আমেরিকা জুড়ে অপরাধে অভিযুক্ত অবৈধদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে

0
159

image87বর্ণমালা ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমেরিকা জুড়ে অভিবাসী সমাজ এবং মুসলিম কম্যুনিটি আতঙ্কিত। আর এই আতঙ্কের জন্ম দিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলিম এবং অভিবাসীবিরোধী যে সব কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছিলেন- সেই সব কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ৭টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাহী আদেশ জারী করেন তিনি। এমন কি সেই সব দেশের গ্রীনকার্ডধারী ও আমেরিকার পাসপোর্টধারীরাও আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না। এই নিয়ে নিউইয়র্কসহ যে সব এয়ারপোর্টে এই সাতটি দেশের নাগরিকদের ডিপোর্ট করা হচ্ছিলো সেই সব এয়ারপোর্টেই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে আমেরিকার বিভিন্ন ফেডারেল কোর্টের রায়ের ফলে প্রেসিডেন্টের সেই আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট তার আদেশ স্থগিতে আদালতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং উচ্চ আদালতে যাবার হুঙ্কার প্রদান করেন। ঐ নির্বাহী আদেশ আদালত কর্তৃক স্থগিত হবার ফলে নতুন করে আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সেই নির্বাহী আদেশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে জােিয়ছেন ট্রাম্প। কোর্টের রায়ের ফলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও বেকায়দায় পড়েছে। প্রথমে আমেরিকার সিকিউরিটির কথা বলে আদালতের রায় উপেক্ষার চেষ্টা করলেও এখন বাধ্য হচ্ছে আদাতলের রায় মেনে নিতে। বাতিলকৃত প্রায় ১ লাখ ভিসা আবারো চালু করা হয়। পুনরায় বিমানে তাদের ভ্রমণ শুরু হয়। আদালত কর্তৃক স্থগিত হবার পর মুসলিম ও ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটিতে স্বস্তি ফিরে এলেও আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আদালদের রায়ের ফলে কম্যুনিটিতে স্বস্তি এলেও নতুন করে আবার আতঙ্ক শুরু হয়েছে। আর এই আতঙ্কের নাম হচ্ছে অবৈধদের গ্রেফতার আতঙ্ক। হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান আমেরিকায় প্রায় ৩ মিলিয়ন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট রয়েছেন, যারা বিভিন্ন অপরাধ করেছেন- তাদের যেন গ্রেফতার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিভিন্ন সূত্রে জাসনা গেছে, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্টেট থেকে প্রায় ১ হাজার এমন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সব অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভিন্ন স্টেটে সাড়শি অভিযান চালিয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করেছে। অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে জানা গেছে। অভিযান চালানো হয়েছে বাসাবাড়িতে এবং কর্মস্থলে। এই অভিযানের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন স্টেটে আন্দোলনও শুরু হয়েছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সূত্রে জানা যায়, তারা ৩ মিলিয়ন ক্রিমিনাল অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ধরতে বদ্ধপরিকর। এই গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে বাংলাদেশী কম্যুনিটির মধ্যেও ভীতি কাজ করছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক এবং অন্যান্য স্টেট থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই কানাডায় পাড়ি জমাচ্ছেন। আবার অমেরিকার অনেক স্টেট থেকে অনেকেই নিউইয়র্ক নিরাপদ মনে করে এখানেই আসছেন। অন্যান্য স্টেটে থাকা এখন তারা নিরাপদ মনে করছেন না তারা। তাদের মতে নিউইয়র্ক সিটির গভর্নর এন্ড্রু কুমো এবং মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ইমিগ্র্যান্টদের পক্ষে রয়েছেন। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে অনেকটা যুদ্ধই ঘোষণা করেছেন। যে কারণে মানুষ নিউইয়র্ক আসছে। অন্যদিকে বিভিন্ন আইনজীবীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, প্রথম কাজটি হচ্ছে, যারা যে ঠিকানায় রয়েছেন সেই ঠিকানা পরিবর্তন করা। যাতে করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির লোকজন আসলে আপনাকে খুঁজে না পায়। একই বাসায় থাকলে নিজের বিপদ নিজের ডেকে আনা হবে। কারণ এই ঠিকানা কোন না কোনভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে রয়েছে। দ্বিতীয় এমন কোন কাজ না করা যাতে করে পুলিশ ডাকাডাকির ঘটনা ঘটে এবং আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে। তারা বলেন, যে কোন ক্রাইমের জন্য এখন আপনাকে গ্রেফতার এবং ডিপোর্ট করতে পারে। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রিমিনালের কথা বলে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অনেকেই ছিলেন সাধারণ ইমিগ্র্যান্ট। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ ছিলো না। এমন কি জাজমেন্টও ছিলো না। তারপরেও তাদের গ্রেফতার করে ডিপোর্ট করা হচ্ছে। জানা গেছে, পুরানো ঠিকানাতেই তাদের পাওয়া গিয়েছিলো। আইনজীবীরা আরো বলেন, কোন কারণেই যেন মারপিটের ঘটনার সাথে না জড়ান। আবার সেখানে মারামারি বা গন্ডোগল হচ্ছে সেখানে না থাকা বা গন্ডগোল দেখলে চলে যাওয়া। তারা বলেন, যারা কোন অপরাধ করেননি, এখনো কাজগপত্র নেই। তাদের কোন না কোনভাবে প্রসেসের মধ্যে চলে যাওয়া। এ সব বিষয়ে তারা যে কোন ভাল আইনজীবীর সাথে আলাপ- আলোচনা করতে পারেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে ব্যক্তিগত কোন ইনফরমেশন দেয়া উচিত নয়। তারা বলেন, অনেক সহজ সরল বাংলাদেশী রয়েছেন যারা অকপটেই অন্যকে বলে দেন, তার কাগজপত্র না থাকার কথা। আবার অনেকেই রয়েছেন প্রতিহিংসার কারণে নিজের স্বার্থে অন্যের ক্ষতি করার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে বলে দেন যে কোথায় অবৈধ ইমিগ্র্যান্টস রয়েছেন।

আইনজীবীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবারই সতর্কভাবে চলা উচিত। এদিকে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি থেকেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ৪১ জন অবৈধ ইমিগ্রেন্টকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে। যার মধ্যে ৩৪ জনের ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here