়ের পর ঘর–সংসারে মন দিয়েছেন। স্বামীর মতো তিনিও ইহুদি ধর্মাবলম্বী। ফ্যাশন জগতের প্রতি টান রয়েছে। টেলিভিশন অনু্ষ্ঠান ‘‌দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ এ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এছাড়া ট্রাম্প সংগঠনের নতুন হোটেলের দেখভাল করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনিই আসলে ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করবেন বলে জল্পনা। তবে তা মানতে নারাজ ইভাঙ্কা।

জ্যারেড কুশনার:‌ জোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কার স্বামী। নিউ জার্সিতে জন্ম হলেও এককালে হিটলারের গণহত্যার শিকার হয়েছিল তাঁর পরিবার। হার্ভার্ড এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। কর ফাঁকির দায়ে বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর কুশনারই পারিবারিক আবাসন ব্যবসা সামলান। ‘‌নিউ ইয়র্ক অবজার্ভার’‌ নামের একটি খবরের কাগজও চালান তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা নিয়োগ হওয়ার পর এখন সে সব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চান। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

মারলা অ্যান ম্যাপল্স:‌ ৫৩ বছর বয়সী ম্যাপল্স ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় স্ত্রী। এককালে মডেল ও অভিনেত্রী ছিলেন। এখন গান লেখেন। ট্রাম্পের সরকারে তার কোনও ভূমিকা নেই।

টিফানি ট্রাম্প:‌ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে। বয়স ২৩। কলেজ পেরিয়ে সবে ইউনিভার্সিটিতে পা রেখেছেন। রাজনীতিতে আসতে চান না টিফানি। ‌
সূত্র: আজকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here