স্মরনসভায় রাবি এলামনাইয়ের উদ্যোগ ড. জোহা শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা  

0
186

Rabi pic00001বর্ণমালা ডেস্ক ঃ ১৯৬৯ সাল। উত্তাল বাংলা। ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানী পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান। ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের মধ্যে বিশেষ আদালত এলাকায় হত্যা করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে। এ দুই হত্যায় চারদিকে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে ১৮ ফেব্রয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্র ছাত্র-ছাত্রী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কাজলা গেটে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সে মিছিলে গুলি করতে প্রস্তুতি নেয়। এই সময় ড. জোহা নিজের রীডার পরিচয় দিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বর্বররা তাকে গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর বর্বররা এই প্রথম কোনো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করলো। ইতিহাস ড. শামসুজ্জোহাকে বরণ করে নিলো দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৮ ফেব্রুয়ারি তাই বিশেষ তাৎপর্যমন্ডিত একটি দিন। তাঁর রক্তে মতিহারের সবুজ চত্ত্বর হয়েছিল লাল আর তাঁর রক্তদান বাংলার স্বাধীনতাকে করেছিল ত্বরান্বিত। পৃথিবীর ইতিহাসে ঘাতকের হাত থেকে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে কোন শিক্ষকের জীবনদান পূর্ব দৃষ্টান্তরহিত এক অনন্য উদাহরণ। সেই দিনটিকে বাংলাদেশব্যাপী শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের দাবি নিয়ে প্রতিবছরRabi pic00002ই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আসছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন (রুয়া), ইউএসএ ইন্ক। এবারও সেই একই দাবি এবং সেই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. জোহা শিক্ষা বৃত্তি প্রবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে প্রিয় শিক্ষক ড. জোহার শাহাদাত বরণের দিনটিকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটসের মেজবান রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাব্বি এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির বিপ্লব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত জিএস এবং প্রাক্তন কূটনীতিক আব্দুর রাজ্জাক খান, ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক জাকিয়া খান, ডা. মঞ্জুরুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, উপদেষ্টা ঢাকার নটরডেম কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, উপদেষ্টা আব্দুল মালেক ও বস্টন থেকে আগত উপদেষ্টা শাহীন খান এবং কার্যকরি সদস্য লুৎফুন নাহার লতা। কোরান তেলাওয়াত করেন উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ।  বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে এবারই প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ড. জোহার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও গণহত্যা প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের সভাপতি একে আজাদ তালুকদার, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ। অনুষ্ঠানে লোক সমাগণ ছিল আশাতীত এবং প্রত্যেকের মধ্যেই একটি ব্যতিক্রমী উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায় ড. জোহা শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ প্রশ্নে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তহবিল সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেন। শহীদ ড. জোহার প্রতি সরকারী অবহেলায় সকলের মধ্যে একটি চাপা ক্ষোভও লক্ষ করা যায়।

বক্তাদের মধ্যেও একটা উষ্মার প্রকাশ ঘটে ড. জোহার জীবন দানের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার বিরুদ্ধে।  কোরআন তেলাওয়াত, বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত এবং শহীদ ড. জোহা, ভাষা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনদানকারী শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভার প্রথমেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্মরণসভার আহ্বায়ক মোল্লা এম এ মাসুদ। সদস্য সচিব মুন্সি আহাদ জামান বৃত্তি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। অতিথিসহ অন্যান্য বক্তারা শহীদ ড. শামসুজ্জোহাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের এ উদ্যোগ সাহসী ও প্রশংসনীয়। মহৎ এ উদ্যোগকে সফলে কমিউনিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। অতিথি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুজাহিদ আনসারী, শাহনাজ মমতাজ, নুরুন নাহার গিনি, আবুল কালাম আজাদ, সুজা খান, খাদেমুল হক প্রমুখ। ড. জোহাকে স্মরণীয় করে রাখতে এলামনাইয়ের সহ সভাপতি আহম্মদ হোসেন বাবুর সম্পদনায় প্রকাশিত হয় ম্যাগাজিন ‘পথিকৃৎ’। চমৎকার এ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। মোড়ক উন্মোচনের এ পর্ব পরিচালনা করেন আহমেদ হোসেন বাবু। ম্যাগাজিন থেকে নিজের লেখা পাঠ করে শুনান তোফাজ্জল লিটন। সংগঠনের উপদেষ্টা আকলিমা চৌধুরী রানার ছেলে নতুন প্রজন্মের আলভান চৌধুরী বাংলায় কবিতা আবৃত্তি করেন।

নৈশাভোজের আগে সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তাকে সহযোগিতা করার জন্য। কমিউনিটির নানা পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুল হক জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন বাচ্চু, সাইদুর রহমান বেনু, আহসান উল্লাহ ফিলিপ, নির্বাহী কমিটির আব্দুদ দাইয়ান পান্নান, রফিকুল চৌধুরী ডলার, সফি আনসারী, শাহীন আকতার কেয়া প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here