যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

0
58

105703TRUMP_BIKKHOVআন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দরে গতকাল রবিবার হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মুসলিমপ্রধান সাত দেশের ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

তারা ট্রাম্পকে ধিক্কার জানিয়ে শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও বোস্টনে স্থানীয় সময় গত শনিবার থেকে বিক্ষোভ চলছে। বিমানবন্দরে এসব দেশের ভিসাধারী শতাধিক নাগরিক বা শরণার্থীকে আটকে রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিক্ষোভ হয়।

স্থানীয় সময় গতকাল ম্যানহাটনের ব্যাটারি পার্কে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছেও বিক্ষোভ হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি ম্যানহাটনে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস এবং সীমান্তরক্ষা কার্যালয়ের (বর্ডার প্রোটেকশন অফিস) দিকে যায়।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে লাফায়েত স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ঘৃণা নয়, ভয় নয়, শরণার্থীদের এখানে স্বাগত’ বলে স্লোগান দেয়। এর আগে শনিবার ওয়াশিংটনে শতাধিক নারী ট্রাম্পের এই আদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে।

গতকাল আট হাজার বিক্ষোভকারী হোয়াইট হাউস থেকে পেনসিলভানিয়া এভিনিউয়ের দিকে যায়। সেখানে তারা ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ‘শেম শেম শেম’ বলে ধিক্কার দেয়।

কানাডীয় দূতাবাস পার হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা বলতে থাকে, ‘যদি ট্রুডো আমাদের নেতা হতেন!’ শনিবার টুইটার বার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শরণার্থীদের সে দেশে স্বাগত জানান।

গত শুক্রবার পেন্টাগনে এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সিরিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও সুদানের নাগরিক ও শরণার্থীদের ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ সময় এসব দেশের নাগরিকেরা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে না। ৯০ দিনের পরও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিরিয়ায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এর পাশাপাশি ১২০ দিন পর্যন্ত সব শরণার্থীকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প।

সমালোচনার ও বিক্ষোভের মুখেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ট্রাম্প। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটা মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। গণমাধ্যম মিথ্যে খবর পরিবেশন করছে। তিনি বলেন, এটা ধর্মের ব্যাপার নয়। সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে এবং দেশকে নিরাপদে রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here