সৌদি আরবে মানসম্পন্ন কর্মী পাঠানো বিষয়ে রিয়াদে দূতাবাসের সেমিনার

0
86

DCIM100MEDIAসৌদি আরব : সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে মানসম্পন্ন কর্মী পাঠানোর বাস্তবমুখী পরামর্শ বিবেচনায় গতকাল রিয়াদের শেরাটন হোটেলে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আয়োজন করে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমউইং। প্রায় ৪৭টি সৌদি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানসম্পন্ন কর্মী পাঠানোর পরামর্শ দেয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য এবং সঞ্চালনা করেন শ্রম-কাউন্সেলর সারোয়ার আলম। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ তাঁর প্রবর্তণ বক্তব্য দিতে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশি অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে, বিদেশে অবস্থানরত অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তোলার জন্য রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামসহ বিভিন্ন প্রদেশে সরকারি খরচে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে দেওয়া।

আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এ দেশে বাংলাদেশি অদক্ষ কর্মীদের সংখ্যানুপাত কমিয়ে আনার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ খুব শিগগির কার্যকর করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের অদক্ষ কর্মীদের ওইসব দেশের সরকারি পর্যায়ে এখনো এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এমনটি দেখা যায়নি। এদিক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর হলে, শ্রম রিক্রুটিং এর ক্ষেত্রে তা মাইল ফলক হয়ে উঠবে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সৌদি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের কাছে মানসম্পন্ন বাংলাদেশি কর্মী আনার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে খোলামেলা পরামর্শ চান। সেমিনারে জনশক্তি উন্নয়নের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১১ সদস্যের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলসহ জনশক্তি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান বায়রা’র সভাপতি বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

দলটির নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বদরুল আরেফিন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর-প্রধান নিরুপম দেবনাথ, জনশক্তি রপ্তানী ব্যুরো, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ (বিএমইটি) পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. নুরুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আক্তার হোসেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের (এনএসডিসি) উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিঃ (বোয়েসেল) এর উপ মহাব্যবস্থাপক মো. আরিফুল হক, রপ্তানী ব্যুরোর স্টেনোগ্রাফার এমএইচ বশির আহমেদ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্তকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সেমিনারে বক্তারা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ঢাকায় অবস্থিত গালফ দেশগুলিতে কর্মী পাঠানোর জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল কেন্দ্রগুলির (গামকা) স্বাস্থ্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট, মৃতব্যক্তিদের দ্রুত দেশে পাঠানো, দ্রুত সময়ে কর্মী প্রেরণ, অভিবাসন ব্যায় কমানো, দক্ষতার সার্টিফিকেট প্রমাণীকরণে ওয়েবসাইট প্রণয়ন, দুই দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্বায়ক সম্পর্ক বৃদ্ধিকরণ, নির্ধারিত কাজে উপযুক্ত কর্মী প্রেরণ, বাংলাদেশে গালফ অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার (গামকা) থেকে বিদেশগামী কর্মীদের অসম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেন। বিশেষ করে ঢাকা থেকে কর্মীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা বিলম্বিত করাসহ সার্টিফিকেটগুলি ত্রুটিপূর্ণ থাকে এমন অভিযোগ করেন তারা। অনেকে বলেন, সৌদি আরবে আসার পর পুনরায় স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর এমন অনেক কর্মীর মারাত্মক রোগ ধরা পড়ে।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বিষয়গুলি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন উল্লেখ করে গামকাভূক্ত তিনটি মেডিক্যাল সেন্টারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে জানান। তিনি মৃতব্যক্তিদের দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসে আরো অধিক জনবল নিয়োগসহ দ্রুত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপে গত দুই বছরে অন্তত ৫০% উন্নয়ন হয়েছে এমন তথ্য দেন। বিষয়টি আগামী এক বছরে ১০০% নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যায় গত ৬ মাসে দূতাবাস ও সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তুলনামূলকভাবে কমেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এটি আগামীতে অনেক কমে আসবে।

সেমিনারে বোয়েসেল, এনএসডিসি ও বিএমইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিদেশে কর্মী প্রেরণ, বিভিন্ন মানের দক্ষ কারীগর তৈরির প্রশিক্ষণ এবং সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নানা দিক নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, গত চার বছরে সরকারের নানা রকম বাস্তবমুখি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের এখন আর আগের মতো বদনাম নেই। দক্ষ কর্মী তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক চেষ্টার কারণে আগামী দিনে জনশক্তি রপ্তানীর জন্য আমাদের আর বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিতে হবে না বরং তারাই আমাদের দেশে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here